গ্রিজমানের জোড়া গোলে জিতেছে বার্সা।
গ্রিজমানের জোড়া গোলে জিতেছে বার্সা। ছবি: এএফপি

বার্সেলোনা যে জিতবে, তা ম্যাচের আগে অনুমান করতে অনুপ্রাণিত করছিল রেকর্ড। প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল, সে দলটার কোচ উনাই এমেরি—বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই পক্ষেরই রেকর্ড বিবর্ণ।

নিজেদের মাঠে আজ লিগে বার্সার মুখোমুখি হওয়ার আগে ভিয়ারিয়াল লিগে ২৩ ম্যাচ বার্সার বিপক্ষে জেতেনি (ড্র ৬, হার ১৭)—স্পেনের শীর্ষ স্তরে টানা এর চেয়ে বেশি সময় জয়হীন আর কোনো ক্লাবের বিপক্ষে কখনো ছিল না ভিয়ারিয়াল। আর এমেরি? আলমেরিয়া, ভ্যালেন্সিয়া, সেভিয়া, স্পার্তাক মস্কো, পিএসজি হয়ে এখন ভিয়ারিয়াল...এতগুলো ক্লাবের কোচ হিসেবে বার্সার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু দলের শক্তি যেমনই হোক, বার্সার বিপক্ষে এমেরির রেকর্ডে তাতে ইতর বিশেষ হয়নি। মেসিদের বিপক্ষে ২৬ ম্যাচে মাত্র দুইবার জিতেছেন এমেরি!

আজকের ম্যাচের পর শুধু দুই পক্ষের বিবর্ণ রেকর্ডটাই বাড়ল। ভিয়ারিয়ালের রেকর্ডটা গেল ২৪ ম্যাচে, এমেরির ২৭ ম্যাচে...বার্সার বিপক্ষে জয় আর পাওয়া হলো না! প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ৮ মিনিটের মধ্যে আঁতোয়ান গ্রিজমানের দুই গোলে ভিয়ারিয়ালের মাঠ থেকে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফিরেছে বার্সা। মেসিকে ম্যাচজুড়ে অনেকটা বোতলবন্দী রাখতে পেরেছে, এ-ই যদি হয় ভিয়ারিয়ালের সান্ত্বনা!

বিজ্ঞাপন
এই মুহূর্তে ৩২ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭১। দুইয়ে থাকা রিয়ালের ৩৩ ম্যাচে ৭১। শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর ৩২ ম্যাচে ৭৩। আতলেতিকো আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিলবাওয়ের মাঠে নামবে।

রিয়াল মাদ্রিদ আর আতলেতিকো মাদ্রিদের অবশ্য ভিয়ারিয়ালের এসব সান্ত্বনা-টান্ত্বনায় কিছু আসবে-যাবে না। জয় না হোক, ভিয়ারিয়াল নিদেনপক্ষে বার্সার বিপক্ষে ড্র করতে পারলেও খুশি হতো মাদ্রিদের দুই ক্লাব। আরও নির্দিষ্ট করে বললে রিয়াল মাদ্রিদ। জিতে যে রিয়ালের গায়ের জ্বালা বাড়াল বার্সা!

লিগের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে থাকা আতলেতিকো আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে নামবে। তাদের ভাগ্য তবু নিজেদের হাতেই আছে। বার্সা জিতে আতলেতিকোর সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে আনল। আর রিয়ালের গায়ের জ্বালা বার্সা বাড়াল কীভাবে?

গতকাল নিজেদের মাঠে রিয়াল বেতিসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে রিয়াল। লিগে সর্বশেষ তিন ম্যাচে দ্বিতীয় এই ড্রতে শিরোপাদৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়েছে জিনেদিন জিদানের দল। বার্সা জিতে এখন পয়েন্ট তালিকায় রিয়ালের পেছনেই আছে, কিন্তু সেটা মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেবে। পয়েন্ট দুই দলেরই সমান, বার্সার একটা ম্যাচ কম খেলেছে।

default-image

এই মুহূর্তে ৩২ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭১। দুইয়ে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৭১। আর শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর ৩২ ম্যাচে ৭৩।

গত ডিসেম্বরের পর থেকে বার্সার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা কোচ রোনাল্ড কোমানের। দলকে ৩-৫-২ ছকে খেলাচ্ছেন। তাতে দলের রক্ষণ আরেকটু সুসংহত হয়েছে, আক্রমণে মাঠ বড় করে খেলতে পারছে বার্সা। মেসির ওপরও চাপ কিছুটা কমেছে। বড় দলের মুখোমুখি হলে অবশ্য কেন যেন বারবার ছক বদলে ফেলেন কোমান, তাতে বেশিরভাগ সময়েই হিতে বিপরীত হয়। কিন্তু আজ ৩-৫-২ ছকেই দলকে খেলিয়েছেন কোমান, আক্রমণে মেসির সঙ্গে জুটি হিসেবে খেলিয়েছেন গ্রিজমানকে। মেসির অনুজ্জ্বল থাকার দিনে সেই গ্রিজমানই বার্সার ‘মেসাইয়া।’ ম্যাচের ২৬ মিনিটে পিছিয়ে পড়া বার্সাকে উদ্ধার করেছেন আট মিনিটের ঝড়ে দুই গোলে।

বার্সার রক্ষণে বেশ নড়বড়ে ছিলেন ফরাসি সেন্টারব্যাক ক্লেমঁ লংলে, তাঁর অনবধানতার সুযোগে ২৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। বলতে গেলে হঠাৎ আক্রমণ ভিয়ারিয়ালের। নিজেদের রক্ষণ থেকে ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার পাউ তোরেসের রক্ষণচেরা পাস, লংলের মনোযোগ ঠিক থাকলে সেটি ঠেকিয়ে দেওয়া তাঁর জন্য ‘রুটিন ওয়ার্ক’ই হতো। বার্সা ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগে বল গেল বার্সা বক্সের দিকে দৌড়াতে থাকা ভিয়ারিয়াল ফরোয়ার্ড সামুয়েল চুকুয়েজের কাছে। ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের আক্রমণের বড়—একমাত্রও—উৎস চুকুয়েজে বার্সা গোলকিপার টের স্টেগেনকে কাটিয়ে বল জড়ান জালে।

গোল তো করেনি, ভিয়ারিয়ালের যেন বিষাক্ত সাপের লেজ মাড়াল! খেপে গেল বার্সা, এরপর প্রথম আক্রমণেই গোল! গোলের ঢংটা ভিয়ারিয়ালের গোলের মতোই, রক্ষণ থেকে সেন্টারব্যাকের পাস সোজা ফরোয়ার্ডের দিকে। এবারে বার্সার পাসের উৎস অস্কার মিঙ্গেসা, গন্তব্য গ্রিজমান। ভিয়ারিয়াল গোলকিপারের ‘এগিয়ে যাব না গোললাইনে থাকব’ সংশয়ের সুযোগ কী দারুণভাবেই না নিলেন গ্রিজমান! চোখধাঁধানো চিপে বল জড়ালেন জালে। ভিয়ারিয়ালের এগিয়ে থাকার আনন্দ ২ মিনিটেই শেষ!

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথের যেন ‘হাতেম তায়ী’ হওয়ার ইচ্ছা হলো! ৩৫ মিনিটে বার্সার খেলোয়াড়ের বল দখলের চাপের মুখে ফয়েথ ব্যাকপাস দিলেন গোলকিপারের দিকে, কিন্তু আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের যেন আশপাশে কে আছেন সে হিসাবই ছিল না। বল গেল গ্রিজমানের পায়ে, উপহারটা কাজে লাগাতে তাঁর ঝামেলা হলো না।

দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়ারিয়ালের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল, ৬২ মিনিটে ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার এতিয়েন কাপুর শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলকিপার টের স্টেগেন। কিন্তু ৬৫ মিনিটে বড় ধাক্কা খেল ‘ইয়েলো সাবমেরিন!’ মেসিকে কড়া ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার মানু ত্রিগেরোস।

৮৩ মিনিটে বার্সার জয় নিয়ে সংশয় একেবারে মুছে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচে দারুণ খেলা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। পাল্টা আক্রমণে উসমান দেম্বেলের ক্রস যখন পেয়েছিলেন, ডি ইয়ংয়ের সামনে শুধু পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসতে থাকা ভিয়ারিয়াল গোলকিপার। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে চিপ করলেও বল জালে জড়াতে পারেননি বার্সা মিডফিল্ডার।

সেটির আক্ষেপে বার্সাকে পুড়তে হয়নি। স্প্যানিশ লিগের শিরোপাদৌড়েও পিছিয়ে পড়তে হয়নি মেসিদের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন