default-image

লিওনেল মেসি, আনতোনেল্লা রোকুজ্জো, থিয়াগো, মাতেও ও চিরো—এরাই তো মেসির পরিবারের সদস্য। কথাটা আংশিক ভুল। আরও এক সদস্য আছেন।

মেসি পরিবার তার ওপর আস্থা রাখে। সে একদিকে যেমন বিশ্বাসী বন্ধু, অন্যদিকে বাড়ির পাহারাদার। মেসি-রোকুজ্জোর আদরের ‘সিনর হাল্ক’।

বিজ্ঞাপন

হাল্ক—নামটা পরিচিত লাগাই স্বাভাবিক। মারভেল কমিকসের এই সুপারহিরোকে কে না চেনে! কমিক চরিত্র হাল্ক গায়ে-গতরে দেখতে যেমন, মেসির এই হাল্কও তেমনি—অন্তত ‘মাস্টিফ’ জাতের কুকুরের দৈহিক গড়ন বিচারে তো বটেই।

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। প্রাণিজগতে মানুষের সবচেয়ে বিশ্বাসী এক বন্ধুকে আপন করে নিয়েছেন মেসি—তাঁর বাসার পোষা কুকুরই এই সিনর হাল্ক।

default-image

শুধু মেসি নন, অনেক তারকা ফুটবলার কুকুর পুষে থাকেন। নেইমারের ‘ল্যাব্রাডর’ জাতের পোষা কুকুরের নাম পোকার। মেসুত ওজিলেরটা ‘বালবোয়া’—সম্ভবত ‘রকি’ সিনেমার চরিত্র ‘রকি বালবোয়া’ নামের সঙ্গে মিল রেখে রেখেছেন।

অ্যালেক্সিস সানচেজের ‘অ্যাটম ও হাম্বার’, মারিও বালোতেল্লির ‘লুইগি ও বাউজার’, মেম্ফিস ডিপাইয়ের ‘সিম্বা’—সম্ভবত ডিজনির ‘দ্য লায়ন কিং’-এর চরিত্র সিম্বার সঙ্গে মিল রেখে। মার্সেলোর কুকুর নিউফাউন্ডল্যান্ড জাতের, নাম তার ‘লোলা’।

বিজ্ঞাপন

মেসির চার পেয়ে সঙ্গীর ব্যাপারে ফেরা যাক। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড যেহেতু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার, সে কারণে ভক্তরা তাঁর সব খোলনলচে জানতে চাইবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

তাই মেসির কুকুর নিয়েও আগ্রহ না থাকাটাও অস্বাভাবিক। তাঁর কুকুরটি ‘ডগি ডি বোর্দো’ জাতের। অনেকে বলেন বোর্দো মাস্টিফ বা ফ্রেঞ্চ মাস্টিফ—ফ্রান্সের সবচেয়ে পুরোনো কুকুরের জাতগুলোর একটি।

default-image

একসময় অভিজাত ইউরোপিয়ানদের দুর্গে পাহারাদার হিসেবে এসব জাতের কুকুর দেখা যেত। কিংবা গৃহপালিত প্রাণীদের পাহারা দিয়ে রাখা, ভারী মাল টানার ক্ষেত্রেও এ জাতের কুকুর ব্যবহার করা হয়।

আকার, পেশিবহুল শরীর ও ভীষণ শক্তির জন্য মাস্টিফ জাতের কুকুর খ্যাতি কুড়িয়েছে। এ জাতের কুকুরের লোম ছোট ছোট, লালচে এবং মাথাটা বেশ বড় হয়ে থাকে। মুখের সামনের অংশ তোবড়ানো। তবে দাঁত খিঁচিয়ে তেড়ে এলে ভয়ংকর লাগে।

default-image

টম হ্যাংকসের ভক্ত হয়ে থাকলে এই মাস্টিফ জাতের কুকুর অপরিচিত লাগার কথা নয়। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টার্নার অ্যান্ড হুচ’ সিনেমায় হ্যাংকসের সঙ্গে অভিনয় করেছিল এমন মাস্টিফ কুকুর। গোয়েন্দা টম হ্যাংকসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিল ‘ডগি ডি বোর্দো’ হুচ।

মেসির পোষা কুকুরের গড়ন দেখলেই বোঝা যায় কেন তার নাম হাল্ক। ২০১৮ সালে মেসির স্ত্রী রোকুজ্জো ইনস্টাগ্রামে সিনর হাল্কের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। তখন কুকুরটির বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। যদিও গড়ন দেখে মনে হবে আরও পরিণত ও বয়স্ক।

বিজ্ঞাপন

সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ি লাগোয়া উঠানের মতো মাঠে বল নিয়ে কসরত করছেন মেসি। কুকুরটি বল ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু যতবার চেষ্টা করছে ততবারই ব্যর্থ হতে হচ্ছে মেসির দক্ষতার কাছে।

বারবার হাল্কের মাথার ওপর দিয়ে বলটা চিপ করে ফাঁকি দিচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। মেসির ঘরে হাল্ক আসার আগে ছিল ‘টবি’—পুডল জাতের এ কুকুর আকারে বেশ ছোট।

default-image

হাল্ক মেসির ঘরে এসেছে ২০১৬ সালে। রোকুজ্জো উপহার দিয়েছিলেন মেসিকে। বার্সা তারকা তখন ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তা জানিয়েছিলেন, ‘পরিবারের নতুন সদস্য। এই সুন্দর উপহারের জন্য তোমায় ধন্যবাদ ভালোবাসা।’

এরপর হাল্ক এত দ্রুত বেড়ে উঠেছে যে তার পাশে মেসি দাঁড়ালে অনেকে হয়তো মজা করে বলতে পারেন, দেখতে তো মেসিকেই ছোট লাগছে!

মন্তব্য পড়ুন 0