default-image

মৌসুমের শুরুতে ‘ডিফেন্ডার চাই’ ‘ডিফেন্ডার চাই’ বলে একটা হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছিলেন হোসে মরিনহো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশার জন্য পছন্দের ডিফেন্ডার না থাকার কথাটাই বারবার বলেছেন এই কোচ। কিন্তু মরিনহোর বিদায়ের পরই নতুন কোনো ডিফেন্ডার আনার কথা ভেবেছে ইউনাইটেড। জানুয়ারির দলবদলে জুভেন্টাসের মেধি বেনাতিয়াকে আনতেও চেয়েছিল তারা। কিন্তু এই ডিফেন্ডার আল ঝলমলে প্রিমিয়ার লিগ নয়, বেছে নিয়েছেন আল দুহাইল ক্লাবকে।

নামটা পরিচিত ঠেকছে না? ঠেকার কথাও নয়। কাতার স্টারস লিগের এই ক্লাব এখনো এশিয়ান ফুটবলেই নাম করতে পারেনি। নামে ধারে ইউনাইটেডের ধারে কাছেও নেই ক্লাবটি। তবু বেনাতিয়া ইউনাইটেড নয়, বেছে নিয়েছেন আল দুহাইল ক্লাবকেই। কারণ, ক্লাবটি কাতারের এবং এ দেশের মুসলিম সমাজে পরিবার নিয়ে থাকতে চান বেনাতিয়া।

মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ৩১ বছর বয়সী বেনাতিয়া। ইউরোপে জুভেন্টাসের জার্সিতে বেশ দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন। জিতেছেন সিরি ‘আ’, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর। এমন ডিফেন্ডারকে দলে টানতে তাই চাইতেই পারে ইউনাইটেড। কিন্তু বেনাতিয়া কাতারে গেছেন। এমন সিদ্ধান্ত তাঁর দেশের ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ভালো লাগেনি। ক্যারিয়ারের এমন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় কাতারে আসার এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। ইউরোপে না খেলে কাতারে খেলায় জাতীয় দলে জায়গা হারাতে পারেন বলে ধারণা সমালোচকদের।

বেনাতিয়া এমন সমালোচনার কারণ বুঝতে পারছেন তবু তাঁর আশা কোচ ও সমালোচকেরা বুঝতে পারবেন এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন, ‘দোহাতে আসায় দেশের ক্রীড়া সমালোচকদের কাছ থেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। তবে সবাইকে বলব আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে। কারণ এটা আমার ও পরিবারের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত ছিল। আমি চাই আমার সন্তানেরা মুসলিম পরিবেশে বেড়ে উঠুক। আমি চাইলে আরব আমিরাত কিংবা সৌদি আরবে খেলতে যেতে পারতাম কিন্তু আমি আল দুহাইলকেই পছন্দ করেছি। মরক্কোর জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই উপসাগরীয় (আরব) অঞ্চলের ক্লাবে খেলে। মরক্কো কোচ হার্ভ রেনার্ড আমাকে ভালোভাবেই জানে। তাঁর যদি মনে হয় আমি জাতীয় দলে খেলার যোগ্য না, আমি সে সিদ্ধান্তকে সম্মান করব।’

মরক্কোর হয়ে ৫৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন বেনাতিয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপে দলটির অধিনায়কই ছিলেন এই ডিফেন্ডার।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন