মেসির শটগুলো এবার ঠিকঠাক জালে যাচ্ছে না।
মেসির শটগুলো এবার ঠিকঠাক জালে যাচ্ছে না। ছবি: রয়টার্স

বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমানের সংবাদ সম্মেলন তখন মাত্র শেষ হয়েছে। ইএসপিএনের বার্সা বিষয়ক সাংবাদিক স্যামুয়েল মার্সডেন টুইট করলেন, ‘আমার মনে হয় না এর আগে কখনো বার্সা কোচের সংবাদ সম্মেলনে মেসির ফর্ম, প্রেসিং নিয়ে এত প্রশ্ন হয়েছে। কোমান সব প্রশ্নেরই সোজা জবাব দিয়েছেন।’

মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন তো সংবাদ সম্মেলনে নিয়মিত ব্যাপারই, সেটা আর্জেন্টিনার কোচের সংবাদ সম্মেলন হোক কিংবা বার্সেলোনার কোচের। বর্তমান ছাপিয়ে সর্বকালেরই অন্যতম সেরা ফুটবলার বলে কথা! কিন্তু সেই প্রশ্ন মেসির ফর্ম নিয়ে হবে, কিংবা দলের প্রতি তাঁর নিবেদন নিয়ে...সেটা সম্ভবত অচেনা ব্যাপারই। সেটিই হয়েছে গতকাল কোমানের সংবাদ সম্মেলনে।

এই মৌসুমে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মেসির অচেনা রূপ তো আলোচনায় ছিলই, তারওপর গত বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেসির হাঁটাহাঁটির একটি ভিডিও আরও সমালোচনার জোগান দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৯টায় লিগে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে নামবে বার্সেলোনা, তার আগে কাল কোমানের সংবাদ সম্মেলনে তাই মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে একের পর এক। কোমান সেসবের জবাবে অবশ্য খোলাখুলিই কথা বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

এবার বার্সার হয়ে এখন পর্যন্ত সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৪টি গোল করেছেন মেসি, সবগুলোই পেনাল্টি থেকে। ম্যাচে বার্সেলোনার খেলা গড়ে দেওয়া, দারুণ পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ খুলে ফেলা...সেসবে মেসি এখনো তেমন অনুজ্জ্বল হয়ে যাননি। কিন্তু গোলমুখে যেন অচেনা হয়ে পড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন। যেন বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে তাঁর খেলায়। কোমান অবশ্য সেসব নিয়ে ভাবছেন না, ‘ও অসাধারণ খেলোয়াড়। এখনো অনেক মানসম্পন্ন, সেটা ও দেখায়ও। জানি শুধু পেনাল্টি থেকে গোল করেছে, কিন্তু ও সব সময়ই পার্থক্য গড়ে দেয়।’

মাঠে এবার মেসিকে খেলানোর ধরনেও বদল এসেছে। বার্সেলোনার চিরায়ত ৪-৩-৩ ছক থেকে সরে এসে কোমান দলকে ৪-২-৩-১ ছকে খেলাচ্ছেন। সেই ছকে আক্রমণে সবার সামনে মেসিকে ফলস নাইন ভূমিকায়ই বেশি দেখা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে অবশ্য আঁতোয়ান গ্রিজমানকে সামনে রাখতে রাইট উইংয়ে খেলছেন মেসি, কিংবা ফিলিপ কুতিনিওর অভাব পূরণে খেলছেন মাঝমাঠের তিনজনের কেন্দ্রেও। আবার মাঝমাঠেও নেমে আসতে দেখা গেছে অনেকবার।

default-image

সেটি নিয়ে কোমানের কথা, ‘আমরা ওকে এমন জায়গায় রাখতে চাই যেখানে থেকে ও প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করতে পারবে। ও অনেক ভিন্ন পজিশনে খেলেছে, ফলস নাইন হিসেবে কিংবা রাইট উইংয়ে...আমরা ওকে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের যত কাছে সম্ভব রাখতে চাই।’ মেসির খেলায় কোনো ঝামেলাও দেখছেন না কোমান, ‘আমার তো ওকে ভালোই মনে হচ্ছে। শারীরিক শক্তি ঠিক আছে। ও এই খেলাটা উপভোগ করে। সব সময় জিততে চায়, সেটা দেখায়ও। অন্য যে কারও মতো ওর-ও কিছু ঝামেলাপূর্ণ মুহূর্ত যাচ্ছে, বল এখন জালে যেতে চাইছে না।’

ফর্মের ওঠা-নামা তো স্বাভাবিকই। নামটা মেসি বলেই হয়তো নামের পাশে মৌসুমে চার গোলও যথেষ্ট নয়। গোলের ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ, গোলের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়া এখানে চোখ কপালে তোলে। কিন্তু সেটিকে এক পাশে রেখে বার্সার প্রতি মেসির নিবেদনও যে প্রশ্নের মুখে! গত আগস্টে বার্সা ছাড়তে চেয়েছিলেন বলে তাঁর দিকে এই মৌসুমে এমনিতেই নজর বেশি, তারওপর গত বুধবারের ভিডিওটা মেসির নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

টুইটারে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে দিনামো কিয়েভের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা সেই ম্যাচের শেষদিকে যোগ করা সময়ের সেই ক্ষুদ্র ভিডিওতে দেখা যায়, কিয়েভের এক মিডফিল্ডার বার্সেলোনার অর্ধে বল নিয়ে ঢুকছেন। মেসির সামনে থাকা সত্ত্বেও সেই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। যদিও সেই ভিডিওটিতে সম্পাদনা বা এডিট করে পুরো মাঠের চিত্র দেখানো হয়নি। পরে অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, পেছনে ওই খেলোয়াড়কে আর তাঁর পাস আটকে দেওয়ার জন্য বার্সেলোনার মাঝমাঠে ৫ জনের একটা রেখা দাঁড়ানো। ওই রেখাতেই শেষ পর্যন্ত আটকে গেছেন কিয়েভের ওই ডিফেন্ডার।

আরেকটি ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়ে, যেটিতে দেখা যায় উল্টো চিত্র। মেসি বল কেড়ে নিতে প্রেস করছেন, তা-ও নিজেদের বক্সের সামনে! ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বার্সার কর্নার থেকে কিয়েভের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়, মেসি কিয়েভের বক্সের সামনে থেকে কিয়েভের ওই খেলোয়াড়ের সঙ্গে দৌড়ে নিজেদের বক্সের সামনে এসেও বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সে কারণেই কি না, মেসির ওই ‘হাঁটাহাঁটির’ ভিডিওকে পাত্তা দিচ্ছেন না কোমান, ‘আপনি যেকোনো খেলোয়াড়েরই এমন হাঁটার ভিডিও পাবেন। আমি এখনো ভিডিওটা দেখিনি, দেখতেও চাই না। আমার চোখে ওর মনোভাব খুবই ভালো। বিতর্ক তৈরি করা আমার পছন্দ নয়। ৯৩ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার সময় আপনি যদি ওর হাঁটাহাঁটির ছবি দেখেন, পুরো কাজটার (দলের রক্ষণের কৌশল) না তাকিয়ে আপনি শুধু একটা ছবিতে মনোযোগ দিতে পারেন না!’

মন্তব্য পড়ুন 0