জানুয়ারিতে মেসির মতো বড় তারকার দলবদল কিছুটা অভাবনীয়।
জানুয়ারিতে মেসির মতো বড় তারকার দলবদল কিছুটা অভাবনীয়। ছবি: রয়টার্স

এ মৌসুমে প্রকাশ্যে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানাতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে যখন বার্সেলোনা ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, তাঁকে পাওয়ার জন্য তখন প্রস্তুত হচ্ছিল সিটি। কিন্তু আইনি ঝামেলা করে ক্লাব ছাড়তে শেষ পর্যন্ত ইচ্ছে জাগেনি মেসির, তাই প্রকাশ্যে মেসির জন্য প্রস্তাবও পাঠাতে পারেনি তারা। কিন্তু ব্যাপারটা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’, আগামী মৌসুমে যখন বার্সেলোনা ছাড়বেন, তখন সিটিতেই যাবেন মেসি।

মেসিকে পাওয়ার জন্য  চেষ্টা আজকের নয় সিটির। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের মতোই বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়ের একজনকে দলে টানার চেষ্টা তাদের বহুদিনের। বার্সেলোনার অস্থিরতা যদি না কাটে তবে সে ইচ্ছা আগামী জুলাইয়েই পূরণ হবে তাদের। কিন্তু আর তর সইছে না তাদের। আসছে জানুয়ারিতেই নাকি মেসিকে কেনার জন্য প্রস্তাব পাঠাবে তারা। আর বার্সেলোনা অধিনায়ককে কিনতে নাকি মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড দিতে চায় পেপ গার্দিওলার দল। অন্তত ইংল্যান্ডের পত্রিকা ডেইলি স্টার এমনটাই দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি আগামী জুনেই শেষ হবে মেসির। তবে জানুয়ারির দলবদলে তিনি চাইলেই যেকোনো দলের সঙ্গে আলোচনায় যেতে পারবেন। এবং এ নিয়ে কোনো আপত্তি তুলতে পারবে না বার্সেলোনা। তাই আগামী জানুয়ারির দলবদলের কথা ভেবে বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারেন সিটি সমর্থকেরা। তবে দলটির পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে পিএসজিও। কারণ, বহুদিন ধরে রোনালদো ও মেসির মতো কাউকে চাইছে তারা। নেইমার ও এমবাপ্পে-সমৃদ্ধ হয়েও সন্তুষ্ট নয় ক্লাবটি। মেসিকে দলে আনার জন্য যে আর্থিক ক্ষমতা দরকার সেটা ভালোভাবেই আছে তাদের। কেবল পিএসজিই নয় মেসির মতো তারকাকে মুফতে পাওয়ার কথা ভেবে দৌড়ে শামিল হতে পারে জুভেন্টাস, চেলসি আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও।

এভাবে বাড়া ভাতে ছাই পড়তে দেখে চুপ করে বসে থাকতে রাজি নয় সিটি। সে কারণেই জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে আর রাজি নয় দলটি। জানুয়ারিতেই মেসিকে নিয়ে নিতে চায় তারা। এ কারণে বার্সেলোনাকে দেড় কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব দেবে ক্লাবটি। সিটির ধারণা, ছয় মাস পর ফ্রিতে মেসিকে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে এ প্রস্তাব বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হবে বার্সেলোনার কাছে। আর কাতালান ক্লাবে যে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তার চেয়ে বেশিই দেওয়া হবে মেসিকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সিটির প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন মেসিকে দলে নিতে হলে যে ধরনের আর্থিক শক্তি দরকার হয় কিংবা কোনো ক্লাবের যে আর্থিক পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়, সেটা করতে প্রস্তুত ক্লাব। আর পেপ গার্দিওলার উপস্থিতি তো বরাবরই বাড়তি শক্তি সিটির জন্য। কিন্তু বার্সেলোনার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে সিটিকে। বর্তমান সভাপতি জোসেপ-মারিয়া বার্তোমেউর ওপর বিরক্ত মেসি। কিন্তু ক্লাবের সভাপতি ও পরিচালনা বোর্ডে পরিবর্তন এলে থেকেও যেতে পারেন অধিনায়ক।

মন্তব্য পড়ুন 0