বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লোকটার নাম ডন হেরনান। গত সোমবার পৃথিবীর বুকে ১০০ বছর বয়সের দেখা পেলেন তিনি। হেরনান মেসির পাঁড় ভক্তদের একজন। আর্জেন্টাইন তারকার হাতে কোপা আমেরিকা শিরোপা দেখে খুব খুশি হয়েছেন হেরনান।

মেসির প্রতি তাঁর সমর্থন একটি কারণে অন্য মাত্রা পেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এখন চাইলেই কার গোলসংখ্যা কত, তা অনলাইনে পরিসংখ্যানভিত্তিক সাইটে দেখে নেওয়া যায়।

হেরনান যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখে আসা মানুষ, তথ্যপ্রযুক্তির দাপট শুরুর আগের পৃথিবীটা দেখেছেন, খেলার প্রতি টানটাও ভিত পেয়েছে সে সময়ে—তাই মেসির সব গোলসংখ্যা খাতায় টুকে রাখেন। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি কবে, কোন ম্যাচে, কত গোল করেছেন, সব টুকে রাখেন হেরনান। মেসির প্রতি এটাই তাঁর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

হেরনানের নাতি হুলিয়ান মাস্ত্রাঙ্গেলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দাদার এমন মেসি–প্রীতির ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘প্রযুক্তি সমন্ধে তাঁর কোনো ধারণা নেই। তিনি ফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার, কিছুই ব্যবহার করেন না। খাতায় তিনি মেসির প্রতিটি গোল লিখে রাখেন। সব ম্যাচের ব্যাপারেও লেখা থাকে খাতায়। টিভি দেখতে না পারার পর থেকে সব ম্যাচের খোঁজখবর তিনি আমার কাছ থেকে জেনে নেন। মেসি কত গোল করলেন, সেটা জেনে নেন।’

default-image

এমন এক ভক্তের খবর মেসির কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না, তা হয় না। বর্ষীয়ান এই ভক্তকে ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দাদার এই অদ্ভুত মেসি–প্রীতির ব্যাখ্যা করেন হুলিয়ান।

ভিডিওবার্তায় মেসি বলেন, ‘কেমন আছেন! আপনার গল্পটা জানলাম। আপনি যেভাবে আমার গোলগুলোর হিসাব রাখছেন, তা শুনে খুবই অবাক লেগেছে। আপনাকে অনেক ভালোবাসা এবং যা করছেন সে জন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল। দেখা হবে।’

মেসির এই ভিডিওবার্তা পাওয়ার পর দাদা-নাতি দুজনেই আবেগে কেঁদে ফেলেন। হেরনানের তো বিশ্বাসই হয়নি মেসি ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন, ‘এটা যে মেসি, সেটা বিশ্বাস করতে বোলো না।’ নাতি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘হ্যাঁ, মেসিই। ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছে।’ হেরনান জানতে চান, ‘সে কোথায়? বাড়িতে?’ হুলিয়ানের জবাব ‘হ্যাঁ, বার্সেলোনায়।’

default-image

আর্জেন্টিনায় জন্ম হলেও বার্সাও তো মেসির আরেক ঘর। শৈশব থেকে রয়েছেন এ ক্লাবে। কাল জানা গেছে, ৫০ শতাংশ বেতন কমিয়ে বার্সায় আরও ৫ বছরের চুক্তি করছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে তো মেসি এই সিদ্ধান্ত নিতেন না, আর এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেই বার্সা মেসির ‘ঘর’ হয়ে উঠেছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন