default-image

ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পরও থেমে নেই বিতর্ক। গত নভেম্বরে তাঁর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। এ বিষয়ে ম্যারাডোনার দুই চিকিৎসক ও আরও তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এদিকে ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তাঁকে নিয়ে একটি অডিও আলাপ ফাঁস হয়েছিল। সেখানে ’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী তারকার নিউরোসার্জন ও দীর্ঘদিনের চিকিৎসক লিওপোলদো লুকে ও মনোবিদ কোশাচেভ বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এবার আরও একটি অডিও আলাপ ফাঁস হলো, যেখানে যথারীতি আলাপের বিষয়বস্তু ম্যারাডোনার নেশায় ডুবে থাকা। মাতাল অবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি হওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাতে।

ম্যারাডোনার দুই চিকিৎসক লুকে, শরীরের নড়াচড়াবিষয়ক বিদ্যা ‘কাইনেসিওলজি’র বিশেষজ্ঞ নিকোলাস তাফারেল ও তাঁর (ম্যারাডোনা) সাবেক সহকারী চার্লি ইবানেজের মধ্যে এই অডিও আলাপ ফাঁস করে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ইনফোবায়ে’।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ এই আলাপের উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে। গত ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে এ আলোচনা করা হয়, যেখানে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ঘিরে বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সেসব কথা তুলে ধরা হলো—

তাফারেল: দুই গ্লাস লুইজি বসকা (আর্জেন্টাইন ওয়াইন) খেলে সে মাতাল হয়ে পড়ে। প্রথমটির পর শুরু হয়, দ্বিতীয়টির পর যেন বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর বিয়ার খায়, পাঁচ বোতল কোরোনা (মেক্সিকান বিয়ার) খেলে তো এমনিতেই ধরে বসে।

লুকে: এমন বাজে পরিবেশে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব না। আর সেটা করার চেষ্টা করলে তার নাগাল পাওয়া যাবে না। পালাবে। আসলে এর কোনো সমাধান নেই। অন্তত আমি পাচ্ছি না।

মারিয়ানো ইসরায়েলিত (ম্যারাডোনার বন্ধু): তাঁর ঘরে মদ এনে দেয় চার্লি। না চাইলেও তার টেবিলে কোরোনা রাখা হয়। যে নেশাগ্রস্ত তার সামনে বিয়ার রাখলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটি পান করতে বড়জোর ৫ সেকেন্ড লাগবে। সে না চাইতেই পেয়ে যায়।

চার্লি: আজ দুপুরের খাবারের পর সে অর্ধেক গ্লাস পান করেছে। রাতের খাবারের পর আরও অর্ধেক গ্লাস ঢেলেছে। আমরা সিনেমা দেখা শেষ করতে করতে সে ওষুধ খেয়ে, খানিকক্ষণ ফুঁকে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আসল সত্যটা হলো সে (জীবনযাপনে) একজন ইংরেজ।

তাফারেল: সমস্যা হলো চার্লিকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে দুবার করে পিল দেয় ম্যারাডোনাকে। ম্যারাডোনা তার কাছে চারটি গোলাপি পিল চাইলে চারটিই এনে দেয়।

লুকে: একটা ঘটনা বলা দরকার। কাল ম্যারাডোনার সঙ্গে কথা বলার সময় এটা হয়েছে। জানি না দোষটা কার, মাতাল অবস্থায় হাতাহাতি হয়। খবরদার, এটা কাউকে বলা যাবে না, তাহলে মিডিয়ায় পৌঁছে যাবে।

লুকে: আমি আর পারছি না। প্রথমে মনে হচ্ছিল, তাঁকে সাহায্যই করছি। কিন্তু আপনারা তাঁর মনোবিশ্লেষণের পর থেকে নিজেকে গর্দভ মনে হচ্ছে...একই সময়ে তাঁকে (ম্যারাডোনা) ঘুষিও মারতে ইচ্ছা হচ্ছে। আর বলতে ইচ্ছা করে “তুমি এক দলা বিষ্ঠার মতো, এত বয়স হওয়ার পরও যে (নেশা) থামতে জানে না, অহংকারী, তুমি একটা মাকড়সার চেয়েও একা, এমনকি তোমার মেয়েরাও তোমার সঙ্গে কথা বলে না।”

লুকে: কাল তাঁকে বলেছি, তুমি এভাবে মরতে পারো না। দেখো, আমি পুলিশ নই, তবে গর্দভও না। তুমি ফুটবল সম্বন্ধে জানো, আমি জানি ওষুধ সম্পর্কে। তোমাকে দেখে আমি বুঝতে পারি কেমন আছ। এভাবে মদ, পিল ও ফুঁকতে ফুঁকতে তুমি মরতে পারো না।

বেঁচে থাকতে ম্যারাডোনার বদভ্যাসগুলোই মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়ার অন্যতম কারণ। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের আগে বুয়েনস এইরেসের বাসায় ছিলেন ম্যারাডোনা। রক্তক্ষরণজনিত সেই অস্ত্রোপচারের আগে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মদ্যপান এবং ‘গাঁজা’ সেবন করেছেন বলে কিছুদিন আগে আদালতে জানান তাঁর দুই মেয়ে। চিকিৎসকেরাও নাকি এ বিষয়ে জানতেন। অস্ত্রোপচারের পর তিগ্রের বাসায় পুনর্বাসনে থাকতে মারা যান ম্যারাডোনা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন