default-image
>রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর সংক্ষিপ্ত নামের ‘এ’ অক্ষরের উপস্থিতি অনেকেরই নজর কেড়েছে। কারণ, দেশটির ইংরেজি বানানে ‘এ’ নেই।

যেকোনো খেলাতেই দৃশ্যটা বেশি করে চোখে পড়ে। টিভি পর্দা কিংবা মাঠের স্কোরলাইনে দেখা যায় দলগুলোর সংক্ষিপ্ত নাম। বিশ্বকাপ ফুটবলে মরক্কো যেদিন প্রথম মাঠে নামল, সেদিন একটা ব্যাপার অনেকেরই দৃষ্টিতে আকর্ষণ করেছে। স্কোরলাইনে ইংরেজিতে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম ছিল ‘এমএআর’। তাতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ, মরক্কোর ইংরেজি বানানে ‘এ’ অক্ষরটা নেই। তাহলে ‘এ’ কোত্থেকে এল?

যেকোনো অফিশিয়াল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশকে তিন অক্ষরের বিশেষ সংক্ষিপ্ত নাম ঠিক করে দেয় ফিফা। ম্যাচের সময় এই নামগুলো ব্যবহার করা হয়। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে যেমন ‘বিআরএ’; আর্জেন্টিনার জন্য ‘এআরজি’ কিংবা ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ‘ইএনজি’ ব্যবহার করা হয়। তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে। স্কোরলাইনে সৌদি আরবের নাম যেমন ‘কেএসএ’। দেশটির পুরো নাম কিংডম অব সৌদি আরবের সংক্ষিপ্ত রূপ। স্পেনের নাম দেখা যায় ‘ইএসপি’—এটা স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় দেশটির নাম যথাক্রমে এসপানা ও এসপানেকে ধারণ করে।

মরক্কোর সংক্ষিপ্ত নামে ‘এ’ আসার কারণটা আসলে ঔপনিবেশিক কারণে। ফরাসি ভাষায় দেশটির পরিচিতি ‘এমএআরওসি’ অর্থাৎ ‘মারোক’ নামে। আঠারো শতকে মরক্কো ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৫৬ সালে দেশটি স্বাধীনতা পেলেও সেখানে ফরাসি ভাষার প্রভাব কমেনি। এই ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস থাকার জন্যই রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর সংক্ষিপ্ত নামে ‘এ’ জুড়ে দিয়েছে ফিফা।

আইসল্যান্ডের সংক্ষিপ্ত নামেও ব্যতিক্রম ধরা পড়েছে অনেকের চোখে। এমনিতে ইংরেজিতে দেশটির বানান ‘আইসিইএলএএনডি’। কিন্তু ফরাসি ভাষায় সেই একই দেশের নাম ‘আইএসএলএএনডিই’। আর তাই রাশিয়া বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড নামের সংক্ষিপ্তভাবে ‘এস’ শব্দটা ফিফা জুড়ে দিয়েছে—‘আইএসএল’। যদিও আইসল্যান্ড কখনোই ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল না।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন