বিজ্ঞাপন
default-image

কিয় জিন টেট ইয়াঙ্গুন ইউনাইটেডের গোলকিপার। মিয়ানমার জাতীয় দলে ৩৮ ম্যাচ খেলেছেন এই ৩১ বছর বয়সী। ফেব্রুয়ারিতে সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হলে তাতে একাত্মতা ঘোষণা করে সামরিক শাসকদের সমালোচনা করেছেন।

প্রতিবাদ হিসেবে এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে মিয়ানমার দল থেকে নাম কাটিয়ে নিয়েছেন টেট। এএফপির সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন। আর ভাবছেন, আগামীকাল যদি অন্য সবার মতোই তিন আঙুলের স্যালুট দেখাতে পারেন ফুটবলাররা, তবে বিশ্ব দারুণ এক বার্তা পাবে, ‘যদি তারা আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তিন আঙুলের স্যালুট দিত, তাহলে দারুণ হতো। এই বার্তা অন্তত তারা দিতে পারে এবং তারা এটা করতেই পারে।’

এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মিয়ানমার ‘এফ’ গ্রুপে খেলছে। করোনার কারণে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো এখন আর ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে হচ্ছে না। বাংলাদেশের ‘ই’ গ্রুপের বাকি সব ম্যাচ যেমন কাতারে হবে, তেমনি ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচগুলো এখন জাপানে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

default-image

আগামীকাল ২৮ মে স্বাগতিক জাপানের মুখোমুখি হবে মিয়ানমার। এ ছাড়া কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সঙ্গে ১১ ও ১৫ জুন শেষ দুই ম্যাচ খেলবে গ্রুপে চার নম্বরে অবস্থান করা মিয়ানমার। টেট স্বপ্ন দেখছেন প্রথম ম্যাচেই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেবেন।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলার সময় রাজনৈতিক স্লোগান বা বার্তা দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গত মার্চে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির খেলোয়াড়দের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি ফিফা। ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতারের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। জার্মানির খেলোয়াড়েরা টি-শার্টে ‘মানবাধিকার’ (হিউম্যান রাইটস) লিখে নেমেছিল সেদিন। একই কাজ করেছে ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের ফুটবল দলও।

টেট অবশ্য বাস্তবতা বোঝেন। জাপানে কোনো ধরনের প্রতিবাদ যে দেখার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ, সেটা মেনে নিয়েছেন এই গোলকিপার, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা একজোট নয়। যদি সবাই খেলা থেকে সরে যেত, তাহলে এটা প্রভাব ফেলতে পারত।’

default-image

দলের সবাই কী করবেন, সেটা নিয়ে না ভেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছেন টেট। এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন, এর জবাবে বলেছেন, ‘আমি আমার কথা রাখতে চাই, যা বলেছি, তাতে বিশ্বাস রাখতে চাই।’ তাঁর দাবি, অনেক খেলোয়াড়কেই খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে, ‘অনেক তরুণ খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতের কথা বলে এ ম্যাচ খেলার ব্যাপারে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই ওরা হয়তো এ নিয়ে চিন্তিত।’

কোচ আন্টোইন হে বলেছেন, তাঁর দল এমন কিছু করার কথা ভাবছে না। জার্মান কোচের দাবি, দেশের আন্দোলন-প্রতিবাদের সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই, ‘ফিফার আইনে পরিষ্কার লেখা আছে, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বা যেকোনো ম্যাচেই কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি বা ধর্মীয় বাণী দেওয়া যাবে না। আমরা সে নিয়ম মেনে চলব।’

হে অবশ্য স্বীকার করেছেন, বেশ কিছু খেলোয়াড় জাতীয় দলের ডাক পেয়েও খেলতে রাজি হননি। তবে এর পেছনে রাজনীতি ছাড়াও ব্যক্তিগত কারণকেই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, ‘এর মানে এই নয় যে রাজনীতি বা অন্য কারণে অনেকেই খেলার জন্য প্রস্তুত নয়। জাতীয় দল নির্বাচন করতে গেলে এমনটা স্বাভাবিক (কারও রাজি না হওয়া)।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন