২০২১ সালে মেসি ছুটছেন দুরন্ত গতিতে।
২০২১ সালে মেসি ছুটছেন দুরন্ত গতিতে। ছবি: রয়টার্স

লিগের ৩ আর ৪ নম্বরে থাকা দুই দলের লড়াই। জিতলে চারে থাকা সেভিয়াকে আরেকটু পেছনে তো ফেলা যাবেই, বার্সেলোনার সামনে সুযোগ ছিল অন্তত দুই দিনের জন্য রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে লিগের পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে উঠে যাওয়ার। পাশাপাশি একটা হিসাব চুকিয়ে দেওয়ার সমীকরণও তো ছিল! এই মাসের শুরুর দিকে এই সেভিয়ার মাঠেই কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরেছিল বার্সা।

প্রথমার্ধে ওসমান দেম্বেলে আর ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে লিওনেল মেসির গোল নিশ্চিত করে দিল, বার্সার সব হিসাব মিলে যাচ্ছে। ঠিক ২-০ গোলেই জিতে লিগে আজ দুই দলের মুখোমুখি ম্যাচে সেই হিসাব চুকিয়ে দিল বার্সা, পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার জন্য হলেও রিয়ালকে টপকে গেল।

২৫ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট বার্সার, এক ম্যাচ কম খেলে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে ৩ নম্বরে রিয়াল। জিনেদিন জিদানের দল অবশ্য আবার বার্সাকে টপকে ২ নম্বরে ওঠার সুযোগ পাবে আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচে। চারে থাকা সেভিয়ার পয়েন্ট ২৪ ম্যাচে ৪৮। শীর্ষে আতলেতিকো মাদ্রিদই আছে, ২৩ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট তাদের।

বিজ্ঞাপন

কোপা দেল রে-র হিসাব তো আর লিগের ম্যাচে চুকানো যায় না। সেই হিসাব চুকানোর সুযোগ আগামী বুধবারই আবার পেয়ে যাচ্ছে বার্সা। কোপার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে সেদিন সেভিয়াকে আতিথ্য দেবেন মেসিরা। আজ আর বুধবার—সেভিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচ দুটিকে এক অর্থে বার্সার জন্য বড় দুই পরীক্ষা হিসাবেই দেখা হচ্ছিল। এই মৌসুমে বার্সার কোনো শিরোপা জেতার সুযোগ আর থাকছে কি না, সেটি বোঝা যাবে এই দুই ম্যাচে—সপ্তাহ শুরুর আগে এমনই ছিল বিশ্লেষকদের মতামত।

default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে পিএসজির বিপক্ষে নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হেরে যাওয়ায় সেই টুর্নামেন্টে বার্সার আর এগোনোর সুযোগ নেই বললেই চলে। সেভিয়ার বিপক্ষে আগামী বুধবার হারলে কোপা দেল রে জেতার স্বপ্ন থেমে যাবে সেমিফাইনালে। আর আজ লিগে হারলে আতলেতিকো বা রিয়ালকে টপকে লিগ জেতার টিমটিমে আশাও প্রায় নিভেই যেত বার্সার।

সেটি যাতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আজ কৌশলে বদল এনেছেন বার্সা কোচ রোনাল্ড কোমান। বল দখলে রেখে খেলতে চায় হুলেন লোপেতেগির সেভিয়া, তাদের বিপক্ষে আজ কৌশল বদলে ৩-৪-১-২ ছকে নেমেছে বার্সা। কৌশলটা বেশ ভালোই কাজে দিয়েছে।

প্রথমার্ধে সেভিয়া বার্সার পোস্টে কোনো শটই নিতে পারেনি, দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সময় বার্সাকে চাপে ফেললেও তাদের সুযোগের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ৮০ মিনিটে ম্যাচে যখন ১-০ গোলে এগিয়ে বার্সা, সে অবস্থায় অবশ্য সেভিয়ার এন-নেসরি বল বার্সার জালে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু গোলের আগে আক্রমণের পথে বল তাঁর হাতে লাগায় গোল বাতিল হয়ে যায়। বার্সারও অবশ্য একটা গোল বাতিল হয় তার ১১ মিনিট আগে।

বার্সাও প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ পায়নি। মিনিট বিশেকের পর থেকে বার্সা কিছুটা চেপে ধরে সেভিয়াকে। ২৯ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। সেভিয়ার মাঝমাঠ মেসিকে বেশ জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল, সেটিরই মাশুল দিতে হয়েছে দলটাকে। সেভিয়ার রক্ষণ অনেক ওপরে উঠে খেলে, সেই হাইলাইন ডিফেন্স ভেদ করা মেসির দারুণ থ্রু ছুটে যায় দেম্বেলের দৌড় লক্ষ্য করে। দুই সেভিয়া ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান দেম্বেলে।

প্রথমার্ধে দলকে এমন ম্যাড়মেড়ে দেখে দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়া কোচ লোপেতেগিও কৌশলে বদল আনেন। উইঙ্গার পাপু গোমেজের বদলে পাঠান স্ট্রাইকার এন-নেসরিকে, যাতে বার্সার তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের বিপরীতে দুই স্ট্রাইকার এন-নেসরি ও লুক ডি ইয়ং কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারেন। দ্বিতীয়ার্ধে তাতে সেভিয়ার আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফিরেছে বটে, তবে ভালো সুযোগগুলো বার্সাই পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

৫৯ মিনিটে বার্সার দারুণ আক্রমণে পূর্ণতা এনে দিতে পারেননি রাইট উইংব্যাক সের্হিনিও দেস্ত, তাঁর শট পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে আসে। তার দুই মিনিট পর দেম্বেলে দারুণ গতির কারিশমা দেখানোর পর বলটা ব্যাকপাস করে দৌড়ে উঠে আসতে থাকা মেসির দিকে। কিন্তু প্রথম স্পর্শের শটটা বার্সা অধিনায়ক সেভিয়ার পোস্টে রাখতে পারেননি। ৬৯ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকে হেড করে বল জালে জড়ান ক্লেমঁ লংলে, কিন্তু আগেই অফসাইডে থাকায় তাঁর গোল বাতিল হয়।

default-image

ম্যাচ আস্তে আস্তে সমাপ্তির দিকে গড়াচ্ছিল, কিন্তু মাত্র এক গোলে এগিয়ে থাকা বার্সা তখনো নিশ্চয়তা তো পাচ্ছিল না। সেটি এল ৮৫ মিনিটে, মেসির গোলের সৌজন্যে। বদলি নামা তরুণ মিডফিল্ডার ইলাইশ মরিবার সঙ্গে বক্সের সামনে দারুণ ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে যান মেসি। সেখানে পায়ের ঝলকে এক ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে বল চিপ করেছিলেন। কিন্তু এগিয়ে আসা সেভিয়া গোলকিপার বুনুর গায়ে লাগে শট। মনে হচ্ছিল বুঝি গোল হলো না। কিন্তু বুনু বলটা গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি, সেটি মেসির পায়ে লেগে আবার বেরিয়ে আসে। ফাঁকা পোস্টে বলটা জড়িয়ে দেন মেসি।

লিগে এটি তাঁর ১৯তম গোল। মৌসুমের শুরুতে ধুঁকতে থাকা মেসিই এখন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন