মেসির ব্যাপারে চুপ কেন বার্সেলোনা তারকারা?

মেসিকে নিয়ে কথা বলছেন না বার্সেলোনার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই
মেসিকে নিয়ে কথা বলছেন না বার্সেলোনার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ইছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

ব্যাপারটা চোখ এড়ায়নি কারওরই। লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন আর তাঁর সতীর্থরা একেবারে চুপ! অন্য অনেক বিষয় নিয়েই জেরার্ড পিকের মতামত থাকলেও মেসিকে নিয়ে একটা শব্দও তিনি খরচ করেননি। সেই ‘লা মাসিয়া’ থেকে পিকে-মেসির বন্ধুত্বের শুরু। আর্জেন্টাইন তারকার সবচেয়ে কাছের যে কয়জন আছেন বার্সেলোনায়, তাঁদের মধ্যে পিকে একজন। অথচ, প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার উপক্রম, অথচ তাঁর কিছুই বলার নেই।

কেবল পিকে কেন, সার্জিও বুসকেটস, সার্জি রবার্তোরাও তো মেসির কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তারাও পিকের মতোই চুপ করে আছেন। এই যে বার্সেলোনা-মেসির টানাপোড়েন, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের একটুও ছুঁয়ে যাচ্ছে না!

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যুরো ফ্যাক্সের মাধ্যমে যেদিন মেসি বার্সাকে বললেন তাঁকে ছেড়ে দিতে, সেদিন প্রথম যে কয়জন তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা কার্লেস পুয়োল। মজার ব্যাপার হচ্ছে টুইটারে পুয়োল যে পোস্টটা দিয়ে মেসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, তাতে একটি হাততালির ইমোটিকন দিয়ে লুইস সুয়ারেজ জানিয়ে দিয়েছিলেন, মেসির সিদ্ধান্তটা ঠিকই আছে বা মেসির সিদ্ধান্তে তাঁর সমর্থন রয়েছে।

আর্তুরো ভিদালও মেসির সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সুয়ারেজ কিংবা ভিদালরা এখন বার্সেলোনায় দিন গুনছেন। নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সুয়ারেজকে ফোন করেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর পরিকল্পনায় তিনি নেই। ভিদালকেও যে বার্সা নতুন মৌসুমে রাখছে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। সে কারণেই হয়তো সুয়ারেজ আর ভিদাল যদি মেসির চলে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন, কিংবা তাতে সমর্থন দেন, তাহলে সেটি আলাদাভাবে দেখবে না বার্সা সমর্থকেরা। তবে পিকে, বুসকেটসদের ক্ষেত্রে চুপ করে থাকাটা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

কেবল পিকেই নন, সার্জিও বুসকেটস, সার্জি রবার্তোরাও তো মেসির কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তারাও পিকের মতোই চুপ করে আছেন। এই যে বার্সেলোনা-মেসির টানাপোড়েন, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের একটুও ছুঁয়ে যাচ্ছে না!
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বোধগম্য কারণেই হয়তো এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না তাঁরা। সেটি হতে পারে বার্সেলোনা ক্লাবের প্রতি তাঁদের আনুগত্য কিংবা কিংবা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলে তাঁরা তাতে ঘৃতাহুতি দিতে চাচ্ছেন না। আতোয়াঁ গ্রিজমান কিংবা জর্ডি আলবারা তো নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের একটি প্রতিবেদনে কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য রয়েছে। মেসি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবরে নাকি বার্সেলোনার তরুণ খেলোয়াড়েরা অন্যরকম ভাবছেন। এটি যে তাঁদের খুব দুঃখিত করছে, ব্যাপারটা তা নয়। এর মূল কারণ মেসি বার্সেলোনায় এমনই এক মহীরূহ হয়ে উঠেছিলেন যে তরুণ বা উঠতি খেলোয়াড়েরা ক্লাবের সঠিক মনোযোগ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় থাকতেন। মেসি যত দিন বার্সায় থাকবেন, তত দিন ফুল হয়ে ফোটাটা একজন তরুণ বা সদ্য যোগ দেওয়া খেলোয়াড়ের জন্য কষ্টকর, সেটা তাঁরা বুঝতেন। কেবল তরুণেরাই নয়, এমনটি হয়তো ভাবেন অনেক সিনিয়রই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বার্সার ড্রেসিং রুম বা টিম বাসে একটা দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। কোচ বা টিম ম্যানেজার মেসিকে নিয়ে ব্যস্ত, বাকিদের দিকে কারও নজর নেই। এটা খেলোয়াড়দের অনেকেরই ভালো লাগার কথা নয়। নতুন যে খেলোয়াড়টি বার্সায় যোগ দিয়েছে, তাঁর পক্ষে তো এটা সহ্য করা আরও মুশকিল।

মেসি চলে গেলে বার্সায় তাঁর সতীর্থদের কেউ কেউ যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন—এটি যদি ভুলও হয়, তারপরেও এমন কিছু বিশ্বাস করার লোকের কিন্তু অভাব নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন