আতলেতিকোয় ছন্দেই আছেন সুয়ারেজ।
আতলেতিকোয় ছন্দেই আছেন সুয়ারেজ। ছবি: রয়টার্স

নেইমার নিজের আশার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী মৌসুমেই খেলতে চান লিওনেল মেসির সঙ্গে। এত দিন এ দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখার কথা উঠলেই জার্সিটা বার্সেলোনার বলেই বোধ হতো। তবে আগামী মৌসুমে এ দুজনকে আবার একসঙ্গে দেখা গেলে সেটা পিএসজির জার্সিতেই হয়তো দেখা যাবে। কিছুদিন ধরে প্যারিসের ক্লাবটি নানাভাবেই মেসিকে কেনার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।

গত এক দশকে ফুটবলের সেরা ত্রয়ীর কথা হলে মেসি-নেইমারের সঙ্গে আরেকটি নাম উঠে আসতে বাধ্য—লুইস সুয়ারেজ। মাত্র তিন মৌসুমে একসঙ্গে খেলেছেন তিনজন। সে সময়টাতেই তিনজনের বন্ধুত্বটা মাঠে ও মাঠের বাইরে টের পাওয়া গেছে ভালোভাবেই। ২০১৭ সালে নেইমার বার্সেলোনা ছাড়ার পর মেসি-সুয়ারেজ বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়েছে। নেইমারকে হারানো বার্সেলোনাকে আরও তিন বছর টেনেছেন দুজন। এ মৌসুমে সেটাও শেষ হয়েছে। বার্সা ছেড়ে গেছেন সুয়ারেজ।

প্রতিনিয়ত মেসি-নেইমার পুনর্মিলনীর কথা শোনা যায়। বিচ্ছেদের মাত্র ছয় মাস পেরিয়েছে বলেই হয়তো এখনো সে প্রশ্ন ওঠেনি অভাবে। কিন্তু আসলেই কি মেসি ও সুয়ারেজকে আর কখনো একসঙ্গে দেখা যাবে? সে প্রশ্নের উত্তর সুয়ারেজ নিজেই দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনা ছাড়লেও স্পেন ছাড়েননি সুয়ারেজ। শহর বদলে মাদ্রিদে গেছেন। আতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে আবারও আলো ছড়াচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে খেললেও মেসির সঙ্গে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের সম্পর্কে কোনো আঁচড় পড়েনি। এখনো যে মেসির সঙ্গে কত ভালো সম্পর্ক সেটা টের পাওয়া গেছে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে।
দুই দিন আগেই কোপা দেল রেতে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বার্সেলোনা। সে ম্যাচের পরই মেসির সঙ্গে কথা হয়েছে সুয়ারেজের, ‘আজ (গতকাল) বিকেলেই ওর সঙ্গে কথা বলেছি। গতকাল রাতের জয় নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত সে। সে দুর্দান্ত খেলছে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সে।’

default-image

এই মৌসুমেই বার্সেলোনা ছাড়তে হয়েছে সুয়ারেজকে। বন্ধুর পথে মেসিও হাঁটতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বার্সেলোনা তা হতে দেয়নি। যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছি, আগামী মৌসুমেই মেসিকে অন্য দলে দেখা যেতে পারে। মেসিকে নিজেদের জার্সিতে অবসর নিতে দেখার স্বপ্নটা তাই বার্সেলোনার পূরণ না-ও হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কি মেসি ও সুয়ারেজের পুনর্মিলনীর সম্ভাবনা আছে? সুয়ারেজ সে আশা দেখছেন না, ‘যখন ইচ্ছা তখন অবসর নেবে মেসি। এটা বার্সেলোনায় হবে, নাকি আর্জেন্টিনায় নাকি অন্য কোথাও—সে সিদ্ধান্তও মেসিই নেবে। হয়তো কোনো প্রীতি ম্যাচে আমাদের দুজনকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে।’

মেসির প্রসঙ্গে খুব বেশি কিছু না বললেও নিজের দলবদলের প্রসঙ্গে বেশ খোলামেলা কথাই বলেছেন সুয়ারেজ। এ মৌসুমে বার্সেলোনা থেকে তাঁর বিদায়টা খুব সুখকর ছিল না। বলতে গেলে ঘাড় ধাক্কা দিয়েই বের করা হয়েছে সুয়ারেজকে। বার্সেলোনা থেকে বিদায়ের ঘটনায় অনেক বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন সুয়ারেজ, ‘বার্সেলোনা যখন বলল আমাকে আর তাদের দরকার নেই, খুব কঠিন ছিল সময়টা। আমি এটা আশা করিনি। যেভাবে সেটা সামলানো হয়েছে, তাতে পুরো ব্যাপারটা অনেক কঠিন হয়ে উঠেছিল। (বার্সা কোচ রোনাল্ড) কোমান আমাকে ফোন করে বললেন, তাঁর পরিকল্পনায় আমি নেই।’

এরপরও নাটক শেষ হয়নি। প্রথমে জুভেন্টাস যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সুয়ারেজ। কিন্তু সেটা ভিসা–জটিলতায় হয়ে ওঠেনি। এরপর চেষ্টা চলে আতলেতিকোতে যাওয়ার। সেখানে যাওয়ার চেষ্টায় আবার বাধা হয়ে উঠতে চেয়েছিল বার্সেলোনা বোর্ড। কিন্তু চুক্তির শর্তের কথা সবার সামনে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েই সে বাধা কাটান সুয়ারেজ, ‘যখন বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবেই বলে দিল আমাকে তাদের আর দরকার নেই, আতলেতি, চোলো (সিমিওনে), মিগেল আনহেলের সঙ্গে কথা বলা শুরু করলাম। শুধু জুভেন্টাস নয়, অনেক ক্লাবই আগ্রহ দেখিয়েছে। আমি সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে চেয়েছি। আমার জন্য ও আমার পরিবারের জন্য যেটা ভালো হয়।’

বিজ্ঞাপন

সুয়ারেজের এভাবে দলবদলে লাভ হয়েছে আতলেতিকোর। লিগে বার্সেলোনার চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেও ১০ পয়েন্টে এগিয়ে লিগ শীর্ষে আছে দলটি। ১৪ গোল করে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে সুয়ারেজ। কোমানের কাছে অপ্রয়োজনীয় ঠেকা সুয়ারেজ এখন মহামূল্যবান এক অস্ত্র ডিয়েগো সিমিওনের কাছে। আর নিজের এমন ফর্মের পেছনে সিমিওনের অবদানই দেখেন এই উরুগুইয়ান, ‘তিনি সেসব কোচদের একজন, যিনি তাঁর ইচ্ছা, ইতিবাচক মানসিকতা এবং নিজের সর্বস্ব দিয়ে আপনার আস্থা অর্জন করেন। খেলার ধরন কেমন, সেটির চেয়েও একজন কোচ যখন কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন, সেটাতেই আস্থা রাখতে পছন্দ করি। সিমিওনে এমন এক কোচ, যিনি নিজ থেকে খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেন, অনুপ্রাণিত করেন। আমি কখনো কোচ হতে চাই না, অনেক কষ্ট করতে হয় এবং সবাইকে খুশি রাখা যায় না।’

কোচ হিসেবে যে সবাইকে খুশি রাখা যায় না, সেটা সব কোচই টের পান। বার্সেলোনা কোচ হিসেবে যেমন সমর্থকদের ভালোবাসা পাচ্ছেন না রোনাল্ড কোমান। বিশেষ করে সুয়ারেজকে কোনো সুযোগ না দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভালোই ভোগাচ্ছে কাতালানদের।

কোমানও স্বীকার করেছেন সুয়ারেজকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিজে নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ছাড়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল, ‘এটা আমার কাজের অংশ। আপনি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবেন। আমি যখন বার্সেলোনায় এসেছি, তখন আমার মতামত জানিয়েছি। আমি ক্লাব থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনাকে এসব সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। যদি সেটা কাজে লাগে তো ঠিক আছে। আর যদি ঠিক না-ও হয় অন্তত আমার পছন্দমতো সেটা হতে হবে এবং এটাই গুরুত্বপূর্ণ। লুইস সুয়ারেজ যদি আতলেতিকোতে না গিয়ে জুভেন্টাসে যেত তাহলেই ভালো হতো, কারণ এখন সে স্প্যানিশ লিগেই আছে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়। কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বলছি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমি এখনো সে সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করি।’

লিগ শিরোপাটা বার্সেলোনা না আতলেতিকো মাদ্রিদে যায়, সেটা দেখার পরই বিচার হবে সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন