মেসি ‘মাইকেল জর্ডান’ হলেই বিপদ বার্সেলোনার।
মেসি ‘মাইকেল জর্ডান’ হলেই বিপদ বার্সেলোনার। সংগৃহীত ছবি

লিওনেল মেসি যদি বার্সেলোনা ছাড়েন, তাহলে আসলেই খুব বড় বিপদে পড়বে বার্সেলোনা। সারা দুনিয়ায় খেলোয়াড় অনেকেই আছেন, কিন্তু মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড়দের মতো দলের ওপর প্রভাব রাখতে পারেন কতজন? মেসি, রোনালদোদের মতো খেলোয়াড়েরা দল ছাড়লে যে ক্ষত তৈরি হয়, সেটার রেশ রয়ে যায় অনেক দিন।

মাইকেল জর্ডানের উদাহরণ টানা যেতে পারে এখানে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বাস্কেটবল তারকা তাঁর দীর্ঘদিনের ক্লাব শিকাগো বুলস ছেড়ে দেওয়ার সময়ও মেসির মতোই হাহাকার হয়েছিল। কারণ, ওই প্রভাব। জর্ডান তাদের কাছে কতটা মূল্যবান ছিলেন, সেটা এরপর হাড়ে হাগে টের পেয়েছে শিকাগো বুলস। যেকোনো বার্সেলোনা সমর্থকই বুলসের ওই ইতিহাসটা জানলে শঙ্কিত হবেন। ১৯৯৮ সালে জর্ডান চলে যাওয়ার পর বুলস এনবিএর কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। মেসি চলে গেলেও কি বার্সেলোনার একই অবস্থা হবে। বুলসের মতো না হলেও বার্সেলোনার প্রভাব অনেক কমে যাবে লা লিগায়। হয়তো ইউরোপ-সেরার লড়াইয়েও।

default-image
বিজ্ঞাপন

মেসির সঙ্গে জর্ডানের অনেক মিল। মেসি যেমন ছয়বার ব্যালন ডি’অর জিতে বার্সেলোনা ছাড়তে চাচ্ছেন, জর্ডানও ঠিক তেমনি শিকাগো বুলস ছেড়েছিলেন ছয়বার ‘এনবিএ রিং’ জিতে। এই এনবিএ রিং হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। খুব ঘটা করেই দেশের সেরা বাস্কেটবল তারকার হাতে এই এনবিএ রিং তুলে দেওয়া হয়। কেবল এই ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রেই নয়, মেসি আর জর্ডানের নিজ নিজ ক্লাব ছাড়ার সঙ্গে আরও কিছু ব্যাপারে মিল আছে। জর্ডান শিকাগো বুলস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল। কোচসহ বুলসের আরও দুই-একজন মূল তারকাও ক্লাব ছেড়েছিলেন। এবার বার্সেলোনার দিকে তাকিয়ে দেখুন। মেসি দল ছাড়ার আগেই কোচ সেতিয়েন বরখাস্ত হলেন (যদিও সেতিয়েনের বরখাস্ত হওয়াটা খুব বড় কিছু নয়)। নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান এসেই জানিয়ে দিলেন তাঁর পরিকল্পনায় নেই লুইস সুয়ারেজ। মেসির সঙ্গে যদি সুয়ারেজও চলে যান, তাহলে বার্সেলোনার ক্রান্তিকাল কিন্তু শুরু হয়ে যাবে। জেরার্ড পিকে, সার্জিও বুসকেটসরাও আছেন ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে।

বিজ্ঞাপন

আর্থিক ক্ষেত্রেও শিকাগো বুলস আর বার্সেলোনা প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। এ বছর মার্চ থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে ব্যাপকভাবে। টানা তিন মাসের লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় খেলাধুলাও। মৌসুমের খেলাও বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয় দারুণভাবে। বার্সেলোনার মতো ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন কাটার ঘোষণা দেয়। যেটির একটা প্রভাব আছে মেসির সিদ্ধান্ত।

১৯৯৮ সালে এনবিএতেও বেতন নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল খেলোয়াড় ও দলগুলোর মালিকদের মধ্যে। বাস্কেটবল তারকাদের বেতন যেন খুব বেশি বেড়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে মালিকেরা সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়েরা সেটির বিরোধিতা করে ধর্মঘটের ডাক দিলে ব্যাপক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এনবিএ বন্ধ ছিল। যেটির প্রভাব ছিল সুদূর প্রসারী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্কেটবল প্রতিযোগিতার বিপণন ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কমে গিয়েছিল দলগুলোর মার্চেন্ডাইজিং বিক্রি ও টেলিভিশন দর্শক।

default-image
বিজ্ঞাপন

মেসি বার্সেলোনা ছাড়লে কি হতে পারে, সেটি বোঝা যাবে সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে চোখ দিলে। লা লিগাতেই তো রয়েছে সবচেয়ে বড় উদাহরণটি। ২০১৮ সালে রোনালদো যখন রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়লেন, তখন এর প্রভাব পড়েছিল রিয়াল দলে। রোনালদোর অভাব পূরণ করা সম্ভব ছিল না রিয়ালের অন্য খেলোয়াড়দের। ২০১৯ সালে কোনো শিরোপা না জিতে যেন সেটিই প্রমাণ করে রিয়াল। মৌসুম শেষ এডেন হ্যাজার্ডকে সই করে রোনালদোর অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এ বছর লা লিগা জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ষোলো থেকেই।

মেসির ক্ষেত্রের এমন হবে না, সেটা কে বলবে! বার্সেলোনার মতো ক্লাব হয়তো হারিয়ে যাবে না, কিন্তু মেসির অভাব তারা ঠিকই অনুভব করবে। বার্সেলোনা কেবল একটা প্রার্থনাই করবে, মেসি যেন তাদের জন্য মাইকেল জর্ডান হয়ে না ওঠেন। শিকাগো বুলস না হলেই হয়তো খুশি থাকবে বার্সেলোনা।

মন্তব্য পড়ুন 0