গত মৌসুমের পর বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্কের সুর কেটে গেছে মেসির
গত মৌসুমের পর বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্কের সুর কেটে গেছে মেসির ছবি: টুইটার

লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়বেন, এ-ও কী সম্ভব? কিন্তু দলের কর্তাব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারিতা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল, মেসি আর সহ্য করতে পারেননি। বার্সাকে আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের চূড়ায় ওঠানোর জন্য হাজারো চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু ক্লাব-কর্তারা তাঁকে প্রয়োজনীয় সাহায্যটুকু করেননি।

ফলে মেসিও ক্লাব ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে অন্তত আরও এক মৌসুমের জন্য থাকবেন বলে ঘোষণা দিলেও বার্সা-মেসি সম্পর্কের সুর কোথায় যেন কেটে গিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে, এত বছর ধরে বার্সা-মেসি সম্পর্ক যতই মধুর থাকুক না কেন, একজন কিন্তু ঠিকই জানতেন, কখনো না কখনো সৌহার্দ্যের সুর কেটে যাবেই। তিনি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। দেশের সংবাদমাধ্যম ক্লারিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের মনের কথাটাই বলেছেন ম্যারাডোনা, ‘আমি জানতাম এই ব্যাপারটার (মেসি-বার্সেলোনার সম্পর্ক) শেষটা সুখকর হবে না। আমার সব সময়েই মনে হতো, মেসি কখনো না কখনো বার্সেলোনা ছাড়বেই।’

ম্যারাডোনা নিজেও এককালে বার্সার হয়ে খেলতেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তেমন কিছু করতে না পারলেও, কয়েকটা ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। বড় বড় ক্লাবগুলো তাই তাঁর পিছু ছুটেছিল। শেষমেশ জয় হয় বার্সারই। ট্রান্সফার ফি-র বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বোকা জুনিয়র্স থেকে বার্সায় নাম লিখিয়েছিলেন ম্যারাডোনা, পঞ্চাশ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে। দুই মৌসুম তাঁর খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন ন্যু ক্যাম্পের বার্সা সমর্থকেরা।

তবে ম্যারাডোনা নিজের সেরাটা দিতে পারেননি বার্সায়। চোট সমস্যা ছিল, সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে তাঁর মতভিন্নতা। যে কারণে দুই মৌসুম পর ম্যারাডোনা নিজেই ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছের কথা জানান— গত আগস্টে যেমন মেসি করেছিলেন।

কিন্তু ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসির পার্থক্য হলো, ম্যারাডোনা ক্লাব ছাড়তে চাইলে বার্সার কর্তাব্যক্তিরা তাঁকে আটকাননি, ছেড়ে দিয়েছিলেন নাপোলির কাছে। বার্সা থেকে নাপোলিতে যাওয়ার সময়ও নিজের ট্রান্সফার ফি-র রেকর্ড ভেঙেছিলেন ম্যারাডোনা, ইতালিয়ান ক্লাবটি তাঁকে কিনে নিয়েছিল ৬৯ লাখ পাউন্ড দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

ওদিকে হাজারো নাটকের পর মেসিকে দলে রাখতে সমর্থ হয়েছে বার্সেলোনা। মেসি-কাণ্ডের সঙ্গে নিজের অতীতের তাই ভালোই মিল দেখতে পাচ্ছেন ম্যারাডোনা। দলের সবচেয়ে বড় তারকার সঙ্গে এমন ব্যবহার করার ইতিহাস যে ক্লাবটির আজকের নয়, সেটাই বুঝিয়েছেন তিনি, ‘এমন অবস্থা আমারও হয়েছিল। বার্সেলোনা সহজ কোনো ক্লাব নয়। সে অনেক বছর ধরে বার্সায় আছে, এত কিছু দিয়েছে ক্লাবকে, শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। এত কিছুর পরও ক্লাব যেভাবে ওর সঙ্গে ব্যবহার করল, এটা ওর প্রাপ্য নয়।’

আরও এক মৌসুম অন্তত বার্সায় থাকছেন মেসি। এরপর আবারও ক্লাব ছাড়তে চাইলে কী কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই ক্লাব ছাড়তে পারবেন তিনি? ম্যারাডোনার কথা মানলে উত্তরটা না-ই হওয়ার কথা।

মন্তব্য পড়ুন 0