default-image

এবারের গ্রীষ্ম বড় এক চমক দেখিয়েছে। একদিকে মেসি তাঁর প্রাণের ক্লাবকে বিদায় বলেছেন, ওদিকে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফিরেছেন তাঁকে মহাতারকা বানানো প্রথম ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এখন পর্যন্ত দুজনের কেউই নতুন ঠিকানায় খুব একটা দাগ কাটতে পারেননি। রোনালদো অবশ্য নিজের কাজ অনেকটাই ঠিকঠাকমতো করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৮ গোল করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। কিন্তু দলের খেলায় তাঁর অবদান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক।

মেসি আবার গোল করার দিক থেকে একটু পিছিয়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ ম্যাচে তবু ৫ গোল করেছেন। কিন্তু ফ্রেঞ্চ লিগে অন্তত গোলশিকারি মেসির দেখা মেলেনি। ১১ ম্যাচে ৮৬৫ মিনিট মাঠে থেকেও মাত্র ১ গোল তাঁর। গত দেড় দশকে যাঁর নাম ছিল বার্সেলোনার কাছে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৩০ গোল করার নিশ্চয়তা, তাঁর কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স কিছুটা অপ্রত্যাশিত। এ কারণে সমালোচনাও হচ্ছে।

default-image

ফ্রেঞ্চ সংবাদমাধ্যম তেলেফুত এ ব্যাপারে বেনজেমার কাছে জানতে চেয়েছিল। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মেসি ভিন্ন লিগে সফল হতে পারবেন কি না। এমন প্রশ্নে ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড বিস্মিত হয়েছেন, ‘ও কীভাবে সফল না হয়! এটা শুধু মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ের ব্যাপার। হয়তো অনেক গোল পাচ্ছে না, কিন্তু মাঠে কী করছে, সেটা তো দেখুন!’

বরাবরই বেনজেমার কাছে গোল করার চেয়ে দলের খেলায় সম্পৃক্ত হওয়া বেশি গুরুত্ব পায়। এ কারণেই রিয়ালের মূল স্ট্রাইকার হলেও বক্সে না থেকে নিচে নেমে খেলা সৃষ্টি করারও চেষ্টায় থাকেন ফরাসি স্ট্রাইকার। গত জুনে আরেক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ফুটবল এখন এমন পর্যায়ে এসে গেছে, যেখানে একজন খেলোয়াড় ৯০ মিনিট ধরে খারাপ খেলার পরও কোনোরকমে একটা গোল করে, এরপর তাকেই ম্যাচসেরা বলা হয়। আমি তেমন খেলোয়াড় হতে চাই না।’

default-image

বেনজেমা যে ধরনের খেলোয়াড় হতে চান, মেসিও তো তেমনই! নিচে নেমে আক্রমণ গড়ে দেওয়ার পর সে আক্রমণেই সমাপ্তি টানার কাজটা মেসি আরও দারুণভাবেই করেন। এ কারণেই শুধু গোল না পাওয়ার কারণে মেসির সমালোচনা শুনতেই চান না বেনজেমা, ‘এমন এক খেলোয়াড়ের সমালোচনা করতেই পারেন না আপনি। যে মেসির সমালোচনা করে, সে ফুটবলের কিছুই বোঝে না।’

মেসির সঙ্গে খুব শিগগির দেখা হবে বেনজেমার। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মেসি-এমবাপ্পে-নেইমারের পিএসজির মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। সে ম্যাচের অপেক্ষায় আছেন বেনজেমা, ‘এগুলো বিশেষ ম্যাচ। মানুষ এ ম্যাচগুলোর অপেক্ষায় থাকে। আপনি স্টেডিয়ামে শুধু খেলতে যান না। আপনি মানুষকে কিছু দিতে যান, কারণ তাঁদের কারণেই আপনি ফুটবল খেলেন।’

এই ম্যাচে অবশ্য মেসির পাশাপাশি মানুষ অপেক্ষায় আছে বেনজেমা-এমবাপ্পেরও দ্বৈরথ দেখার। দুজনের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সের পার্থক্য হলেও ফ্রান্স দলে মাত্র ছয় মাস খেলার সুবাদেই দারুণ রসায়ন জমেছে বেনজেমা-এমবাপ্পের। ক্লাবেও রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পেকে দেখতে চেয়েছেন বেনজেমা। এমবাপ্পেও এই মৌসুমের শুরুতে রিয়ালে যেতে চেয়েছিলেন। এমবাপ্পের মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গে বেনজেমা বলেছেন, ‘এমবাপ্পের সঙ্গে লড়াই? বিশেষ কিছুই হতে যাচ্ছে, কারণ আমরা একে অন্যকে পছন্দ করি! দেখি না কী হয়! ও জিততে চায়, আমিও।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন