default-image

এমনিতে কিন্তু লিওনেল মেসিকে নিয়ে বড়াই করার মতো উপলক্ষ কম নেই তাঁর ভক্ত-সমর্থকদের। মাত্র ২৪-২৫ বছর বয়সেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরাদের সঙ্গে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। যে খেলোয়াড়টি একের পর এক রক্ষণ-বাধা পেরিয়ে যান অপার মুগ্ধতায়, সেই খেলোয়াড় পেনাল্টির সামনে এমন অসহায় বোধ করেন কেন? গোল আর মেসি যেমন প্রায়-সমার্থক শব্দ, ঠিক তেমনি মেসির সঙ্গে ‘পেনাল্টি মিস’ শব্দটিও প্রায় একাকার। বিষয়টা পৃথিবীর তাবৎ মেসি-ভক্তকে ফেলেছে নিদারুণ দুশ্চিন্তায়। মেসির কাছেও ব্যাপারটি যেন এক সমাধান-অযোগ্য রহস্য হয়েই দেখা দিয়েছে।
এক বছর ধরেই বারবার পেনাল্টি মিসের মহড়া দিয়ে চলেছেন লিওনেল মেসি। পেনাল্টি মিসের ইতিহাস অব্যাহত রাখলেন গত রাতেও। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটির ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন মেসি। এ সময় জাবালেতার ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় কাতালানরা। সিটি গোলরক্ষক জো হার্ট দুর্দান্ত এক ডাইভে ফিরিয়ে দেন মেসির নেওয়া সেই পেনাল্টি শটটি। অবশ্য গোল হওয়ার সম্ভাবনা এর পরও ছিল। হার্টের ফেরানো বলটি চলে এসেছিল মেসির কাছাকাছিই। হেডও করেছিলেন, কিন্তু বলটি মাঠের বাইরে উড়ে যায় গোলপোস্টকে অনেক দূরে রেখেই। পেনাল্টি মিসের হতাশা থেকেই কি না, বলে আর মনোযোগ রাখতে পারেননি মেসি।
কালকের ম্যাচের প্রথমার্ধেই জোড়া গোলের মালিক বনে যান উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। তাঁর দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান মেসির। তবুও মনে হলো মেসির পেনাল্টি মিসে বেশ বিরক্ত সুয়ারেজ। তা অবশ্য তিনি হতেই পারেন। পেনাল্টি শটটি নেয়ার সুযোগ তাঁকে দেওয়া হলে হয়তো বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর ব্যক্তিগত হ্যাটট্রিকের অভিষেকটা হয়েই যেত। ম্যাচ শেষে অবশ্য একটু অন্য রকমভাবে ব্যক্ত করলেন নিজের প্রতিক্রিয়া, ‘পেনাল্টি থেকে গোলটি পেলে আমরা ৩-১ ব্যবধানে জিতে যেতাম। সেটা আমদের জন্য আরও স্বস্তির হতো। পরের লেগে সিটির জন্য ফিরে আসাটা কষ্টসাধ্য হতো।’ তবে রেকর্ডমূল্যে বার্সায় আসা সুয়ারেজ নিজের গোল দুটি নিয়ে যথেষ্ট খুশি।
মেসি সর্বশেষ সাতটি স্পটকিকের চারটিই পারেননি জালে পাঠাতে। এই মৌসুমে পেনাল্টি মিস করেছেন তিনটি। তবে বার্সা কোচ লুইস এনরিকে অবশ্য এতে বিচলিত নন মোটেও। পেনাল্টি শট নেয়ার ক্ষেত্রে এখনো এনরিকের চোখে তাঁর দলের সেরা খেলোয়াড় মেসি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তিনি মেসির ওপর আস্থা রাখবেন—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন।
ক্লাবের হয়ে এ পর্যন্ত ১২টি পেনাল্টি মিস করেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে জার্মানি ও ব্রাজিলের বিপক্ষে আরও দুটো। কিন্তু তাঁর পেনাল্টি মিসের যে রহস্যটা দিনে দিনে আরও ঘনীভূত হচ্ছে, এই রহস্যের জট খুলবে কীভাবে? মাঠের এ মাথা থেকে ও মাথা অবধি দৌড়ে, প্রতিপক্ষের একের পর এক খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে মোহনীয় সব গোলের জন্মদাতা তিনি। কিন্তু ১২ গজের সামনে থেকে একমাত্র বাধা যখন গোলরক্ষক, তখন কেন গোলের জাদুকর ভুলে বসেন তাঁর সব জাদুমন্ত্র—এ রহস্যের কিনারা করা বড্ড কঠিন। তাঁর দক্ষতা কিংবা গোল করার সামর্থ্য নিয়ে তো সন্দেহ নেই কারও। বাধাটা কি তাহলে মানসিক? তবে যেটাই হোক। একদিন পেনাল্টি-ভূত তিনি নিশ্চয়ই ঘাড় থেকে নামাতে পারবেন।
এই ভূত মেসির ঘাড়ে যে বড্ড বেমানান!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন