ভিএআর প্রযুক্তি বাতিল করে দেয় মেসির গোল
ভিএআর প্রযুক্তি বাতিল করে দেয় মেসির গোলছবি: এএফপি

পুরো নব্বই মিনিটই খেললেন মেসি। মাঝে মধ্যে যোগ্য অধিনায়কের মতো দলের খেলোয়াড়দের পরামর্শ-নির্দেশনাও দিতে দেখা গেল। কিন্তু মেসির কাছ থেকে যে জিনিসটা প্রায় নিয়মিতই দেখা যায়, সেই ভালো খেলাটাই দেখা গেল না আজ।

বল পায়ে বেশ নিষ্প্রভ থাকলেন বার্সেলোনা তারকা। আর তাতে ক্ষতি হলো সেই আর্জেন্টিনারই। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। মেসিদের হয়ে গোল করেছেন জার্মান ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্টের উইঙ্গার নিকোলাস গঞ্জালেজ।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই গঞ্জালেজের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ম্যাচের আগে বেশ আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে ডান পায়ের চোটটা বেশ ভোগাচ্ছে আয়াক্সের লেফটব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে।

এই তারকা না থাকায় আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ফাকুন্দো মেদিনার মতো বিকল্প কোনো লেফটব্যাক না নামিয়ে সরাসরি ছকই বদলে ফেললেন দলের। আর্জেন্টিনা মাঠে নামল ৩-৪-২-১ ছকে লেফট উইংব্যাক হিসেবে খেলা শুরু করলেন গঞ্জালেজ।

default-image

কোচের সিদ্ধান্ত যে তেমন ভুল কিছু ছিল না, তার প্রতিদান দিয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রথম গোল করে। ৪১ মিনিটে টটেনহামের মিডফিল্ডার জিওভান্নি লো চেলসোর কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি।

তবে এর আগেই প্যারাগুয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে নিজেদের গুছিয়ে নিতে একটু সময় নেয় আর্জেন্টিনা। ঐ সময় প্যারাগুয়ে দুর্দান্ত খেলে ব্যস্ত রাখে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। তারই ফল মেলে ২১ মিনিটে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সদ্য করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া ফিওরেন্তিনার সেন্টারব্যাক লুকাস মার্তিনেজ কার্তা ডি-বক্সে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় প্যারাগুয়ে। আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোতে খেলা ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার অ্যানহেল রোমেরো পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

কিন্তু গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টিনা নিজেদের আস্তে আস্তে গুছিয়ে নেওয়া শুরু করে। আর আর্জেন্টিনার এই গোছানো খেলার পেছনে আজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন লো চেলসো। যদিও মূল একাদশে তিনি ছিলেন না।

default-image

মিডফিল্ড জুটি হিসেবে কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রথম পছন্দ ছিল বায়ার লেভারকুসেনের এজেকিয়েল পালাসিওস ও পিএসজির লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ২৯ মিনিটে পেছন থেকে অ্যানহেল রোমেরোর কড়া এক ট্যাকলের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পালাসিওসকে।

এমন এক ট্যাকলে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে রেফারি কেন রোমেরোকে লাল কার্ড দেখাননি, আলোচনার সুযোগ থেকেই যায়। পরে পালাসিওসের জায়গায় মাঠে নেমে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের করে নেন লো চেলসো।

default-image

তবে ভিএআর যে একেবারেই উধাও ছিল ম্যাচে, তা কিন্তু নয়। আর্জেন্টিনার একটি গোল বাতিল হয়েছে ভিএআরের কারণে। লো চেলসোর আরেকটি দুর্দান্ত পাসে করা মেসির গোল শেষমেশ টেকেনি। কেন?

কারণ পরে দেখা গেছে গোল হওয়ার পথে মাঠের বাঁ প্রান্তে নিজেদের অর্ধে নিকোলাস গঞ্জালেজ ফাউল করেছিলেন রোমেরোকে। সে ফাউলের পর ২৭ সেকেন্ড পার হয়ে যাওয়ার পর, আট-নয়টা সফল পাস দিয়ে আক্রমণ রচনা করার পর, লো চেলসোর পাসে মেসির গোলের পর রেফারির হুঁশ হয় গোল তৈরির সময় ফাউল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

পরে আর্জেন্টিনা এমন আক্রমণ আর করতে পারেনি। শেষমেশ এই বাতিল হওয়া গোলটাই আক্ষেপ বাড়িয়েছে আর্জেন্টিনার। আক্ষেপ বাড়িয়েছে ৭২ মিনিটে ক্রসবারে লাগা মেসির ফ্রি-কিকটাও। এই দুই সময় বাদে মেসিকে বলতে গেলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাকি সময় নিষ্প্রভই কাটিয়েছেন। গোটা ম্যাচে বল হারিয়েছেন ২৭ বারের মতো, ৭টা ক্রস করতে গিয়ে একবারও সফল হননি।

আর মেসির নিষ্প্রভ থাকা মানে অধিকাংশ সময়ে যে আর্জেন্টিনারও নিষ্প্রভ থাকা, এটা না বললেও চলে!

মন্তব্য পড়ুন 0