বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যাওয়ার আগে অবশ্য বার্সেলোনাকে গত মৌসুমের কোপা দেল রে শিরোপা জিতিয়ে গেছেন। জানুয়ারিতেও লিগ শিরোপার দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়া বার্সাকে লিগ শিরোপার খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু যখনই বার্সার হাতে লিগ শিরোপার নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার সুযোগ এল, বার্সার রক্ষণ হাতের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলে দিল! তবে যাওয়ার আগে সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এ বছরে ২৯ ম্যাচে ২৮ গোল করেছেন মেসি, করিয়েছেন আরও ৮টি!

বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে অবশ্য খুব একটা স্বস্তিতে নেই মেসি। একে তো নতুন ক্লাব, নতুন পরিবেশ, নতুন সতীর্থ, নতুন কৌশলে মানিয়ে নেওয়ার ধকল, তার ওপর সেসব মেসি প্রথমবারের মতো করছেন ক্যারিয়ার–সায়াহ্নে এসে। চোটও ভুগিয়েছে, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের কারণে পিএসজিতে তাঁর মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া পিছিয়েছে বারবার। এত কিছুর মধ্যেই পিএসজির জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন, তবে ফরাসি লিগে এখনো মাত্র ১ গোল করেছেন মেসি।

তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বছরটা মেসির অন্তত আক্ষেপ ঘোচার বছর হয়েই থাকছে। এত বছরে এতবার এত কাছে গিয়েও আকাশি-নীল জার্সিটাতে শূন্য হাতেই বারবার ফিরতে হয়েছে মেসিকে, এ বছরে এসে অবশেষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিছু জিতেছেন মেসি।

জাতীয় দলে মেসি রোনালদোর ২০২১ 

আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের আন্তর্জাতিক শিরোপা–খরা ঘুচিয়েছেন কোপা আমেরিকা জিতিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের ফুটবলতীর্থ মারাকানায় বন্ধু নেইমার আর ব্রাজিলকে হারিয়ে ঘুচল তাঁর আর্জেন্টিনার জার্সির দুঃখ।

default-image

সে পথে মেসি কী চোখধাঁধানো ফুটবলই না খেললেন! টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫ গোল), সবচেয়ে বেশি গোল করানো (৪ গোল) খেলোয়াড়—সবই মেসি! ইতিহাসে আর কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফুটবল কোনো খেলোয়াড়কে শিরোপা জেতার পথে এভাবে টুর্নামেন্টসেরা ও সেরা গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গোল করাতে আর দেখেনি!

বছরের শেষ দিকে এসে মেসি যে সপ্তম ব্যালন ডি’অর জিতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে গেলেন, তাতে এমন অবিশ্বাস্য কোপা আমেরিকারই অবদান সবচেয়ে বেশি।

ক্লাব ফুটবলে মেসি 

জাতীয় দলের হয়ে এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শিরোপা নেই, তবে রেকর্ড আছে। ইউরোতে রোনালদো ৫ গোল করেছেন, তবে তাঁর দল বাদ পড়েছে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে। ওই পাঁচ গোলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইরানের আলী দাইয়ির গড়া ১০৯ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন, এরপর সেপ্টেম্বরে সেটিকে পেরিয়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর নামের পাশে এখন জ্বলজ্বল করে ১১৫ গোল!

default-image

ক্লাব ফুটবলে মেসির মতো ঘরবদল হয়েছে রোনালদোরও, জুভেন্টাস ছেড়ে ১২ বছর পর ফিরেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তবে ক্লাব ফুটবলেও গল্পটা জাতীয় দলের মতোই—নিজে গোল পেয়েছেন, কিন্তু দল সেভাবে সাফল্য পায়নি। জুভেন্টাসে এ বছরে ২০ গোল করেছেন রোনালদো, ম্যান ইউনাইটেডে ফিরেও এরই মধ্যে ১৯ ম্যাচে ১৩ গোল হয়ে গেছে, কিন্তু শিরোপা বলতে ইতালিয়ান কাপ ও সুপার কাপ।

যে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বপ্ন নিয়ে তাঁকে দলে টেনেছিল জুভেন্টাস, সে স্বপ্ন তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো জুভেন্টাসের ‘স্থায়ী সম্পত্তি’ বনে যাওয়া লিগ শিরোপাও এই মৌসুমে হারিয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেও রোনালদোর গোলের ধারা ছুটছেই, তবে ইউনাইটেড লিগে এই মুহূর্তে আছে পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে অবশ্য গ্রুপসেরা হয়েই শেষ ষোলোতে উঠেছে ইউনাইটেড।

ক্লাব ফুটবলে রোনালদো 

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন