বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৬.৮ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট শহর মালে। বড় গাড়ি চলার মতো জায়গা শহরে নেই। সে কারণেই বাইক ও স্কুপির বিপুল ব্যবহার। শহুরে মানুষের যানবাহনের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরই এই বাহন। অল্পসংখ্যক বাস থাকলেও সেগুলোর চলাচল শহরের বাইরে। ব্যক্তিগত গাড়ি কম। তবে ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি আছে। সেগুলো সংখ্যায় সীমিত বলে ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় লম্বা সময়।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কাভার করতে মালে এসে যেদিকে দুচোখ যাচ্ছে, শুধু বাইক আর স্কুপিই চোখে পড়ছে। অলিগলিসহ সর্বত্র বাইকের সারিবদ্ধ লাইন। বড় রাস্তার মোড়ে বাইক রাখার আলাদা জায়গা আছে। সেখানেই শৃঙ্গলাবদ্ধভাবে সব তালাবদ্ধ করে রেখে যে যাঁর কাজে চলে যান। কেউ বাসাবাড়িতে বাইক নিয়ে যান না, সবই পার্কিং করা থাকে রাস্তার এক পাশে।

default-image

বাইকে চড়ে ৩০-৪০ মিনিট ঘুরলেই গোটা মালে শহর দেখা হয়ে যায়। হেঁটে দেখলেও সর্বোচ্চ ঘণ্টা দুয়েকের মতো লাগতে পারে। পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম শহরটির কোথাও ধুলাবালু পাবেন না। এটুকু শুনেই মালেকে স্বপ্নের শহর ভেবে বসবেন না। আরও আছে। এই শহরের জননিরাপত্তা এতটাই ভালো যে অনেক দোকানেরই কোনো ঝাঁপ নেই। শুধুই কাচে ঘেরা।

হাজারো বাইক শহর দাপিয়ে বেড়ালেও হর্ন বাজে কমই। সে কারণে নেই শব্দদূষণ। এই কয়েক দিন থেকেও সড়ক বা অলিগলির কোথাও ট্রাফিক পুলিশ চোখে পড়েনি। থাকার দরকারও কি! শহরে তো কোনো যানজটই নেই! আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও রাস্তায় দেখা মেলে কদাচিত। তবু নাগরিকেরা বাইক চালান আইন মেনে। আইনের প্রতি মালেবাসীর শ্রদ্ধা অনুকরণীয়ই বলতে হয়।

default-image

মালের বাইক নিয়েই কথা হচ্ছিল স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ জামিলের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘এখানে বাইক কিনতে ঋণ দেয় বিভিন্ন সংস্থা। সেই ঋণ নিতে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। সঙ্গে নিবন্ধন করতে মালদ্বীপের অল্প কিছু রুফিয়া লাগে। মাসে মাসে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হয়।’ মোটামুটি মানের একটি বাইকের মূল্য মালদ্বীপের ৫০ হাজার রুফিয়ার মতো, বাংলাদেশের মুদ্রায় যেটি পড়বে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

করোনার প্রভাব এখন অনেকটাই কমে এসেছে মালদ্বীপে। দৈনিক আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেমে এসেছে ৭০-এর নিচে। অবশ্য সরকারি হিসাবে দেশটির জনসংখ্যা যেখানে মাত্র সাড়ে ৫ লাখ, সে তুলনায় আক্রান্তের হার খুব কম নয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় মালদ্বীপে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেশ কম। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৩১ জনের। তবু করোনা নিয়ে মালের মানুষেরা এখনো সচেতন। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ–বৃদ্ধা—সবার মুখেই মাস্ক। দোকানপাট, অফিস আদালতে মাস্কের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। করোনা পুরোপুরি নির্মূল না হলেও বাংলাদেশের মতো এখানে এখন সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে।

default-image

সব খুলে দেওয়া হলেও টিকা প্রদান কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে যাওয়াতে ঝুঁকিটা এখানে কম। স্থানীয় বাসিন্দা আলী বাশীর জানালেন, ‘১৬ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় সবাইকেই সরকার দুই ডোজ করে করোনা টিকা দিয়েছে। ১২ বছরের ওপরের ছেলেমেয়েদের এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে এক ডোজ টিকা। বাকিদেরও টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

মালে শহরকে সুরক্ষিত রাখতে প্রবাসীদেরও টিকা দিচ্ছে মালদ্বীপ সরকার। মালেতে কাজ করা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই দুই ডোজ টিকা পেয়ে গেছেন। চাকরি, ব্যবসা–বাণিজ্যসহ সবকিছুতেই আছেন তাঁরা। শহরে দুই পা এগোলেই দেখা মেলে বাংলাদেশের মানুষের। মনে হবে হয়তো ঢাকার রাস্তায়ই হাঁটছেন।

অবশ্য সেই মনে হওয়াটা ভুলিয়ে দেয় রাস্তায় ছুটে চলা সুশৃঙ্খল যানবাহনগুলো। আহা, ঢাকার রাজপথও যদি এমন হতো!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন