মঞ্চে তখন চলছিল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। রানার্সআপ ট্রফিটা হাতে ধরা মামুনুলকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ হেরেছে। তবুও ভাঙা হাটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল হাজার খানেক দর্শক। আবাহনী গ্যালারিতে দাঁড়ানো আনোয়ার হোসেন পুরস্কার দেওয়াটা বেশ মনোযোগ দিয়েই দেখছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের এই চাকরিজীবী ঘরোয়া ফুটবলও নিয়মিত দেখেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এসে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের খেলা দেখে একটুও হতাশ নন তিনি, ‘আমি ওদের খেলা দেখে খুব খুশি। আমরা আসলে হারিনি। আমরাই জিতেছি।’ পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ফিরে আসা দলের লড়াকু মনোভাব খুবই ভালো লেগেছে তাঁর, ‘ওরা যেভাবে ম্যাচে ফিরেছে, তা সত্যি অসাধারণ। আমরা আসলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরেছি।’
উত্তর বাড্ডার জাকির হাওলাদার এই হারের জন্য জাহিদ আর হেমন্তের অনুপস্থিতিকেই বড় কারণ বললেন, ‘হেমন্তকে খেলতে দেখলাম না ম্যাচে। আর জাহিদ তো ৭ মিনিটেই উঠে যেতে বাধ্য হলো। ওঁরাই আমাদের আক্রমণভাগের বড় ভরসা। আমি শতভাগ নিশ্চিত ওরা খেললে বাংলাদেশই জিতত।’ মোহাম্মদপুরে রাসেল ২৫ বছর ধরে ফুটবল দেখতে মাঠে আসেন। কাল এই ম্যাচের পর মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেষ গোলটার জন্য গোলকিপার সোহেলকে দুষলেন তিনি, ‘সে আসলে বলের ফ্লাইটই বুঝতে পারেনি। চাইলে বলটা চেষ্টা করে ফিস্ট করতে পারত।’
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সাফল্যের দিনেও ছিল গ্যালারি উপচে পড়া দর্শক। কালও যেন বাঁধ মানছিল না দর্শকের। ম্যাচ শুরুর আধঘণ্টা পরও হুড়মুড়িয়ে দর্শক ঢুকে ভুভুজেলা, ঢোল, ড্রাম বাজিয়ে আনন্দ করেছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পতাকা আর টুপি বিক্রেতাদের সঙ্গে টিকিট কালোবাজারিরা ছিলেন মহা আনন্দে। শেষ পর্যন্ত সেই আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। তবে এখান থেকেই আশা খুঁজলেন চট্টগ্রাম থেকে আসা মর্জিনা বেগম, ‘এই বাংলাদেশ দলের খেলা দেখব বলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছি। মামুনুলদের খেলা দেখে আমাদের মন ভরে গেছে।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন