মেসি ও ক্রেসপো (ডানে) যখন দুজন সতীর্থ ছিলেন।
মেসি ও ক্রেসপো (ডানে) যখন দুজন সতীর্থ ছিলেন। ছবি : এএফপি

বার্সেলোনার ওপর দিয়ে কী একটা ঝড়ই না বয়ে গেল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে!

মেসি জানালেন তিনি চলে যাবেন। বার্সা জানাল তাঁকে ছাড়বে না। মেসির বাবা এলেন দৃশ্যপটে। এরপর কোথায় মেসির বার্সা ছাড়ার ইচ্ছাটা গতি পাবে মনে হচ্ছিল, উল্টো আইনি ঝামেলার সম্ভাবনা দেখে পিছু হটলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। প্রিয় ক্লাব ছাড়তে চাওয়া ক্লাবের অব্যবস্থাপনার প্রতি ক্ষোভে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে ক্লাবটাকে আদালতের দোরগোড়ায় মেসি নিতে চান না।

কিন্তু দশ দিন ধরে বয়ে চলা এই ঝড়ের শেষটা যে মেসির অনিচ্ছায় এই বোর্ডের অধীনে আরও এক মৌসুম থেকে যাওয়া, এতে একটা পক্ষের দায় দেখছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির সাবেক সতীর্থ হার্নান ক্রেসপো। সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের চোখে, মেসির বাবার জায়গায় পেশাদার কেউ মেসির এজেন্ট হলে হয়তো মেসি বার্সা ছাড়তে পারতেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত ২৫ আগস্ট ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকে বুরোফ্যাক্স দিয়ে লিওনেল মেসি জানিয়ে দিলেন ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কথা। কারণ, মেসির দাবি, এর আগে সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ মৌখিকভাবে অনেকবার বলেছেন, মেসি চাইলেই মৌসুম শেষে কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ক্লাব ছাড়তে পারবেন। মেসির ব্যুরোফ্যাক্সের পর পালটে গেল দৃশ্যপট, বার্তোমেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন, ৭০ কোটি ইউরো ছাড়া মেসিকে ছাড়া হবে না। লিগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের সম্ভাব্য প্রস্থানের খবরে ভীত হয়ে বার্তোমেউর সঙ্গে গলা মেলাল লা লিগা কর্তৃপক্ষও।

অবস্থা সামলাতে মেসির বাবা হোর্হে এলেন বার্তোমেউর সঙ্গে কথা বলতে। বিমানবন্দরে নেমেই জানালেন, মেসির বার্সায় থাকা ‘অসম্ভব।’ নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বললেন। সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, মেসির চুক্তির এই বছরে ৭০ কোটি রিলিজ ক্লজ নেই। বার্তোমেউ যা বলেছেন, তাঁর মধ্যে সত্যতা নেই।

বিজ্ঞাপন
পেশাদার কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলা আর নিজের বাবার সঙ্গে কথা বলা এক না।
হার্নান ক্রেসপো, সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার

কিন্তু বার্তোমেউর সঙ্গে মেসির বাবার মিটিংয়ের পর কী হলো কে জানে, ভোজবাজির মতো বদলে গেল সবকিছু। জানা গেল, বার্সা ছাড়ছেন না মেসি। পরে গোল ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ক্লাব সভাপতিকে বিঁধেন প্রতারণার দায়ে, জানিয়ে দেন, প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে আদালতপাড়ায় লড়াই করার ইচ্ছে নেই, তাই এ বছর ক্লাব ছাড়বেন না।

গোটা ব্যাপারটাকে সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান ক্রেসপো দেখছেন একটু ভিন্নভাবে। মেসির সঙ্গে ২০০৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে খেলা এই তারকা মনে করেন, আজ মেসির মুখপাত্র হিসেবে তাঁর বাবা না থেকে পুরোদস্তুর পেশাদার কেউ থাকলে, ক্লাব ছাড়া নিয়ে এত জলঘোলা করতে হতো না মেসির।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রেসপো বলেন, ‘এখানে ব্যাপারটা হলো, হোর্হে মেসির প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি, আমার কাছে মনে হয়ে এমন অবস্থায় পাশে একজন অভিজ্ঞ ও পেশাদার মুখপাত্রের দরকার হয়। পেশাদার কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলা আর নিজের বাবার সঙ্গে কথা বলা এক না।'

বিজ্ঞাপন

বাবা এজেন্ট হলে কী ঝামেলা হয়, সেটিও বললেন ক্রেসপো, 'বাবার সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিবারের চিন্তাভাবনা, আবেগ চলে আসবেই। একজন পেশাদার মুখপাত্র কখনই পরিবার ও ব্যক্তিগত আবেগকে পেশাদারিত্বের মধ্যে আনবে না। আর এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন পেশাদার মুখপাত্র আবশ্যক।’

প্রসঙ্গত, শুধু নেইমার ও লিওনেল মেসি ছাড়া, বিশ্বের প্রায় সব তারকাই পেশাদার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছেন নিজের মুখপাত্র হিসেবে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মুখপাত্র যেমন পর্তুগিজ ‘সুপার এজেন্ট’ হোর্হে মেন্দেস। এই মেন্দেসের অধীনে আছেন জোসে মরিনিও, দাভিদ দে হেয়া, জোয়াও ফেলিক্স, দিয়েগো কস্তা, হামেস রদ্রিগেজ, বের্নার্দো সিলভার মতো একাধিক তারকা। ওদিকে আরেক সুপার এজেন্ট মিনো রাইওলার অধীনে আছেন ইব্রাহিমোভিচ, মারিও বালোতেল্লি, পল পগবা, জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা, রোমেলু লুকাকুর মতো তারকারা।

মন্তব্য পড়ুন 0