এই ম্যাচে মাঠে নেমেই বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে শীর্ষে থাকা জাভি হার্নান্দেসকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি।
এই ম্যাচে মাঠে নেমেই বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে শীর্ষে থাকা জাভি হার্নান্দেসকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি।ছবি : রয়টার্স

‘আনলাকি ১৩’।

সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে যুগ যুগ ধরে এই ১৩ সংখ্যাকে ‘আনলাকি’ বা অপয়া মানা হয়। কেন এমনটা ভাবা হয়, সেটির কোনো ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে ‘১৩’ সংখ্যাটিকে ‘অপয়া’ মনে করাটা মানুষের ভেতরেই ঢুকে গেছে। অনেকেই আছেন যেকোনো শুভকাজে ‘১৩’ সংখ্যাটিকে এড়িয়ে চলতে চান। ‘১৩’ মানেই যেন খারাপ কিছু, অশুভ কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে অন্তত তেমনটি বলা যাচ্ছে না। তিনি গত রাতেই দেখেছেন, ‘১৩’ সংখ্যাটি তাঁর জন্য দারুণভাবেই শুভ।

বিজ্ঞাপন

গত রাতে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচে উয়েস্কার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন লিওনেল মেসি। দুই গোল করার মাধ্যমে এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০-এর বেশি (২১) গোল করা হয়ে গেল তাঁর। এ নিয়ে টানা ‘১৩’ মৌসুম ‘২০’ বা তার বেশি গোল করলেন মেসি। কে বলবে এখন যে ১৩ সংখ্যাটা অপয়া? ১৩ সংখ্যাকে ঠিকই সৌভাগ্যে পরিণত করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

গোল দুটোও করেছেন কী দুর্দান্ত। বক্সের বাইরে গোল করাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা মেসি গত রাতে দুটি গোলই করেছেন বক্সের বাইরে থেকে। প্রথমে মাঝমাঠ থেকে একাই প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে উয়েস্কার অধিনায়ক হোর্হে পুদিলোকে বোকা বানিয়েছেন বাঁ পায়ের মাপা শটে। স্প্যানিশ গোলকিপার আলভারো ফের্নান্দেসের সত্যিকার অর্থেই কিছু করার ছিল না।

দ্বিতীয় গোলটি ছিল দুর্দান্ত এক প্রতি–আক্রমণের ফসল। ম্যাচের একদম শেষ দিকে মাঝমাঠে বল জিতে এগিয়ে যেতে থাকেন মেসি। সামনে দুই তরুণ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রিকি পুচ ও পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও থাকা সত্ত্বেও তাঁদের দিকে বল বাড়াননি বার্সেলোনা অধিনায়ক। ভেবেছেন, ম্যাচের শুরুর দিকে যে জাদু দেখানো গেছে, ও রকম জাদু আরেকবার দেখাতে পারলে ক্ষতি কী! বক্সের বাইরে মোটামুটি একই জায়গা থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে আবার ফের্নান্দেসকে পরাস্ত করেন মেসি। তবে এ শট উড়তে উড়তে নয়; বরং মাটি ঘেঁষেই গেছে।

এই দুই গোলে পেশাদার ক্যারিয়ারে ৬৬১ গোল হয়ে গেল মেসির। এই মৌসুমে এ পর্যন্ত গোল করলেন ২১টি। যে হারে গোল করছেন, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এই গতি বজায় থাকলে নিশ্চিতভাবে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন মেসি। বিশেষ করে শেষ ১০ ম্যাচে মেসি যেন আরও বেশি ক্ষুরধার, গোল করেছেন ১৪টি। ১৮ গোল নিয়ে শীর্ষ গোলদাতার তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসির বন্ধু সাবেক বার্সেলোনা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। তৃতীয় স্থানে ১৫ গোল নিয়ে ভিয়ারিয়াল স্ট্রাইকার জেরার্ড মোরেনোর সঙ্গে যৌথভাবে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের করিম বেনজেমা।

বিজ্ঞাপন

তবে মেসি যদি গোল না-ও করতেন, তারপরও এই ম্যাচ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকত। এই ম্যাচে মাঠে নেমেই বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে শীর্ষে থাকা জাভি হার্নান্দেসকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি। দুজনই বার্সার জার্সিতে খেলেছেন ৭৬৭টি করে ম্যাচ।

default-image

মেসির কীর্তি দেখে যথারীতি বাক্যহারা বার্সেলোনার কোচ রোনাল্ড কোমান, ‘আমার মনে হয়, মেসি আবারও দেখিয়েছে কেন ওকে সবার সেরা বলা হয়। প্রথম গোলটার তো কোনো জুড়ি নেই। ও দেখিয়েছে, সে এই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর চেয়ে বেশি বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় না মেসিকে। সে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা সৌভাগ্যবান, মেসি এখনো বার্সেলোনায় খেলে।’

মেসিই যেন বার্সেলোনাকে এখনো লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে রেখেছেন। ২৭ ম্যাচ খেলে বার্সা এখন শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর চেয়ে ৪ পয়েন্ট পেছনে। আতলেতিকো একটু পা হড়কালেই শীর্ষে উঠে যাবে কাতালানরা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন