মেসিকে নিজের ঘরে রাখতে চান রামোস।
মেসিকে নিজের ঘরে রাখতে চান রামোস।ছবি: রয়টার্স

আগামী জুনে বার্সেলোনার সঙ্গে লিওনেল মেসির চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে, এ পুরোনো কথা। নতুন চুক্তিতে সই না করলে জুনের পর মেসি চাইলে যেকোনো ক্লাবের হয়ে খেলতে পারেন, চুক্তি সই করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেসি কোথায় যেতে পারেন? তালিকায় আছে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে শুরু করে পিএসজি, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, ইন্টার, মিয়ামিসহ একাধিক ক্লাবের নাম। বার্সেলোনার নবনির্বাচিত সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা দায়িত্বে এসেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন মেসিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বার্সেলোনায় ধরে রাখার জন্য। সে চেষ্টার ফল কী, এখনো জানা যায়নি। এখনো তাই মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি শেষ হলে অন্য যেকোনো ক্লাবের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন মেসি, অর্থাৎ, কাগজ-কলমে রিয়াল মাদ্রিদেরও সুযোগ আছে মেসিকে দলে নিয়ে আসার। হ্যাঁ, সেই রিয়াল মাদ্রিদ, যে ক্লাবকে ছোট থেকেই ‘শত্রু’ ভেবে এসেছেন মেসি। সেই রিয়াল মাদ্রিদ, যে ক্লাবকে মাঠের লড়াইয়ে নিজেই হারিয়ে দিয়েছেন বারবার। সেই রিয়াল মাদ্রিদ, মেসির কারণে যে ক্লাব অনেক শিরোপা থেকেই হয়েছে বঞ্চিত। এক যুগ ধরেই মেসি রিয়ালের ‘গলার কাঁটা’। সে ‘গলার কাঁটা’ মেসি যদি রিয়ালেরই আপনজন হয়ে যান এই জুনে? কেমন হয় ব্যাপারটা?

default-image
বিজ্ঞাপন

এমনটি হলে কিন্তু সের্হিও রামোসের বেশ লাগবে। রিয়ালের অধিনায়কের মনে একটু হলেও আশা, মেসি যদি চিরশত্রুদের শিবির ছেড়ে লস ব্লাঙ্কোসদের শিবিরে যোগ দেন, বেশ ভালোই হবে রিয়ালের জন্য। দরকার হলে মেসি যত দিন পর্যন্ত নতুন জায়গায় এসে একটা বাড়ি কিনতে পারছেন, তত দিন তিনি মেসিকে নিজের বাড়িতে রাখতেও চান রামোস, ‘মেসিকে রিয়াল মাদ্রিদে স্বাগত জানাতে পারলে আমি অনেক খুশিই হব। ও যদি চায়, দরকার হলে প্রথম কয়েক সপ্তাহে আমি ওকে আমার বাড়িতেও থাকতে দেব। ওর সেরা বছরগুলোতে ও আমাদের অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। তাই ওর মুখোমুখি না হতে পারলে বেশ হবে। ও আমাদের আরও অনেক ট্রফি জিততে সাহায্য করবে। আমি যদি বলি যে না করবে না, তাহলে ভুল বলা হবে।’

এমন ঘটনা যে আগে ঘটেনি, তা কিন্তু নয়। লুইস ফিগোর কথাই চিন্তা করুন। ছিলেন বার্সেলোনার মূল তারকা। শতাব্দীর শুরুতে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই পাল্টে গেল পাশার দান। বার্সা ছেড়ে রিয়ালে নাম লেখালেন ফিগো। সে কী বিতিকিচ্ছি অবস্থা! বার্সা সমর্থকেরা এখনো ফিগোকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই মানেন। ফিগো নিজেও তাঁদের কাটা ঘায়ে নুন ছিটানোর জন্য রিয়াল নিয়ে গুণগান করেন সর্বক্ষণ। মেসি কি ফিগোর পথ ধরবেন?

default-image

হিসাব করলে ফিগোর দলবদলের চেয়ে মেসির দলবদল আরও সহজ হওয়ার কথা। ফিগোকে কেনার জন্য ট্রান্সফার ফি দিতে হয়েছিল রিয়ালকে, কারণ তখনো বার্সার সঙ্গে ফিগোর চুক্তি শেষ হয়নি। ৬ কোটি ২০ লাখ ইউরো দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনাকে। এদিকে মেসির সঙ্গে বার্সার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর চুক্তি শেষ হয়ে গেলে নিজের দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্লাব ছাড়ার লাইসেন্স তো পেয়ে যাবেনই, বার্সেলোনা ট্রান্সফার ফি বাবদ একটা কানাকড়িও পাবে না।

তবে মেসি-রামোস দুজনের অবস্থাই বর্তমানে একই। মেসির মতো চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী জুনে, এখনো নতুন চুক্তিতে সই করেননি রামোস। তাহলে মেসিকে যেমন রিয়ালে আনার স্বপ্ন দেখছেন রামোস, বার্সা সমর্থকেরাও কী রামোসকে রিয়ালের জার্সিতে দেখার আশা করতে পারেন? শুনুন রামোসের মুখেই, ‘এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়! হ্যাঁ, হোয়ান লাপোর্তাকে আমি অনেক পছন্দ করি। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আছে যা টাকাপয়সা কখনো কিনতে পারে না। যেমন আপনি জাভি কিংবা পিকেকে কখনো রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে দেখতে পারবেন না!’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন