বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা সর্বশেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে। সেদিন নিজ নিজ ম্যাচে উরুগুয়ে, চিলি ও কলম্বিয়া জিততে না পারায় ২০২২ বিশ্বকাপ মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়ে যায় মেসিদের। এখন বাকি ৫ ম্যাচে আর্জেন্টিনা যে নিজেদের খেলাটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু আজ দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) এ ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে জরোস দেল দেসিয়ের্তো বেছে নেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনা কি অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রাখতে পারবে

প্রশ্নটির সঙ্গে চিলির এ মাঠের একটা যোগসূত্র তো আছেই। সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২৬০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত জরোস দেল দেসিয়ের্তো স্টেডিয়াম। এত উচ্চতায় খেলার নিয়মিত অভ্যাস না থাকলে খুব সমস্যা হওয়াই স্বাভাবিক। অক্সিজেন–সংকটে ভুগতে হয়। দম ফুরিয়ে আসে দ্রুতই।

default-image

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে বলিভিয়া, ইকুয়েডরের মাঠে বড় দলগুলোকে নিয়মিত ধুঁকতে দেখা যায় এ কারণে। এখন চিলিও সে পথেই হাঁটছে। চিলির ট্রান্স–আন্দিয়ান জনগোষ্ঠী কালামার এ মাঠকে ‘এল ইনফার্নো’ বলে ডাকে—অর্থাৎ ‘নরক!’

আশির দশকে কোপা লিবার্তোদোরেসে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চিলির ক্লাব কোবরেলোয়ার ঘরের মাঠ এটি। ১২ হাজারের বেশি আসনের এই মাঠ খনি এলাকায় অবস্থিত। পাশেই আন্দিজ পর্বতমালা। ১৯৫২ সালে স্টেডিয়ামটি তৈরির পর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তা সংস্কার করা হয়।

তখন স্টেডিয়ামটির নতুন নাম প্রস্তাব করা হয় এবং বেশ কিছু নাম বাছাই শেষে বেছে নেওয়া হয় ‘ডেজার্ট ফক্সেস’—অর্থাৎ মরু শেয়াল। স্থানীয় শেয়াল ‘কালপেও ফক্স’–এর নামে নামকরণ।

তবে উচ্চতাই এ মাঠের একমাত্র সমস্যা নয়। তাপমাত্রার ওঠানামাও সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে আর্জেন্টিনার জন্য।

জানুয়ারিতে সেখানকার তাপমাত্রা দুপুরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে রাতে ৫ ডিগ্রিরও কমে নেমে যায়। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে এ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে চিলি। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পরের দিন সকাল ৬টা।

এ মাঠে প্রথমবারের মতো খেলবেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আগেই বলেছেন, বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত হলেও জাতীয় দলের ম্যাচগুলো তিনি নিয়মিতই খেলতে চান। আর্জেন্টিনাও এ মাঠে এর আগে কখনো খেলেনি।

চিলির এই ‘নরক’ আবার স্বাগতিকদের জন্য স্বর্গ না হলেও দুটি সুখস্মৃতির ধারক। চিলি জাতীয় দল এ মাঠে দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই জিতেছে। ১৯৮৫ সালে ডেনমার্কের ভেজলে বোল্ডক্লুব নামের ক্লাবকে এ মাঠে ৫–০ গোলে বিধ্বস্ত করে চিলির জাতীয় দল। ২৫ বছর পর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এ মাঠে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হয়ে ৩–০ গোলের জয় পায় চিলি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন