তুমুল বিতর্ক চলছে প্রস্তাবিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে।
তুমুল বিতর্ক চলছে প্রস্তাবিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে।ছবি: টুইটার

বিতর্ক হবে জানাই ছিল। যাঁরা এ আয়োজন করতে চান, তাঁরাও জানেন। তাই যুক্তিগুলোও হয়তো প্রস্তুত করে রাখা ছিল। ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ঘোষণা দেওয়া মাত্র মহাবিতর্ক শুরু হয়েছে, এরপরই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রাখতে একের পর এক যুক্তি ছাড়ছেন সুপার লিগের আয়োজকেরা।

শুরুর আগেই চরমভাবে বিতর্কিত হওয়া এ টুর্নামেন্টের সাধারণ সম্পাদক আনাস লাঘরারি যেমন যুক্তি দিলেন, বিশ্বসেরা ফুটবলাররা এ টুর্নামেন্টে নিয়মিতই একে অপরের মুখোমুখি হবেন।

মানে, দর্শকেরা যা দেখতে চান, বিশেষ করে তরুণেরা; বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নিয়মিত মুখোমুখি হওয়া—সুপার লিগে সেটাই দেখাতে চান আয়োজকেরা। কিন্তু এ টুর্নামেন্ট চালু হওয়া মানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্ব হারানো। সুপার লিগ সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আর্বিভূত হবে এবং যে ১২টি ক্লাব এ টুর্নামেন্টের প্রতিষ্ঠাতা, তারা অংশ নিলে চ্যাম্পিয়নস লিগ তারকাশূন্য হয়ে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

ভেবে দেখুন, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আতলেতিকো মাদ্রিদ, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, আর্সেনাল, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস ও এসি মিলান—এসব ক্লাবের সুপার লিগে খেলা মানে তো লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থেকে মোহাম্মদ সালাহর মাপের ফুটবলারদের চ্যাম্পিয়নস লিগে আর দেখার সুযোগ না পাওয়া। ওদিকে উয়েফা তো হুমকি দিয়ে বসেছে, সুপার লিগে খেললেই ঘরোয়া লিগ থেকেই নিষিদ্ধ করা হবে!

এমন পরিস্থিতিতে সুপার লিগ আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন লাঘরারি। এ টুর্নামেন্ট নাকি ‘মানুষের স্বপ্নকে সত্যি করবে’। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা পারিসিয়েনকে সুপার লিগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘আমরা সেরা ফুটবলের একটি জায়গা বানাতে চাই। এমন একটা প্রতিযোগিতা, যা সবাই দেখতে চায়, লোকের স্বপ্ন সত্যি হয়।’

এরপর তরুণ প্রজন্মের কথা বললেন তিনি, ‘তরুণ প্রজন্ম ফুটবলে আগ্রহ হারাচ্ছে। শুধু বড় ম্যাচগুলো নিয়েই আগ্রহ বেশির ভাগের। কিন্তু বড় ম্যাচ খুব কম হয়ে থাকে।’
লাঘরারি খেলোয়াড়দের প্রত্যাশার উদাহরণও দিয়েছেন। নেইমারকে দিয়ে একটি উদাহরণ টানেন তিনি।

বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর নেইমার বহুবার কাতালান ক্লাবটিতে ফিরতে চেয়েছেন। ঘটনাক্রমে এই ইচ্ছা থেকে সরে আসার পর খেলতে চেয়েছেন মেসির বিপক্ষে। মাঠে অন্তত দুই বন্ধুর দেখা তো হবে! আর দুজনকেই যেহেতু বিশ্বসেরা ভাবা হয়, একে অপরের বিপক্ষে সামর্থ্য দেখানোরও তো সুযোগ।

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় এবার সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু চোটের জন্য মেসির মুখোমুখি হতে পারেননি পিএসজি তারকা নেইমার। বার্সাকে হারিয়ে পিএসজি উঠে যায় শেষ আটে। অর্থাৎ মেসি-নেইমারের লড়াই দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের সামনের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তখনো মুখোমুখি হবে কি না, সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কিন্তু সুপার লিগে সে সুযোগ নেই। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে দলগুলো। লাঘরারি এই যুক্তিই দিলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যেও বড় ম্যাচ খেলতে না পারার হতাশা রয়েছে। নেইমারের যেমন মেসির বিপক্ষে খেলার স্বপ্ন। সে চোট পায় (২০২০-২১ চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলো), এখন হয়তো আর মেসির মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ না–ও পেতে পারে। আমরা শুধু উয়েফার সঙ্গে বসে কথা বলতে চাই। যদি মতের মিল না হয়? পাঁচ মাসের মধ্যে সব শুরু হতে পারে।’

অর্থাৎ পাঁচ মাসের মধ্যে সুপার লিগ শুরুর ইঙ্গিত দিলেন লাঘরারি?

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন