মেসির পাশে পিএসজির এমবাপ্পে।
মেসির পাশে পিএসজির এমবাপ্পে। ছবি: রয়টার্স

মাঠের বাঁ প্রান্তে নেইমার, ডান প্রান্তে মেসি। আর তাঁদের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমন এক স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছিল প্যারিসবাসী। স্বপ্নটা জাগিয়ে তুলেছিলেন মেসি নিজেই। এ মৌসুমে বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েও পারেননি, চুক্তির নবায়ন না হলে আগামী মৌসুমে তাঁকে চাইলেও আটকাতে পারবে না বার্সা।

পিএসজি সমর্থকদের আশার বেলুনে বাতাস দিয়েছেন নেইমার নিজেই। বলেছেন আগামী মৌসুমে মেসির সঙ্গে খেলতে চান। নেইমারের পথ ধরে একে একে দলের অন্য সদস্যরাও বলতে শুরু করেছিলেন পিএসজিতে মেসিকে দেখতে চান তাঁরা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ককে ক্লাবেও পাওয়ার আশা জানিয়েছেন পিএসজির দুই আর্জেন্টাইন আনহেল দি মারিয়া ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

তবে সে ইচ্ছার কথা আর জানাতে রাজি নন পারেদেস। মেসিকে পাওয়ার কথা জানিয়ে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার যে বকা শুনেছেন ক্লাবের কাছ থেকে।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাস পিএসজির পক্ষ থেকে ঠারেঠোরে মেসিকে পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছে বারবার। খেলোয়াড়েরাও মেসিকে পেলে কত দারুণ-ই না হবে, এমনটা জানিয়েছেন সুযোগ পেলেই। পিএসজিতে থাকা আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা এতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন আর তেমনটা বলার জো নেই। বার্সেলোনার সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়াতে পিএসজি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন।

default-image

লো জুখনাল দু দিমঁশ-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বেশ সতর্ক শোনাল পারেদেসকে, ‘ওরা (পিএসজির কর্মকর্তারা) আমাকে এ ব্যাপারে (মেসির দলবদল) নিয়ে আর কথা বলতে মানা করে দিয়েছেন। আমি যা বলেছিলাম, এ ব্যাপারে আমার অবস্থান অনেকের পছন্দ হয়নি। অনেকে একে (বার্সার প্রতি) অসম্মান হিসেবে দেখেছে। কিন্তু আমার এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার মেসির। মৌসুমের শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী করতে চান, সেটা ঠান্ডা মাথায় তাঁকেই ভাবতে হবে।’

মেসির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। ক্লাবের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ২০০৯ সাল থেকে বার্সার সোনালি যুগের শুরুটার জন্ম দেওয়া সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ২০০৩ সাল থেকে সাত বছর বার্সার সভাপতি ছিলেন তিনি। লাপোর্তার বার্সেলোনার সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পেছনে মেসিকে ক্লাবে ধরে রাখতে পারার প্রতিশ্রুতিই মূল ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে এ নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই। লাপোর্তা সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই খবর বেড়িয়েছে, নির্বাচনের ফল নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার উপায় নেই, মেসিকে ধরে রাখা লাপোর্তার পক্ষেও সম্ভব নয়।

এর পেছনে ফুটবলীয় কারণ একটা বড় ভূমিকা রাখছে। মেসিকে ইউরোপে শাসন করার মতো একটা দল দিতে বহুদিন ধরেই ব্যর্থ বার্সেলোনা। কয়েক মৌসুম ধরেই মেসি একাই টানছেন দলকে, বিশেষ করে ২০১৭ সালে নেইমার বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার পর। নিজে এত করেও চ্যাম্পিয়নস লিগে একের পর এক ব্যর্থতায় হতাশ মেসি সে কারণেই গত আগস্টে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আবার জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দল বার্সা আগামী মৌসুমেও গড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

বিজ্ঞাপন

পেদ্রি-ফাতিদের মতো তরুণদের এই মৌসুমে সুযোগ দিয়েছে বার্সা, তবে দলটা এখনো পালাবদলের মধ্যে আছে। ওদিকে মেসির বয়সও আগামী জুনে ৩৪ হবে। পেদ্রি-ফাতিরা প্রতিষ্ঠিত হতে হতে, বার্সা আবার শক্তিশালী দল হতে হতে তাঁর ক্যারিয়ার আর কতটুকুই বা বাকি থাকবে!

default-image

ওদিকে মেসির বেতনটাও আর্থিক দুর্দশায় থাকা ক্লাবের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন আগে বার্সার অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি পদে থাকা কার্লেস তুসকেতস যেমন বলেই বসেছিলেন, এমন অবস্থায় গত আগস্টে মেসিকে বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করে ভুল করেছে বার্সেলোনা। বেতন হিসেবে মেসির পেছনে বছরে ১০ কোটি ইউরো ব্যয়টাও বার্সেলোনা বাঁচাতে পারত বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তুসকেতস।

এমন অবস্থায় মেসিকে পাওয়ার আশা শুধু দুটি দলেরই আছে। মেসির বেতন দেওয়ার ক্ষমতা যে এখন ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজি ছাড়া আর কোনো ক্লাবের নেই। সিটির পক্ষ থেকে এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য শোনা না গেলেও পিএসজি কিন্তু কাজ এগিয়ে রাখতে চেয়েছিল।

নেইমার তো ঢাকঢোল পিটিয়েই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। মেসিকে পেলে তাঁরা কত খুশি হবেন, সেটা জানিয়েছিলেন দি মারিয়া, পারেদেস, মার্কো ভেরাত্তিরাও। জানুয়ারিতেই দলটির কোচ হয়ে আসা মরিসিও পচেত্তিনো বারবার মেসির ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দোর মতো ব্যক্তিও এ ব্যাপারে নিজেদের আশার কথা জানিয়ে বসেছেন।

default-image

ওদিকে বার্সেলোনা এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এভাবে আরেক ক্লাবের খেলোয়াড়কে টানার চেষ্টা করে পিএসজি নাকি ‘ছোট’ মনের পরিচয় দিয়েছে। এ অবস্থায় পিএসজি সতর্ক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণেই হয়তো পারেদেস আর মেসিকে নিয়ে আশার কথা শোনাতে রাজি নন। অথচ এই মিডফিল্ডারই গত ডিসেম্বরে কত আশার কথা শুনিয়েছেন পিএসজি সমর্থকদের, ‘পিএসজিতে মেসি? আমি আশা করি, এমনটা হবে, আমরা সবাই চাই আসুন তিনি। আমি আশা করি, লিও তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্তটাই নেবেন। (মেসি এলে) আমরা সবাই দুই হাত বাড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাব।’

মেসি অবশ্য ডিসেম্বরের শেষে জানিয়েছেন, এখন কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন। একেবারে জুনে এবারের মৌসুম শেষ হওয়ার পরই জানাবেন ভবিষ্যতে কী করবেন। বার্সার হয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সম্ভাবনা দেখলে চুক্তি নবায়ন করে থেকে যেতেও পারেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসিদের শেষ ষোলোতে বিদায় করে দিয়ে পারেদেসরা অবশ্য সে আশা কমিয়ে দিয়েছেন!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন