বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি
বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসিছবি: এএফপি

মাঠের ভেতরের খেলায় তো বটেই, বার্সেলোনা এখন ‘ব্যস্ত’ মাঠের বাইরের এক ‘খেলা’ নিয়েও। কে হবেন ক্লাবটার সভাপতি?

বাড়তে থাকার দেনার অভিশাপ থেকে কে এই ক্লাবকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবেন? নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামী মার্চে। এ জন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন হোয়ান লাপোর্তা, ভিক্তর ফন্ত ও টনি ফ্রেইসা।

সভাপতি হিসেবে কে কার চেয়ে বেশি যোগ্য—একের পর এক পরিকল্পনা, সাক্ষাৎকার, বক্তব্য দিয়ে কাতালুনিয়া গরম রাখছেন তিনজনই।

তবে তিনজনের যে-ই সভাপতি হন না কেন, লক্ষ্য প্রত্যেকেরই এক—বার্সেলোনাকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। বাড়তে থাকা দেনার পরিমাণ কমানোর একটা কার্যকর পথ বের করা।

ক্লাব থাকলে তবেই না মাঠের খেলা, সে খেলার উন্নতি-অবনতি, খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যাপারে ভাবা যাবে। ক্লাবই যদি না থাকে, এসব করে কী লাভ? তাই লাপোর্তা, ফন্ত ও ফ্রেইসার প্রত্যেকের চিন্তার মূল বিষয় এখন এটাই। কীভাবে বার্সাকে পথে বসার হাত থেকে উদ্ধার করা যায়।

বিজ্ঞাপন

তিনজনের প্রত্যেকেই জানেন, এই লক্ষ্যে যিনি সবচেয়ে কার্যকর পরিকল্পনা বের করে বার্সা বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন, সভাপতি নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা তাঁরই সবচেয়ে বেশি।

সেই লক্ষ্যে এবার নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন টনি ফ্রেইসা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচিত হলে সবার আগে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে কথা বলে দেনার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার পথ বের করবেন।

খরচ কমানোর পথ বের করবেন, ‘অন্য কোম্পানিগুলো এই অবস্থায় যা করে, আমরাও সেটাই করার চেষ্টা করব। খরচ কীভাবে কমানো যায়, সেটা নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। সেটার জন্য আমাদের ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হবে। অন্তত একজনের সঙ্গে তো কথা বলতেই হবে।’ জানিয়েছেন ফ্রেইসা।

সেই একজন যে কে, সেটা আর না বলে দিলেও চলছে। কারণটা অজানা নয়, মেসিই দলের অধিনায়ক, তর্কাতীতভাবে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও। আগের সভাপতির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এই মেসিই মৌসুমের শুরুতে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন।

কোনোভাবে বুঝিয়ে-সুজিয়ে চুক্তির ফাঁকফোকর দেখিয়ে মেসিকে আটকে রাখা গেলেও তাঁকে যে সামনের মৌসুমে আটকে রাখা যাবে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ফ্রেইসা আশাবাদী, নতুন সভাপতির কাছ থেকে পরিকল্পনা না শুনে মেসি হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, ‘মেসি এর মধ্যেই জানিয়েছে, সে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত, এবং সে-ও এই সমস্যার একটা সমাধান চায়।’

বার্সার মাঠ ক্যাম্প ন্যুর আধুনিকীকরণ প্রকল্পও ফ্রেইসার মাথায় বেশ ভালোভাবেই আছে, ‘এসব কিছুই আমরা “এস্পাই বার্সা” পরিকল্পনার (ক্যাম্প ন্যুর পরিবর্ধন) সঙ্গে তাল মিলিয়ে করব। এসব কিছু করার মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি ইউরো আয় হবে, যার মধ্যে ৫ কোটি ইউরো দিয়ে আমরা ধারদেনা শোধ করব।’

সুযোগ পেয়ে ক্লাবের বর্তমান দৈন্যের জন্য সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকেও দুষতে ভোলেননি এই কাতালান ব্যবসায়ী, ‘বার্সেলোনা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাব, আর আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে, যেন আমরা এই সমস্যা থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসতে পারি। যে সমস্যায় আমরা পড়েছি মূলত দুটি কারণে, আগের বোর্ডের কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত ও করোনার অতিমারি।’

দেখা যাক, লাপোর্তা-ফন্তকে হারিয়ে আদৌ ফ্রেইসা সভাপতি হতে পারেন কি না, আর হলেও মেসিকে রাজি করিয়ে ক্লাবে রাখতে পারেন কি না, ক্লাবকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন কি না!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন