বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তবে ২০১২ সালের আগস্টে বাফুফের এক নির্বাহী আদেশে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাদের মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা টেকেনি বছরখানেকও।

এরপর বিষয়টি নিয়ে আর কেউ উচ্চবাচ্য করেনি। তবে পুরোনো সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। সদ্য সমাপ্ত ফেডারেশন কাপে রেফারিং নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে তিনি দুটি দাবি করেছেন। এক, লিগে বিদেশি রেফারি আনতে হবে। দুই, ডাগআউটে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কারও থাকা চলবে না।

দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে নাসির উদ্দিন চৌধুরী কাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রেফারিরা থাকে বাফুফের অধীনে। ফলে ডাগআউটে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কোনো কর্মকর্তা থাকলে রেফারি প্রভাবিত হতে পারেন। দীর্ঘদিন থেকেই এটা আমরা দেখে আসছি। এখন এর অবসান হওয়া উচিত।’

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ‘ডাগআউট’বা ‘টেকনিক্যাল এরিয়া’য় দলের অনুমোদিত কর্মকর্তাদের থাকতে বাধা নেই। তবে তাঁদের মাঠে নির্দেশনা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মানতে হয়, সংযত আচরণ করতে হয়। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে রেফারি বা অন্য কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়া ফিফার আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দেখুন, রেফারিকে প্রভাবিত করতে হলে মাঠে দাঁড়িয়েই করতে হবে নাকি!
মাঠে থাকা-না থাকার ওপর রেফারিকে প্রভাবিত করা নির্ভর করে না বোঝাতে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ

ডাগআউটে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা যে রেফারিদের কাছে আতঙ্ক, এ দেশের ফুটবলে সেই উদাহরণ অনেক আছে। কয়েক বছর আগে প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জ ও বিজেএমসির ম্যাচে বিজেএমসির তৎকালীন ম্যানেজার ও বাফুফের সহসভাপতি আরিফ খান জয় ডাগআউটে থেকে রেফারিকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। আরিফ খান মাঠে পিস্তল নিয়েও প্রবেশ করেন। তখন এ নিয়ে বেশ শোরগোল হয়েছিল।

আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ ২০০৮ থেকে বাফুফে সদস্য এবং তিনি ডাগআউটে থাকেন নিয়মিত। মোহামেডান ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম ২০০৮ থেকে বাফুফের সদস্য হলেও ২০১৯ সালে নির্বাচিত হতে পারেননি। মোহামেডানের ম্যানেজার পদে এখন নেই তিনি।

তবে বাফুফের বর্তমান কমিটির সদস্য আমের খান ব্রাদার্সের ম্যানেজার হিসেবে ডাগআউটে ছিলেন গত মৌসুমে। ব্রাদার্স এখন অবনমিত হওয়ায় আমেরকে দেখা যায় না মাঠে। তবে বাফুফের বর্তমান কমিটির আরেক সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ রহমতগঞ্জের ম্যানেজার হিসেবে থাকছেন ডাগআউটে।

default-image

বাফুফের নির্বাচিত সদস্যদের ডাগআউটে না থাকার দাবি প্রসঙ্গে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এক প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন সেটা অবশ্য খুব তাৎপর্যপূর্ণ, ‘দেখুন, রেফারিকে প্রভাবিত করতে হলে মাঠে দাঁড়িয়েই করতে হবে নাকি!’

রহমতগঞ্জ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হামিদের কথা, ‘রেফারিদের ওপর আমি কখনো প্রভাব বিস্তার করি না। করলে আমরা সব সময় ভালো ফল করতাম। আসলে হারলে অনেকে অনেক কথা বলেন। এগুলো বড় কিছু নয়।’

বাফুফে বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছু বলেনি। তবে বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সালাম মুশের্দী বল ঠেলেছেন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কোর্টে, ‘কয়েক বছর আগে ডাগআউটে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের থাকা বন্ধ করেছিলাম আমরা। কিন্তু সেটা স্থায়ী করা যায়নি। এখন আবার দাবি উঠেছে। ফেডারেশন সভাপতি বিষয়টি দেখতে পারেন।’

ফেডারেশন সভাপতি দেখবেন? কাজী সালাউদ্দিন বলছেন, ‘আমি গুরুত্বসহকারে দেখব।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন