জোড়া গোল করলেন মেসি
জোড়া গোল করলেন মেসিছবি: রয়টার্স

দুদিন আগেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যালিয়ারির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। লিওনেল মেসি-ই বা বসে থাকেন কেন? তিনি অবশ্য হ্যাটট্রিক পাননি। তবে জোড়া গোল আদায় করে নিয়েছেন ঠিকই। আর তাতেই আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। বাকি দুটি গোল করেছেন অস্কার মিঙ্গেজা ও ফরাসি স্ট্রাইকার আতোয়ান গ্রিজমান। উয়েস্কার বিপক্ষে বার্সার জয় ৪-১ গোলে।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। ডাচ রাইটব্যাক সের্হিনিও দেস্ত ম্যাচের ১০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেক কাট-ইন করে ঢুকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন, কোনোরকমে সেটি পাঞ্চ করে সরিয়ে দেন উয়েস্কার গোলকিপার আলভারো ফের্নান্দেস। দেস্তের শট আটকাতে পারলেও ২ মিনিট পর মেসির শট আটকানোর সামর্থ্য ছিল না ফের্নান্দেসের। উয়েস্কার অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোকে বোকা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মেসি।

মেসির প্রথম গোলটি ছিল দুর্দান্ত, দর্শনীয়। গোলের বর্ণনায় ধারাভাষ্যকার যা বলেছেন, তাতেই খেলোয়াড় হিসেবে মেসির অনন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ‘এটা আসলে একটা হাফ চান্স ছিল, কিংবা কোয়ার্টার চান্সও বলা যায়। কিন্তু মেসির মতো খেলোয়াড়ের গোল করার জন্য অতটুকুই দরকার।’ ৪ মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল আরেকটু হলেই পেয়ে যাচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। ম্যাচের ১৬ মিনিটে উয়েস্কার গোটা রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ডান পায়ের যে শটটা নেন মেসি, তা একটুর জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

default-image
বিজ্ঞাপন

২৬ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক স্প্যানিশ রাইটব্যাক পাবলো মাফেও আরেকটু হলে সমতা এনে দিচ্ছিলেন উয়েস্কাকে। তাঁর ডান পায়ের শট আটকে দেন বার্সা গোলকিপার টের স্টেগেন। ৩৩ মিনিটে মেসি-গ্রিজমান ও জর্দি আলবার রসায়নেও গোল পেতে পারত বার্সেলোনা। কিন্তু সেটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৩৫ মিনিটে যেন গ্রিজমানের ওপর ভর করলেন মেসি। অনেকটা মেসির প্রথম গোলের মতোই বাঁ পায়ের জোরালো শটে বক্সের বাইরে থেকে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধান এগিয়ে দেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। ৪২ মিনিটে আবারও বার্সার আরেকটা শট লাগে উয়েস্কার পোস্টে। ম্যাচের এ পর্যায়ে বার্সার আক্রমণে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছিল তারা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অনেকটা স্রোতের বিপরীতে গোল পেয়ে যায় উয়েস্কা। দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে স্ট্রাইকার রাফা মির বক্সের মধ্যে শট নিতে যাবেন, এমন অবস্থায় টের স্টেগেন ফেলে দেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারকে। ব্যস, পেনাল্টি পেয়ে যায় দলটা। সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রাফা মির।

ব্যবধান কমালেও উয়েস্কাকে আর ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ দেয়নি বার্সেলোনা। ৫৩ মিনিটে মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে মেসির মাপা ক্রসে হেড করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেন্টারব্যাক অস্কার মিঙ্গেসা। উয়েস্কার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা কী ভাবছিলেন কে জানে, না হয় বাঁ প্রান্তে কেউ মেসিকে এভাবে এত জায়গা ছেড়ে দেয়! ৫৬ মিনিটে এক রকম ফাঁকা বক্সে গোল করার সুযোগ হারান উয়েস্কার রাফা মির।

ম্যাচের ৯০ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ৬৬১তম গোল করেন মেসি। আবারও সেই বক্সের বাইরে থেকে ট্রেডমার্ক বাঁ পায়ের শট, তবে এই শটটা মাটি ঘেঁষেই গেছে। কিন্তু প্লেসমেন্ট এতটাই দুর্দান্ত ছিল, গোলকিপার আলভারো ফের্নান্দেসের কিছু করার ছিল না। সামনে রিকি পুচ ও ফ্রানসিস্কো ত্রিনকাও থাকলেও মেসি নিজেই নিজেকে যথেষ্ট ভেবেছিলেন হয়তো শট নেওয়ার জন্য! শেষমেশ ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।

এই জয় নিয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট হয়ে গেল বার্সার। শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর পয়েন্ট ৬৩। তারাও খেলেছে ২৭ ম্যাচ। ওদিকে বার্সার চেয়ে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন