default-image

তবে কি একটা সোনালি সময়ের শেষ দেখতে পাচ্ছে সবাই? গত ১৬ বছর ধরে যেটি অভ্যাস, তাতেই যে ছেদ পড়তে যাচ্ছে এবার। এমনিতেই করোনা-পরিস্থিতি দুনিয়ার অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে, কিন্তু সময়ের ফেরে একটা প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের হতে যাচ্ছে অন্য রকম এক অভিজ্ঞতাই। ১৬ বছর পর এই প্রথম যে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের লড়াই হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই। এটিকে যদি যুগের সমাপ্তি কেউ বলতে চায়, খুব একটা আপত্তি উঠবে না।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এক দিনের ব্যবধানে বিদায় নিলেন রোনালদো আর মেসি। পরশু রাতে পোর্তোর বিপক্ষে জিতেও শেষ মুহূর্তে এক গোল হজম করে বাক্স-পেটরা গোছাতে হয়েছে রোনালদোর জুভেন্টাসকে। মেসিকে টিকে থাকতে হলে কাল পিএসজির বিপক্ষে করতে হতো অবিশ্বাস্য কিছু, কিন্তু সেটি হয়নি। যদিও মেসি দুর্দান্ত খেলেছেন। টিকে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করে গেছেন। ভক্ত-সমর্থকদের মন জিতেছেন, কিন্তু বিদায় ঠেকাতে পারেননি। ২০০৫ সালের পর ফুটবলপ্রেমীরা মেসি অথবা রোনালদোর কাউকে না কাউকে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রায় শেষ পর্যন্ত দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন। এবার সেই অভ্যাসটা বদলাতে হচ্ছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

২০০৪–২০০৫ মৌসুমে মেসি খুব বড় কেউ হয়ে ওঠেননি। হওয়ার অপেক্ষায় তিনি। রোনালদো নাম করেছেন, খেলছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে। কিন্তু দুজনের ‘দ্বৈরথ’ যেটিকে বলে, সেটি তখনো গড়ে ওঠেনি। এক মৌসুম আগে-পরেই অভিষেক তাঁদের দুজনের। সেবার মেসির বার্সেলোনা আর রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—দুই দলই বাদ পড়েছিল শেষ ষোলো থেকে। কী আশ্চর্য! এবারও যে মেসি-রোনালদোর দল দুটি বাদ পড়েছে একই জায়গা থেকে।

দ্বৈরথ শুরুর পর থেকে এই এত বছরে মেসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন চারবার। এই লড়াইয়ে অবশ্য মেসিকে পেছনে ফেলেছেন রোনালদো, তিনি জিতেছেন পাঁচবার। ইউরোপ-সেরা হওয়ার লড়াইয়ের চূড়ান্ত মঞ্চ, মানে ফাইনালে ওঠারও যদি কোনো দ্বৈরথ থাকে দুজনের, সেখানেও রোনালদো এগিয়ে। পর্তুগিজ তারকা যেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলেছেন সাতবার, মেসি চারবার। তবে এখানে বলে রাখা উচিত, ফাইনালে উঠলে মেসিকে আটকে রাখা যায়নি। ফাইনাল রোনালদোকে সাফল্য-বঞ্চিত করেছেন দুবার।

default-image

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিলেন মেসি-রোনালদো। একটা সময় যে লড়াইয়ের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের দরকার হতো না। লা লিগাতেই বেশ কয়েকবার দেখা হয়ে যেত একে অপরের। সে কারণেই হয়তো ‘দ্বৈরথ’টা জমে উঠেছিল দারুণভাবে। কিন্তু রোনালদো ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগই হয়ে ওঠে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের ভরসা। এবার ভাগ্যে-চক্রে সেই দ্বৈরথ উপভোগ করার সুযোগ মিললেও রোনালদোর করোনা প্রথম লেগে ফুটবলপ্রেমীদের সে সুযোগ দেয়নি। দ্বিতীয় লেগে দুজনের দেখা হলেও ‘আগুনে’র আঁচটা ঠিক পাওয়া যায়নি। ন্যু ক্যাম্পেই বার্সেলোনা হেরে গিয়েছিল ৩-০ গোলে। যদিও তুরিনে বার্সা জিতেছিল ২-০ গোলেই। শেষ ষোলোতে জুভেন্টাস পোর্তোর বিপক্ষে পড়ার পর জুভেন্টাসের বিদায় নিয়ে খুব একটা শঙ্কা দেখেননি অনেকেই। উল্টো বার্সা-পিএসজি ম্যাচ নিয়ে অন্য রকম একটা উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। একসময়ের সতীর্থ নেইমারের বিপক্ষে মেসি খেলবেন, ফুটবলবিশ্ব ব্যস্ত ছিল সেটি নিয়েই। কিন্তু চোট সেই লড়াই দেখতে দেয়নি। দুই লেগের একটিতেও খেলতে পারলেন না নেইমার। পোর্তোর কাছে অবিশ্বাস্যভাবে পিছিয়ে পড়ে বিদায় নিল জুভেন্টাস। আর প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে হেরে বিদায়টা এগিয়েই রেখেছিল বার্সা। কাল ১-১ গোলে ড্র করে সেটিই চূড়ান্ত হয়েছে।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগটা ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’ টাইপেরই। রোনালদো-মেসির গোধূলি-বেলাতেই নতুন উষার আলোয় আলোকিত ফুটবল দুনিয়া। আর্লিং হরলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজন এরই মধ্যে অবিশ্বাস্য সব পারফরম্যান্সে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন দারুণভাবেই। একজন বরুসিয়া ডর্টমুন্ড আর অন্যজন পিএসজির হয়ে আবাহন করছেন নতুন এক লড়াইয়ের। তবে সেটি মেসি-রোনালদোর মতো ‘দ্বৈরথ’ হয়ে উঠবে কি না, তা তোলা আছে সময়ের হাতেই।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন