বেতন কমাতে রাজি হননি বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা।
বেতন কমাতে রাজি হননি বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাসের কারণে বেশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বার্সেলোনা। সাবেক ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের বেতন স্থগিতের একটা প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই করোনার কারণে ৭০ শতাংশ বেতন কম নেওয়া মেসিসহ অন্যান্য খেলোয়াড়েরা সে প্রস্তাবে সাড়া দেননি।

লিওনেল মেসিসহ বার্সেলোনার বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় বলতে গেলে বেতন নিয়ে এক রকম দ্বন্দ্বেই জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় বিদায় নিয়েছেন বার্তোমেউ। কিন্তু বেতন কমানো নিয়ে মেসিদের সঙ্গে ক্লাবের কথাবার্তা চলছেই। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, মেসিরা যদি বেতন না কমান, তাহলে বিরাট ঝামেলায় পড়বে বার্সা। কাতালান সংবাদমাধ্যম আরএসিওয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মেসিরা বেতন না কমাতে চাইলে জানুয়ারিতে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে ক্লাবটি।

বিজ্ঞাপন

সংকট নিরসনে এর মধ্যেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেছেন ক্লাবের আইনজীবী দল। শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভার লক্ষ্য ছিল একটাই—যে করেই হোক বৃহস্পতিবারের আগে খেলোয়াড়দের বেতন কমাতে রাজি করানো ও ক্লাব কোষাগারের ১৯০ মিলিয়ন ইউরো (১৯ কোটি ইউরো) বাঁচানো। এ পরিমাণ অর্থ বাঁচাতে হলে ক্লাবের সব খেলোয়াড়ের বেতন ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ার কিছুদিন আগে অবশ্য বার্তোমেউ খেলোয়াড়দের প্রস্তাব করেছিলেন বেতন স্থগিত রাখার। অর্থাৎ বেতন কমানো নয়, মেসিদের বলা হয়েছিল কিছুদিন বেতন না নেওয়ার জন্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পরে আবার স্থগিত থাকা বেতন দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু মেসিরা বার্তোমেউর প্রস্তাব মানেননি। হয়তো ভেবেছিলেন, ক্লাব সভাপতির কথা ও কাজের যে বিপুল অমিল, তাতে স্থগিত রাখা বেতনটা তারা পরে পাবেন, সেটার কী গ্যারান্টি!

জেরার্ড পিকে, ক্লেমঁ লংলে, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং আর মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনসহ অল্প কয়েকজন ছাড়া সব খেলোয়াড়ই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বার্তোমেউর প্রস্তাব। এখন বার্তোমেউ ও তাঁর বোর্ড পদত্যাগ করার পর মেসিদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না জানা যায়নি।

default-image

বার্তোমেউ যাওয়ার পর ক্লাবের পরিচালনা কমিটি প্রধানের দায়িত্বে আছেন কার্লেস তুসকেতস। অবস্থার ভয়াবহতা সম্পর্কে গত সপ্তাহে তিনি একটু আঁচ দিয়েছিলেন, ‘ক্লাবের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। মহামারির কারণে বার্সেলোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের ক্লাব উপার্জনের জন্য পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল, এখন যে খাত থেকে আয় একদম বন্ধ। অবস্থা সুবিধার নয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আগের বোর্ডের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হতে পারে।’

বলা হচ্ছে, এর মধ্যে করোনার কারণে ২০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বার্সেলোনার। জার্সিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রিও কমেছে।

বিজ্ঞাপন

মহামারির কারণে ক্লাবের অন্য কর্মীদের বেতন যেন আটকে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে গত মার্চে মেসিরা ৭০ ভাগ পারিশ্রমিক কম নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি নিজেদের পকেট থেকেও আরও কিছু অর্থ দিয়েছিলেন ক্লাবের তহবিলে। এতে বার্সেলোনার সাশ্রয় হয় প্রায় ১০ কোটি ইউরো। মেসি নিজেই ইনস্টাগ্রামে নিজেদের বেতন কম নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মেসিকে ঘিরে অবশ্য আরেকটি ঝামেলা আছে বার্সার। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বর্তমান চুক্তিতে লেখা, তিনি চুক্তির পুরোটা সময় বার্সায় থাকলে তাঁকে বোনাস হিসেবে একটা বড় অঙ্ক দেবে বার্সা। মেসির বর্তমান চুক্তি শেষ হচ্ছে আগামী জুনে।

একে তো ক্লাবের অফিশিয়াল দোকান থেকে আয়-রোজগার হচ্ছে না, তাঁর ওপর চ্যাম্পিয়নস লিগ বাবদ প্রাইজমানিও কমেছে। বেশ ভালো ঝামেলাতেই পড়েছে বার্সেলোনা।

মন্তব্য পড়ুন 0