বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ম্যাচ কমেছে, কিন্তু আকর্ষণ একটুও কি কমেছে? উত্তেজনাও কমেনি! কী দুর্দান্ত একটা চ্যাম্পিয়নস লিগই না হয়েছে এবার। শেষ বাজিতে করতালি বায়ার্ন মিউনিখের ঘরেই গেছে, সেটি হয়তো তাদের প্রাপ্যই ছিল। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ফাইনালে ওঠা নেইমার-এমবাপ্পের পিএসজি দারুণ খেলেছে। লিওনেল মেসির বার্সেলোনা আরেকবার কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছে লজ্জায়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাস শেষ ষোলোতেই বাদ। চমক দেখিয়েছে আতালান্তা, লিওঁ, লাইপজিগের মতো দলগুলো।
এমন দারুণ মৌসুমের শেষে ২৩ জনের একটা দল গড়তে হওয়ার সহজ কাজ তো নয়। সেটি করতে গিয়ে একটা বড় নামকেই হিসাবের বাইরে রেখেছে উয়েফার ‘টেকনিক্যাল অবজারভার’রা। ২৩ জনের মৌসুম সেরা দলে মেসি ও নেইমার থাকলেও রোনালদোকে রাখেনি উয়েফা।

default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগ তো বলতে গেলে রোনালদোরই টুর্নামেন্ট। সব মিলিয়ে পাঁচবার টুর্নামেন্টটা জিতেছেন। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে টানা তিনবার, পাঁচ বছরের মধ্যে চারবার। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটা পর্তুগিজ তারকা অলংকৃত করে রেখেছেন সেই কবে থেকেই! কিন্তু এবার টুর্নামেন্টটা ভালো কাটেনি রোনালদোর। শেষ ষোলোতে লিওঁর সঙ্গে দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ গোলে ড্র হলেও প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোল করার সুবাদে রোনালদোর জুভেন্টাসকে দর্শক বানিয়ে শেষ আটে ওঠে লিওঁ। প্রথম লেগে লিওঁর মাঠে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া জুভে দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে জিতেছিল ২-১ গোলে, রোনালদোই জুভেন্টাসের গোল দুটি করেছিলেন!

এর বাইরে অবশ্য এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর তেমন বলার মতো পারফরম্যান্স নেই। পরিসংখ্যানবিষয়ক সাইট হুস্কোরড বলছে, সব মিলিয়ে ৮ ম্যাচে ৪ গোল রোনালদোর, কোনো গোল করাতে পারেননি। হুস্কোরড তাঁকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচপ্রতি গড় রেটিং দিয়েছে ৭.২৬। তুলনায় চোটের কারণে মৌসুমের প্রথম দুই মাসে সেভাবে খেলতে না পারা মেসি চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭ ম্যাচে ৩টি গোল করেছেন, আরও ৩টি করিয়েছেন। তাঁর ম্যাচপ্রতি গড় রেটিং ৮.৩৭। শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে নাপোলির বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত গোলই বার্সাকে শেষ আটে উঠিয়েছে।

নেইমারের উয়েফার মৌসুম সেরা দলে থাকা নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়! পিএসজিকে ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ওঠানোর পথে কী দুর্দান্তই না খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড! হুস্কোরডের পরিসংখ্যান, ৭ ম্যাচে ৩ গোল করার পাশাপাশি আরও ৪টি করিয়েছেন নেইমার। তাঁকে ম্যাচপ্রতি গড়ে ৮.১৭ রেটিং দিয়েছে হুস্কোরড।

বার্সেলোনার মেসি ছাড়া আর কেউ নেই। নেইমার ছাড়াও পিএসজির কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন, মারকিনিওসও আছেন। আর চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখেরই যে ভূরি ভূরি খেলোয়াড় দলে আসবেন, এ আর আশ্চর্য কী! এই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে প্রথম দুজন রবার্ট লেভানডফস্কি (১৫ গোল) ও সার্জ নাব্রি (৯ গোল) তো আছেনই, সব মিলিয়ে ২৩ জনে ৯ জনই বায়ার্নের!

উয়েফার যে টেকনিক্যাল অবজারভারদের কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে চারটি নাম বেশ পরিচিতই লাগার কথা। রিয়াল মাদ্রিদে হোসে মরিনহোর সময়ে সহকারী কোচ আইতর কারাঙ্কা, বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ফিল নেভিল ও ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ৮ সদস্যের কমিটিতে বাকি চারজন হলেন প্যাকি বোনের, কসমিন কন্ত্রা, জিনেস মেলেন্দেজ ও উইলি রাটেনস্টেইনার।

উয়েফার ২৩ সদস্যের দল:
গোলকিপার: ম্যানুয়েল নয়্যার (বায়ার্ন), ইয়ান অবলাক (অ্যাটলেটিকো), আন্থনি লোপেস (লিওঁ)।
ডিফেন্ডার: আলফনসো ডেভিস (বায়ার্ন), ইয়োশুয়া কিমিখ (বায়ার্ন), ভার্জিল ফন ডাইক (লিভারপুল), দায়ত উপামেকানো (লাইপজিগ), আনহেলিনিও (লাইপজিগ), ডেভিড আলাবা (বায়ার্ন)।
মিডফিল্ডার: থিয়াগো (বায়ার্ন), কেভিন ডি ব্রুইনা (ম্যান সিটি), হুসেম ওউয়া (লিওঁ), লিওন গোরেৎস্কা (বায়ার্ন), মার্সেল সাবিৎসার (লাইপজিগ), মারকিনিওস (পিএসজি), আলেহান্দ্রো গোমেস (আতালান্তা), টমাস মুলার (বায়ার্ন)।
ফরোয়ার্ড: সার্জ নাব্রি (বায়ার্ন), রবার্ট লেভানডফস্কি (বায়ার্ন), কিলিয়ান এমবাপ্পে (পিএসজি), নেইমার (পিএসজি), লিওনেল মেসি (বার্সা), রাহিম স্টার্লিং (ম্যান সিটি)।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন