বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ক্যারিয়ারের এতগুলো বছর একটা ক্লাবে কাটিয়ে শেষবেলায়, ৩৪ বছর বয়সে এসে হঠাৎ ক্লাব বদলানো মেসির পিএসজিতে আলো ছড়াতে না পারার কারণ বলে অনুমান অনেকের। ফ্রান্সের লিগে ফুটবলটা গা-জোয়ারি, সেটিও মেসির মানিয়ে উঠতে সময় লাগার একটা সম্ভাব্য কারণ। আগস্টে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার পর এ চোট। চোটে মাঠে টানা খেলতে পারেননি, সেটিও একটি কারণ হতে পারে। সুয়ারেজের কথার পর এর সঙ্গে প্যারিসের ঠান্ডাকেও হিসাবে ধরতে হবে।

মেসির সঙ্গে বার্সেলোনায় ২০১৪ সাল থেকে ছয় বছর মাঠে আলো ছড়িয়েছেন সুয়ারেজ। তার প্রথম তিন বছরে দুজনের সঙ্গে নেইমারও মিলে বার্সার স্বপ্নের ‘ত্রয়ী’ও গড়ে তুলেছিলেন। মাঠের বাইরেও নেইমার আর সুয়ারেজের সঙ্গে মেসির বন্ধুত্ব অন্য অনেক ফুটবলারের কাছে ঈর্ষণীয়। সেই সুয়ারেজ যখন মেসির ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণ বলেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হয়।

টিএনটি স্পোর্টসে সুয়ারেজ বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই কথা হয়। বাইরের মানুষের প্রত্যাশার চাপ আমরা সব সময়ই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কারণ, আমরা পেশাদার খেলোয়াড় এবং আমরা জানি, এসব মুহূর্তে কী করতে হয়।’ তা কী নিয়ে কথা হয় মেসি আর সুয়ারেজের?

৩৪ বছর বয়সী উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের কথায় বোঝা গেল, প্যারিসে ঠান্ডার কথাটা মেসিই তাঁকে জানিয়েছেন, ‘আমরা ম্যাচ নিয়ে কথা বলি। পরিবার নিয়ে কথা বলি। ও আমাকে বলেছে, যখন ও ঠান্ডার মধ্যে খেলে, তখন বরফের কারণে ওকে ভুগতে হয়। সেখানে ঠান্ডা আবহাওয়া যেমনই হোক, সেটার সঙ্গে তো মানিয়ে নিতেই হবে।’

মেসির পারফরম্যান্স বলে, এখন পর্যন্ত সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেননি মেসি। বার্সেলোনার জার্সিতে বছরের শুরু থেকে জুন পর্যন্ত আগুনে ফর্মে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, কিন্তু আগস্টে পিএসজিতে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রথম ১২ ম্যাচে গোল করেছেন ৪টি, করিয়েছেন ৩টি। মরিসিও পচেত্তিনোর কৌশলে পিএসজির ফুটবলটাই ছন্নছাড়া, মেসির ফুটবলও সেখানে বারুদভেজা।

default-image

বার্সেলোনার জার্সিতে বছরের পর বছর মেসি চোখ ধাঁধিয়ে চলার সময়েই তাঁকে নিয়ে ফোড়ন কাটতেন অনেকে এই বলে যে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেভাবে ইংল্যান্ডেও আলো ছড়িয়েছেন, মেসি হয়তো সেভাবে পারতেন না। ইংল্যান্ডের ঠান্ডা আবহাওয়া, বৃষ্টিভেজা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশকে তখন একটা কারণ হিসেবে দেখানো হতো।

এ নিয়ে হাস্যরসে একটা মন্তব্যই বেশ বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল, ‘ক্যান হি ডু ইট অন আ কোল্ড রেইনি নাইট অ্যাট স্টোক?’ ইঙ্গিত, একটা সময়ে গা-জোয়ারি ফুটবলের ‘প্রতিশব্দ’ বনে যাওয়া স্টোক সিটির মাঠে বৃষ্টিভেজা রাতে মেসি কতটা কী করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় আছে।

প্যারিসের ঠান্ডায় মেসির ভুগতে হওয়ার খবরের পর কৌতুকটা ফরাসিতে ভাষান্তরিত হয়ে হয়তো আবার বাজারে ফিরবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন