মেসিকে আটকানোর কৌশল বের করেছিলেন আনচেলত্তি।
মেসিকে আটকানোর কৌশল বের করেছিলেন আনচেলত্তি।ছবি : রয়টার্স

জোসে মরিনিও, কার্লো আনচেলত্তি, ইয়ুর্গেন ক্লপ, পেপ গার্দিওলা, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, দিয়েগো সিমিওনে, জিনেদিন জিদান, জোয়াকিম লো, দিদিয়ের দেশম, মরিসিও পচেত্তিনো, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি...

গত দেড় দশক ধরে বিশ্ব ফুটবল এসব কোচই শাসন করছেন মূলত। আর এই সময়েই লিওনেল মেসি নামের এক জাদুকরের উত্থান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওপরের প্রত্যেক কোচকে কখনো না কখনো মেসিকে আটকানোর ফন্দি বের করতে হয়েছে। এই দেড় দশকের কোনো না কোনো সময়ে প্রত্যেক কোচ কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছেন। দিয়ে যাচ্ছেনও। মেসিকে আটকানোর কোনো কোনো কৌশল হয়েছে সফল, বেশির ভাগই হয়েছে ব্যর্থ। জোসে মরিনিওর কথাই ধরুন। ইন্টার মিলানের কোচ যখন ছিলেন, মেসিকে আটকানোর কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন। ঠিক একই কৌশল রিয়ালে এসে যখন প্রয়োগ করতে চেয়েছেন, মেসি বের হয়ে গেছেন হাত গলে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মেসি এমনই। প্রতিনিয়ত নিজেকে এমন এমন উচ্চতায় নিয়ে যান, অধিকাংশ সময়েই তাঁকে বোতলবন্দী করে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি ক্ষণজন্মাই। তারপরও কোচদের রাতের ঘুম বাদ দিয়ে মেসিকে আটকানোর পরিকল্পনা করতে হয়, আশা করতে হয় সেই পরিকল্পনার সাফল্যের। রিয়াল মাদ্রিদের আরেক সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিও মেসিকে আটকানোর কৌশল বের করেছিলেন। সফল হয়েছিলেন বেশ।

কী সেই কৌশল? অবশেষে সেটা জানিয়েছেন বর্তমানে এভারটনের দায়িত্বে থাকা বর্ষীয়ান এই ইতালিয়ান কোচ। তাঁর কৌশলটা অত বেশি প্যাঁচানো না। ফুটবলীয় তত্ত্বের কপচাকপচি নেই সেখানে। আছে শুধুই মনস্তত্ত্ব। রিয়ালের কোচ যখন ছিলেন, তখন শুধু নিশ্চিত করতেন, মেসির বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নামার আগে রোনালদো ও তাঁর সতীর্থরা যেন মেসির কথা ভেবে আরও বেশি ভয় না পেয়ে যান, ‘আমি যখন রিয়াল মাদ্রিদে ছিলাম, বার্সেলোনা ও লিওনেল মেসির সঙ্গে অনেকবার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ও আমার অন্যতম সেরা প্রতিপক্ষ ছিল। তো আমি যে কাজটা করতাম, ম্যাচের আগে কখনোই খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেসিকে নিয়ে কথা বলতাম না। বললে ওরা ভয় পেয়ে যেত।’

default-image

মেসিকে আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো করেই মনে করতেন কার্লো আনচেলত্তি। অন্তত নিজের খেলোয়াড়দের সামনে সেটা বোঝাতেন, ‘মেসিকে নিয়ে শুধু কথা না বলে আমি অন্যান্য জিনিস নিয়ে ওদের সঙ্গে আলোচনা করতাম। সবাই সব খেলোয়াড়কে চেনে, কার কেমন খেলোয়াড়ি সামর্থ্য, সেটা বোঝে। তাই নিশ্চিত করতাম, আমাদের খেলোয়াড়েরা যেন নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারে।’

আনচেলত্তির এ কৌশলে বেশ ভালোই কাজ হয়েছিল বলে মনে করেন এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমি সন্তুষ্ট, কারণ আমার ওই কৌশল কাজে এসেছিল। এ ধরনের ম্যাচে আপনাকে নিজের মান, সামর্থ্য দেখাতে হবে। অন্যের সামর্থ্য আটকানোর চিন্তা করলে চলবে না। নিজের খেলাটা যদি ঠিকমতো খেলতে পারো, প্রতিপক্ষ কী করল না করল, অত যায়–আসবে না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

পিএসজি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে ২০১৩ সালে কোচ হিসেবে এসেছিলেন আনচেলত্তি। ছিলেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। রিয়ালের পরম আরাধ্য ‘লা ডেসিমা’ এই আনচেলত্তির অধীনেই এসেছিল। ওই দুই বছরে রিয়াল যে বার্সেলোনাকে নিয়মিত হারাত, তা নয়; আনচেলত্তির প্রথম মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে লিগের দুই ম্যাচেই হেরেছিল রিয়াল। পরের দুই মৌসুমে দুবার বার্সেলোনাকে হারিয়েছিল তারা। সে দুই ম্যাচেই গোলহীন ছিলেন মেসি। হয়তো ওই দুই ম্যাচেই আনচেলত্তির কৌশলটা কাজে দিয়েছিল!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন