বিজ্ঞাপন

প্রিন্সের এক বন্ধুকে স্কুলগেটের ঠিক বাইরেই অপদস্থ করছিল স্কুলেরই কয়েকজন ছেলে। বয়সে একটু বড় ছিল তারা। বন্ধুর অপমান সহ্য হয়নি প্রিন্সের। সে এগিয়ে গিয়েছিল। বাঁচাতে চেয়েছিল তার বন্ধুকে। কিন্তু দুষ্কৃতকারী তাকে উল্টো চেপে ধরে বুকে বসিয়ে দেয় কাগজ কাটার ছুরি। প্রিন্সের হৃদ্‌যন্ত্র ভেদ করে ঢুকে যায় ছুরি। মৃত্যু হয় তার। মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটে একটা দারুণ স্বপ্নের।

প্রিন্সের মৃত্যুর ১৫ বছর পর তার অসাধারণ বন্ধুবৎসল চরিত্রকে স্মরণ করেছে বিশ্বখ্যাত ভিডিও গেম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইএ স্পোর্টস। তাদের বানানো জনপ্রিয় কম্পিউটার গেম সিরিজ ‘ফিফা ২১’-এ কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স দলে রাখা হয়েছে প্রিন্সকে। ৩০ নম্বর জার্সি দিয়ে। কিউপিআরের সেই সম্ভাবনাময় কিশোর ফুটবলারের অকালে শেষ হয়ে যাওয়া স্বপ্নের পরিণতি! সবকিছু ঠিক থাকলে প্রিন্সের জীবন যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারত, তাহলে ১৫ বছরের সেই কিশোর হয়তো এত দিনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলত। হয়তো এরই মধ্যে ইংল্যান্ড দলের ড্রেসিংরুমেও জায়গা করে নিত। কে জানে, প্রিন্সকে নিয়ে হয়তো কাড়াকাড়ি পড়ে যেত ইউরোপের অন্য বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে!

‘ফিফা ২১’-এ কিউপিআর দলে আছেন মৃত প্রিন্স। তার চেহারাটি আঁকা হয়েছে অনেক চিন্তাভাবনা করে, বেঁচে থাকলে আজ ১৫ বছর বাদে তার চেহারাটি কেমন হতো, সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে। ফিফা ২১ গেমে কিউপিআর নিয়ে কেউ যদি খেলেন, তাহলে দলটির খেলোয়াড় তালিকায় তাঁরা পেয়ে যাবেন প্রিন্সের নাম—৩০ নম্বর জার্সিতে।

default-image

প্রিন্সের বাবা মার্ক প্রিন্স একসময় ছিলেন পেশাদার বক্সিং খেলোয়াড়। ইন্টার কন্টিনেন্টাল লাইট হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মার্ক ও তাঁর স্ত্রীর জীবনের সবচেয়ে বিয়োগান্ত দিন ছিল ১৫ বছর আগের সে দিনটি। এরপর থেকে তাঁদের জীবন হাসি-আহ্লাদহীন। তবে ছেলের শোকে পাথর হয়ে থাকেননি তাঁরা। বিশেষ করে মার্ক ছেলের অকালে চলে যাওয়ার দুঃসহ কষ্টটাকে কাজে লাগিয়েছেন এ সমাজের জন্য কিছু করার ব্রত নিয়ে। তিনি এখন কিউপিআর একাডেমিতে খুদে ফুটবলারদের শেখান দুষ্কৃতকারীদের ছুরি থেকে তারা কীভাবে নিজেদের বাঁচাতে পারবে, ছুরি সঙ্গে থাকলে সেটি একজনকে কী কী ধরনের অপরাধে প্রলুব্ধ করতে পারে, সে ব্যাপারটি।

ফিফা গেমের মাধ্যমে মৃত ছেলের ‘পুনর্জন্ম’কে কীভাবে দেখছেন বাবা মার্ক? তাঁর সোজাসাপটা উত্তর, ‘প্রথম থেকেই ঈশ্বর কেন যেন আমার মনে একটা ব্যাপার প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন—আমার ছেলের মৃত্যু নেই।’ তিনি জানিয়েছেন, আদরের প্রিন্সের মৃত্যুর পর থেকেই সৃষ্টিকর্তাই তাঁকে পুত্রশোক আড়াল করতে সাহায্য করেছেন, ‘প্রিন্সের মৃত্যুর পর থেকেই আমরা যেকোনোভাবেই হোক শিখে গেছি, কীভাবে আমাদের বাকি জীবনটা কাটাতে হবে। সৃষ্টিকর্তাই এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করেছেন। নয়তো সেটি সম্ভব ছিল না।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন