default-image

মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন একের পর এক চোখধাঁধানো সেভ করছেন, আঁতোয়ান গ্রিজমান-ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংরা গোলের উল্লাসে মেতে উঠছেন, আর তিনি মাঠের বাইরে মাস্ক পরে বসে। মাঝে ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যখন অতিরিক্ত সময় শুরু হবে, সতীর্থদের এসে বেশ উজ্জীবিত করতে দেখা গেল তাঁকে।

গত বুধবার স্প্যানিশ সুপারকোপার সেমিফাইনালে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচে এ-ই ছিল লিওনেল মেসির ভূমিকা। দলের গোলে উল্লাসে মেতেছেন, গোল খেলে হতাশ হয়েছেন, জয়ের পর উদ্‌যাপনও করেছেন, কিন্তু মাঠে নামা হয়নি তাঁর। কেন? স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বার্সেলোনার ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের চোট। কী চোট, কবে ফিরতে পারবেন? তা নিয়েই যত ধোঁয়াশা। বার্সেলোনাও কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে না, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমেও মিলছে নানা খবর।

আগামী রোববার স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে মেসি খেলবেন কি না, তা নিয়েও হ্যাঁ-না দুই উত্তরই শোনা যাচ্ছে!

বিজ্ঞাপন

এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বেশ উত্থান-পতনে সময় কাটছে মেসির। মৌসুমের শুরু থেকে প্রতিপক্ষ গোলের সামনে তাঁর ফর্ম নিয়ে ছিল আলোচনা। গোল যা-ও করছিলেন, তার বেশির ভাগই তখন ছিল পেনাল্টি থেকে। এর সঙ্গে মৌসুমের আগেই আগস্টে তাঁর বার্সা ছাড়তে চেয়ে বুরোফ্যাক্স পাঠানো ও তার পরের নাটক নিয়ে আলোচনা তো ছিলই। প্রশ্নও ছিল, চুক্তিসংক্রান্ত জটিলতায় বার্সা ছাড়তে না পারা মেসির মন কি বার্সায় আছে?

default-image

নতুন বছরের শুরু থেকে অবশ্য মেসি বেশ ভালো খেলছেন, ৩ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। বার্সাও দারুণ খেলছে। অবশ্য এ আর আশ্চর্য কী! মেসির ফর্মের সঙ্গে বার্সার ভালো খেলা না খেলা তো সমানুপাতিকই! মেসিকেও মাঠে হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।

কিন্তু চোটের যেন সেটা সহ্য হলো না। গত মৌসুম থেকেই মেসি একটু-আধটু চোট নিয়ে খেলে যাচ্ছিলেন, এই মৌসুমের শুরু থেকে তাঁর ফর্মের উত্থান-পতনের একটা বড় কারণ মানা হয় এভাবে চোটকে সঙ্গী করে খেলাকেও। গত ৩০ ডিসেম্বর লিগে এইবারের বিপক্ষে ম্যাচেও চোটের কারণে খেলেননি মেসি। এরপর যা-ও তিনটা ম্যাচ খেলেছিলেন, গত পরশু আর খেলা হলো না।

গ্রানাদার বিপক্ষে লিগে বার্সেলোনার সর্বশেষ ম্যাচেই ৬৫ মিনিটে মেসিকে তুলে নেন বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমান। এরপর মঙ্গলবার অনুশীলনে চোটের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সোসিয়েদাদের বিপক্ষে আর তাই মেসিকে বেঞ্চেও রাখেননি কোমান। তা টের স্টেগেনের চোখধাঁধানো নৈপুণ্যে আর পেনাল্টি–ভাগ্যে সেই ম্যাচটা তো জিতেছে বার্সা, উঠে গেছে সুপারকোপার ফাইনালে। রোববার সেই ফাইনালে খেলবেন মেসি? উত্তর অজানা।

default-image

স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা লিখেছে, গ্রানাদার বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচেও মেসির খেলা সংশয়ে ছিল। কিন্তু ম্যাচের আগে তাঁর অবস্থা ভালো মনে হওয়ায় তাঁকে খেলানো হয়। সেদিন ৬৫ মিনিটে মেসিকে উঠিয়ে নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে কোমান বলেছিলেন, মেসির বাঁ পায়ে পাওয়া চোটটা অত গুরুতর নয়। কিন্তু পরের দিন অনুশীলনে চোটের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে আর অনুশীলনে ফেরেননি মেসি। আজ শুক্রবার বার্সেলোনার অনুশীলন আছে, সেটিতে মেসির থাকা না থাকা হয়তো রোববার তাঁর খেলা না খেলার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব রাখবে।

বার্সেলোনাভিত্তিক স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্তের সুর গত দুদিনে কিছুটা বদলেছে। গতকাল পত্রিকাটি লিখেছিল, বার্সার ড্রেসিংরুম ভাবছে, রোববার ফাইনালে মেসির খেলার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আজ আবার স্পোর্ত লিখেছে, মেসিকে ঘিরে ‘কিছুটা আশা’ তৈরি হয়েছে বার্সায়।

বিজ্ঞাপন

মাদ্রিদভিত্তিক দৈনিক এএসের সাংবাদিক হাভি মিগেল আজ জানিয়েছেন, আজ মেসির পায়ে আলট্রাসাউন্ড টেস্ট করা হয়েছে, তাতে তাঁর বাঁ পায়ের ফেমোরাল বাইসেপে হালকা চিড় ধরা পড়েছে। রোববার মেসির খেলার সম্ভাবনা এখনো বার্সা নাকচ করে দেয়নি বলেই জানিয়েছেন হাভি মিগেল, তবে তাঁর খেলা নিয়ে বড় সংশয় আছে। মেসি নিজেও এখনো রোববার খেলার আশা ছেড়ে দেননি বলে জানাচ্ছেন মিগেল।

মিগেলের তথ্য অনুযায়ী, সেভিয়ার মাঠে হতে যাওয়া ম্যাচটি সামনে রেখে দলের সঙ্গে সেভিলে যাবেন মেসি। সেখানে অনুশীলন সেশনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। যদি অনুশীলনে নামতে পারেন এবং অনুশীলন করতে তাঁর অসুবিধা না হয়, সে ক্ষেত্রে খেলার সম্ভাবনা বাড়বে। যেকোনো সিদ্ধান্তই ম্যাচের আগে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মিগেল।

তা সুপারকোপা তো এক অর্থে মৌসুমে সব কটি শিরোপার মধ্যে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ, তাতে মেসির খেলা না খেলা নিয়ে তাঁর ভক্তরা কতটা চিন্তিত থাকবেন, কে জানে। তবে মেসির এভাবে বারবার চোটে পড়া, তা নিয়ে বার্সার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো, চোট নিয়ে খেলে যাওয়া...মেসিভক্তদের এসব ভাবাবে বৈকি!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন