বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কাতালান সংবাদপত্র আরা সবার সামনে তুলে এনেছে এই খবর। তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০ বছর ধরে ক্লাবের তৃণমূল ফুটবলার, অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীদের যৌন হয়রানি করে এসেছেন বানাজাস। পত্রিকার দাবি, এ ব্যাপারে আরা তদন্ত শুরু করার পর বার্সেলোনা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

আরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন প্রজন্মের ৬০-এর বেশি সাবেক একাডেমি খেলোয়াড় আরার কাছে এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। ১৩ বছর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে স্বমেহন করেছেন বানাজাস, পর্ন দেখেছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও খেলার আড়ালে যৌন উদ্দীপক কাজে বাধ্য করেছেন ফুটবলারদের। এসব ঘটনায় অন্তত চার শিক্ষার্থীর ট্রমায় যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। একাডেমির সাবেক এক নারী শিক্ষার্থী বলেছেন, তাঁরা সব সময় আশা করেছেন, ‘একদিন না একদিন সত্য বের হয়ে আসবে। মাঝে মাঝেই আমি ইন্টারনেটে খোঁজ নিতাম, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করল কি না।’

default-image

অবশেষে সে দিনটা এসেছে। এসকোলা বার্সেলোনার (একাডেমি স্কুল) সাবেক কয়েকজন ছাত্র পুলিশের কাছে আনাজাসের ব্যাপারে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার প্রথম অভিযোগ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে, অর্থাৎ সোমবার আরও অভিযোগ ওঠার কথা।

বার্সেলোনার তৃণমূলের ফুটবলের দায়িত্বে থাকায় ক্লাবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন বানাজাস। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ক্লাবের মূল খেলোয়াড়দের সঙ্গে একাডেমির ফুটবলারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজটা করতেন বলে তাঁর বেশ প্রভাব ছিল। এর সুযোগটাই নিতেন বানাজাস। আশির দশকে বার্সার একাডেমিতে থাকা দুই বন্ধু সে সময়ের স্মৃতিচারণা করেছেন। তখন ১০-১১ বছর বয়সী এ দুজন বলেছেন, ‘আমাদের জিমে নিয়ে বিভিন্ন খেলা খেলতেন তিনি। তাঁর অন্তর্বাসে চিমটি কাটা, তাঁর গোপনাঙ্গ ধরা...।’

এর কয়েক বছর পর বানাজাস নাকি বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিজের বাসায় নিয়ে পর্ন দেখিয়েছেন, একসঙ্গে স্বমেহন করেছেন। সবকিছুর পর আবার নিষেধ করে দিয়ে বলেছেন, ‘কাউকে বোলো না।’

default-image

বানাজাসের অপরাধের তালিকা আরও অনেক বড়। শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেছেন, ছেলেদের সঙ্গে স্নান করতে বাধ্য করেছেন মেয়েদের। এমনকি কিশোরীদের সামনে নগ্নও হতেন বানাজাস। তাদেরও নগ্ন হতে বাধ্য করতেন। সাবেক এক ছাত্র দাবি করেছেন, ৮ বা ৯ বছর বয়সে তাঁকে বানাজাস স্নান করার দৃশ্য দেখতে বাধ্য করেছিলেন। এমন ঘটনায় ট্রমায় চলে যাওয়া এই খেলোয়াড় এখনো থেরাপি নেন, চেষ্টা করেও স্মরণ করতে পারেন না, সেদিন এরপর আরও কিছু হয়েছিল কি না।

এই অনুসন্ধানে ১০০–এর বেশি সাবেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছে আরা। এর মধ্যে কেউ কেউ বানাজাসের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তবে অনেকেই বানাজাসের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। মেয়েদের লকাররুমে তাঁর যত্রতত্র ঢুকে যাওয়ার ব্যাপারটা খেয়াল করার কথা বলেছেন অনেকেই। বিভিন্ন উপায়ে যে তাঁদের যৌন হেনস্তা করা হতো, সেটা জানিয়েছেন অনেক নারী ফুটবলার।

default-image

এ ব্যাপারে বার্সেলোনার স্কুলের অনেকেই অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অনেকেই বলেছেন, এমনকি অভিভাবকদের অভিযোগও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অনেকেই তাই মেয়েদের স্কুল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই সময়কার দুই প্রধান শিক্ষক অবশ্য অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ। মারি দে মিগেল (১৯৮২-১৯৯১) বলেছেন, ‘বানাজাস ছিলেন সবার সেরা’ এবং তাঁর হয়ে সাক্ষ্য দেবেন। শুধু একবার নাকি এক ১৪ বছর বয়সী মেয়ে একটা অভিযোগ করেছিল, কিন্তু বানাজাস কেঁদে ফেলায় সে অভিযোগ বাতিল হয়েছিল।

এদিকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মারিয়া করবাইরান বলেছেন, ‘শুধু একটা অভিযোগই করা হয়েছিল।’ কিন্তু ১৯৯৭ সালের সে অভিযোগও নাকি এক বিচারক উড়িয়ে দিয়েছেন। পাঁচ ছাত্র দাবি করেছেন, তাঁরা যখন অভিযোগ করেছিলেন, তখন উল্টো তাঁদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে আরা বানাজাসের সঙ্গে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। বানাজাস ১৭, ১৮ বা ২০ বছর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে স্বমেহন করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলেছেন, মাঝে মাঝে হয়তো অপ্রাপ্তবয়স্করাও এই গ্রুপে যোগ দিত। এ ব্যাপারে তাঁর কথা হলো, ‘এখন হলে আমি এসব করতাম না। একদম না। হ্যাঁ, এসব করায় আমি দুঃখিত, কিন্তু আমার মনে হয় না, আমি কোনো ভুল করেছি! আমি কখনো কাউকে কষ্ট দিইনি, যদি দিয়ে থাকি সেটা অনিচ্ছাকৃত।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন