default-image

গত মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই চাকরি হারিয়েছেন কিকে সেতিয়েন। বার্সেলোনার চাকরি হারানোর পর নতুন ক্লাবে যোগ দেননি। মাঝে কিছুদিন এ নিয়ে কিছু বলতেও শোনা যায়নি। হঠাৎই মুখ খুলেছেন। ‘এল পাইস’ পত্রিকার জন্য ভিসেন্তে দেল বস্কের সঙ্গে একটি কথোপকথনে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে মেসির প্রশংসা করে রীতিমতো ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। বার্সেলোনার মতো বড় ক্লাবে বড় তারকাদের সামলানোর ব্যর্থতাও ফুটে উঠেছিল তাঁর কথায়।

সেদিন সেতিয়েন বলেছিলেন মেসির খেলা বদলানোর চেষ্টা করেননি। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং বার্সেলোনাকে এত সাফল্য এনে দেওয়া খেলোয়াড়ের কিছু বদলানোর সাহস হয়নি তাঁর। কিন্তু এখন জানা গেল মেসির খেলা বদলানোর সাহস না করা কোচ ঠিকই মহাতারকাকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন রুম থেকে!

বিজ্ঞাপন
default-image

গত মৌসুমে সেল্টা ভিগোর মাঠে বার্সেলোনার খেলার ঘটনা হয়তো ভুলতে পারবেন না অনেকেই। সে ম্যাচের কদিন আগেই ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছিলেন সেতিয়েনের সহকারী এদের সারাবিয়া। রূঢ় আচরণের কারণে তাঁর ওপর খেপে উঠেছিলেন বার্সেলোনার তারকারা। এরই রেশ পড়েছিল সেল্টার ম্যাচে।

সেদিন পানি পানের বিরতিতে সারাবিয়া খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন কীভাবে খেলা উচিত, কীভাবে আরেকটু পারফরম্যান্সে উন্নতি আনা যায়। মেসি কতটা খেপেছিলেন সেটা সেদিন টের পাওয়া গিয়েছিল। একদিকে সারাবিয়া নির্দেশনা দিচ্ছেন, আর তিনি তাকিয়ে ছিলেন অন্যদিকে। লুইস সুয়ারেজ একবার তাঁকে কাছে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। সে ম্যাচে বার্সেলোনা শেষ মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট খুইয়েছিল। ম্যাচের পর সেতিয়েন তাই বেশ কড়াভাবেই সমালোচনা করেছিলেন খেলোয়াড়দের। এ ব্যাপারে কাদেনা সারের অনুষ্ঠান কিথি হুগেস কিছু বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। এ অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছে সেতিয়েনের এমন কড়া কথা ভালো লাগেনি মেসির। তাই খেলোয়াড়দের সম্মান দিয়ে কথা বলতে বলেছিলেন মেসি। বলেছেন যে খেলোয়াড়েরা সবকিছু জিতেছে, এমনকি কোচের চেয়েও যে খেলোয়াড়দের অর্জন অনেক বেশি, তাঁদের সম্মান করা উচিত।

এরপরই নাকি মেসিকে বেরিয়ে যেতে বলেছেন সেতিয়েন। কিথি হুগেসের ভাষ্যমতে সেতিয়েন মেসিকে বলেছেন, ‘আমি যা বলছি সেটা ভালো না লাগলে দরজা খোলা আছে।’ এমন উত্তরে বার্সেলোনা অধিনায়ক আর কিছু বলেননি। শুধু হেসে নিজের মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

এর আগে এল পাইসে মেসির প্রশংসা করতে গিয়েও নেতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে ফেলেছিলেন সেতিয়েন। সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আরও অনেক সেরা ফুটবলারই ছিল। কিন্তু এই ছেলেটা যত ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাচ্ছে, অন্যরা তা পারেনি। লিওকে কোচিং করানো কঠিন। আমি তাকে কীভাবে বদলাব! তারা (বার্সা) এত বছর ধরে তাকে এভাবেই মেনে নিয়েছে। তারা কিছুই বদলায়নি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

সেতিয়েনের এমন খোলামেলা কথা আবার পছন্দ হয়নি সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ ও মহাব্যবস্থাপক হোর্হে ভালদানোর। একটা ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার পর ভেতরের খবর এভাবে প্রকাশ করার পক্ষে নন ভালদানো, ‘ড্রেসিংরুম হলো খুবই নির্দিষ্ট বাছাইকৃত কিছু লোকজনের জায়গা। এখানে অনেক নিয়ম থাকে, অনেক কিছুই বলা হয়। কখনোই সেগুলো বাইরে ফাঁস করা ঠিক না। আর যদি সেটা করতেই হয়, তাহলে সেটি যতটা সম্ভব কম করে বলাই উচিত। সে (সেতিয়েন) ড্রেসিংরুমের ভেতরের পরিবেশ দেখেছে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বলে নিজেকে দোষারোপ করছে এবং ক্লাবের সংস্কৃতি ভাঙতে চায়নি। এ কথার মাঝে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এতে মেসির যে ছবিটা দেখছি সেটা তো ভালো না।’

মন্তব্য পড়ুন 0