বেতন না কমিয়ে উপায় নেই বার্সেলোনার।
বেতন না কমিয়ে উপায় নেই বার্সেলোনার। ছবি: রয়টার্স

মেসিকে নতুন চুক্তিতে ‘বাঁধতে’ চাইছে বার্সেলোনা। ২০২১-এর জুন পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অধিনায়ক। কিন্তু চাইলেই অন্য ক্লাব জানুয়ারির দলবদলে মেসির সঙ্গে কথা বলে রাখতে পারবে। কোনোভাবেই এ ঝুঁকিতে যেতে রাজি নয় বার্সেলোনা, চুক্তি নবায়নের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে সাধারণত যা হয়, চুক্তি নবায়নের সময় বেতন বাড়ানোর কথা ওঠে। কিন্তু এবার মেসির চুক্তি নবায়নের মূল সুরই হলো বেতন কমানোর।

ক্লাব ছাড়তে চাইছেন, এমন এক খেলোয়াড়ের বেতন কমাতে চাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কদিন আগেই খবর বেরিয়েছে, মেসি বেতন না কমাতে রাজি হলে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে ক্লাব। তবে সেটা ছিল ক্লাবের ভেতরের খবর। যার সত্য বা মিথ্যা পরিষ্কারভাবে বলা কঠিন ছিল। তবে এবার লা লিগাও জানিয়ে দিয়েছে মেসি ও তাঁর সঙ্গীদের বেতন না কমিয়ে উপায় নেই বার্সেলোনার। অন্তত ফিফার আর্থিক সংগতিনীতি ভাঙার মতো অপরাধ না করতে চাইলে তো বটেই।

বিজ্ঞাপন

স্পেনে খেলোয়াড়দের বেতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি খরচ করত বার্সেলোনা। মেসির বেতন নিয়ে নানা অঙ্কের কথাই শোনা যেত এত দিন। অনেকে দাবি করতেন, কর দেওয়ার পরও ৫ কোটি ইউরো পেতেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। অর্থাৎ করসহ বার্সেলোনার খরচ হতো ১০ কোটি ইউরো। তবে ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী মেসি গত মৌসুমে বেতন–ভাতা হিসেবে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার পেয়েছেন। লুইস সুয়ারেজ, আঁতোয়ান গ্রিজমান, ইভান রাকিতিচরাও কম পেতেন না। সব মিলিয়ে বেতনের জন্য বার্সেলোনার বাজেট ছিল ৬৫ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৭ কোটি ১৪ লাখে।

এ মৌসুমে বেতন দেওয়ায় অত উদার হতে পারবে না বার্সেলোনা। করোনাভাইরাস মাঝে তিন মাস ফুটবল থামিয়ে রেখেছিল। পরিস্থিতি একটু ভালোর দিকে দেখে আবার ফুটবল ফিরেছে গত জুনে। ফুটবল মাঠে ফিরলেও গ্যালারিতে দর্শক ফেরেনি। দর্শক ফেরেনি বলে ক্লাবগুলো আয়ের একটা বড় দিক হারিয়ে ফেলেছে। আবার ক্লাবের স্মারক বিক্রির পথও বন্ধ হয়ে গেছে। স্পনসরদের কাছ থেকে পাওয়া আয়েও ভাগ বসিয়েছে করোনা। সব মিলিয়ে ক্লাবগুলোর আয় কমে গেছে অনেক। যেহেতু স্পেনে একটি ক্লাব তাদের আয়ের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ বেতনের জন্য ব্যয় করতে পারে, এ খাতে খরচও তাই এ মৌসুমে কমাতেই হচ্ছে তাদের।

default-image

করোনার কারণে বেতন খাতে কোন ক্লাব কত বাজেট রাখতে পারবে, সেটা জানিয়ে দিয়েছে লা লিগা।। ২০২০–২১ মৌসুমে বেতনের জন্য বার্সেলোনা সর্বোচ্চ ৩৮ কোটি ২৭ লাখ ইউরো খরচ করতে পারবে। অর্থাৎ আগের মৌসুমের প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। কিছুদিন আগেই বার্সেলোনা তাদের মূল দলের খেলোয়াড়দের ৩০ শতাংশ বেতন কমানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সে প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত চারজন রাজি হয়েছেন। বাকিরা বর্তমান বোর্ডের যেকোনো প্রস্তাবকেই এখন সন্দেহের চোখে দেখছেন বলেই হয়তো সে প্রস্তাবে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেননি।

বেতনের যে নতুন বাজেট পাচ্ছে বার্সেলোনা, এর মধ্যেই বার্সেলোনার মূল দল, কোচিং স্টাফ, বার্সেলোনা ‘বি’ দল, একাডেমি দল ও অন্য কর্মীদের বেতন খরচও আছে। ফলে ৩০ শতাংশ বেতন কমানোর পরও আরও নতুন আয়ের পথ খুঁজতে হতে পারে ক্লাবকে। কারণ, মেসির আগের চুক্তি অনুযায়ী মৌসুম শেষে আনুগত্য ভাতা হিসেবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর একটা বোঝা আগে থেকে বয়ে বেড়াচ্ছে ক্লাব।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস শুধু যে বার্সেলোনার বাজেট কমিয়েছে, এমন নয়। রিয়াল মাদ্রিদেরও বেতনের সীমা কমে এসেছে। তবে বার্সেলোনার মতো অতটা কমেনি তাদের। গত মৌসুমে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো বেতনের বাজেট ছিল রিয়ালের। এ মৌসুমে সেটা ৪৬ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো হয়ে গেছে। অর্থাৎ ২৭ শতাংশ কমে গেছে বাজেট। প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে আতলেতিকো মাদ্রিদেরও। গত মৌসুমে ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো বাজেট ছিল ক্লাবটির। এবার সেটা ২৫ কোটি ২৭ লাখ ইউরো। সে তুলনায় গতবার চতুর্থ হওয়া সেভিয়ার বাজেট বরং ৭ লাখ ইউরো বেড়েছে। গত মৌসুমে ইউরোতে খেলা সেভিয়া এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলছে, এই বাড়তি আয়ই করোনার ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করছে ক্লাবটিকে।

মজার ব্যাপার, লা লিগায় সেভিয়ার মতো ক্লাবের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। গত মৌসুমের চেয়ে এবার বেতনের ক্ষেত্রে বাজেট বেড়েছে ভিয়ারিয়াল, অ্যাথলেটিক বিলবাও, রিয়াল সোসিয়েদাদ, সেল্তা ভিগো, গ্রানাদা, ভায়াদোলিদ ও ওসাসুনার।

মন্তব্য পড়ুন 0