ভিডিওটি কী নিয়ে, সেটি আগে খুলে বলা ভালো। মেসির সঙ্গে ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সম্পর্ক তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অন্যতম বড় তারকাও মেসি।

অ্যাডিডাস সম্প্রতি নতুন একটি বুট বাজারে ছেড়েছে—ডায়মন্ড এজ। মেসি এই বুট পরে বলে নিখুঁত কিক নেওয়ার ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘১, ২, ৩...অ্যাডিডাস ফুটবলের ডায়মন্ড এজ বুট পরীক্ষা করছি। ডায়মন্ড এজ পরে ভালোই লাগছে।’ বোঝাই যাচ্ছে, নিজেদের পণ্যের প্রসার ঘটাতে মেসিকে দিয়ে বিজ্ঞাপনের জন্য ভিডিওটি বানিয়েছে অ্যাডিডাস।

বলে কিক নেওয়ায় পিএসজি তারকা কতটা নিখুঁত, তা বুঝিয়ে দেওয়াই ভিডিওটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক। বেশ কয়েক মিটার দূরে আবর্জনা রাখার একটি পাত্র বসিয়ে তিনটি বলে তিনটি কিক নেন মেসি। প্রতিবারই বল বাঁক নিয়ে পড়েছে পাত্রটির ভেতর। প্রথম শটের চেয়ে দ্বিতীয় শটের ক্ষেত্রে পাত্রটা বেশি দূরে ছিল। দ্বিতীয়টির চেয়ে তৃতীয় শটের ক্ষেত্রে পাত্র আরও দূরে রাখা হয়।

বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে প্রতিবারই বল পাত্রস্থ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। যে বলে কিক নিয়েছেন মেসি, সেটি কাতার বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘আল-রিহলা।’ শট নেওয়া শেষে দর্শকদের প্রতি হাত নাড়ান মেসি। এরপর ক্যামেরায় তাঁর বুট দেখানো হয়।

তবে দর্শক পড়েছেন দ্বিধায়। ভিডিওতে মেসি আসলেই প্রতিটি শটে বল পাত্রের ভেতরে রাখতে পেরেছেন নাকি এটি বানানো—এ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত ভিডিওটি দেখা দর্শক। বেশির ভাগই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মেসিকে।

তবে বিশ্বাস করতে না পারা এক ব্যক্তি মন্তব্যে কোনো রাখঢাক না রেখেই লিখেছেন, ‘সে অসাধারণ। তবে ভিডিওটি বানানো।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘ডেভিড বেকহামের মতো এটাও বানানো ভিডিও।’

২০১১ সালে পেপসি একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার বেকহামকে দিয়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্তা মনিকা সৈকতে বেকহামও বেশ দূর থেকে কয়েকটি কিক নিয়ে প্রতিবারই বল একটি ঝুড়িতে ভরেছিলেন।

ভিডিওটি পেপসি তাদের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও সমর্থকেরা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যম জানায়, ভিডিওটি বানানো ছিল।

একই ঘটনা ঘটেছে রোনালদিনিওর একটি বিজ্ঞাপনেও। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি বার্সেলোনায় খেলার সময় ২০০৫ সালে তাঁকে দিয়ে একটি বিজ্ঞাপন বানায় ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকি। সেটি ছিল ক্রসবার চ্যালেঞ্জ।

রোনালদিনিও প্রতিটি শট ক্রসবারে মারার পর বলটি নিখুঁতভাবে তাঁর কাছেই ফিরে এসেছে। বল বুক দিয়ে রিসিভ করে আবারও শট নিয়েছেন রোনালদিনিও, প্রতিবারই ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছে বুকে, একবারও মাটিতে পড়েনি! ইউটিউবে এক মিলিয়ন ভিউ পাওয়া প্রথম ভিডিও এটাই। তবে ‘ব্লিচার রিপোর্ট’ পরে জানিয়েছিল, এটাও বানানো—অর্থাৎ, ফেইক ভিডিও।

মেসির ভিডিওর ক্ষেত্রে অ্যাডিডাস অবশ্য সত্য-মিথ্যা কিছু দাবি করেনি। মেসির ইনস্টাগ্রাম-পোস্টে অ্যাডিডাসের মন্তব্যটি খুশি করবে আর্জেন্টাইনের সমর্থকদের। সর্বকালের সেরাসূচক ‘গোট’ (ছাগলের ইমো) লিখে প্রশংসা করেছে অ্যাডিডাস। ২০০৬ সাল থেকে অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মেসি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন