default-image

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অবিসংবাদিতভাবেই আধুনিক ফুটবলের দুই মহারাজা। আর মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ শুরুর আগে ফুটবলের সব সৌন্দর্য যেন লুটিয়ে পড়ত রোনালদিনিও গাউচো নামের একজনের পায়ের তলায়। এই তিন মহারথী যদি কখনো এক দলে খেলতে পারতেন? কেমন হতো সেটি!

বলার অপেক্ষা রাখে না, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অবিস্মরণীয় আনন্দের উপলক্ষ হতো তিন গ্রেটের এক দলে খেলাটা। কিন্তু এক বনে যেমন একের অধিক বাঘ থাকতে পারে না, ফুটবলেও এক ক্লাবে একের বেশি মহাতারকা টিকতে পারেন না। তাতে স্বার্থের বিষয়টা চলে আসে বেশ ভালোভাবেই। যে কারণে মেসি-রোনালদোকে কখনোই একই ক্লাবের জার্সি গায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলতে দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে দেখা যাবে, এমন সম্ভাবনাও খুব কম। দুজন লড়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাবের হয়ে—মেসি বার্সেলোনায় আর রোনালদো রিয়ালে। ওদিকে মেসির মহাতারকা হয়ে ওঠার আগে রোনালদিনিও-ও খেলতেন বার্সাতেই। বলা চলে, আজ মেসির যে মেসি হয়ে ওঠা, তার পেছনে রোনালদিনিওর শিক্ষাও কাজ করেছে অনেক।

default-image
বিজ্ঞাপন

কিন্তু মেসি-রোনালদোর মহাতারকা হয়ে ওঠার আগে তো অবশ্যই তাঁদের এক দলে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল নিশ্চিত। সেই অবিশ্বাস্য গল্পটাই এবার শোনা গেল হোয়ান লাপোর্তার কাছ থেকে। বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কথার ফুলকি ছোটাচ্ছেন, জানাচ্ছেন একের পর এক কাহিনি। এবার তাঁর কল্যাণেই জানা গেল, চাইলে তিনি মেসি-রোনালদো-রোনালদিনিওকে একই দলে খেলাতে পারতেন!

লাপোর্তা যখন দলের সভাপতি ছিলেন, তখন মাত্রই পিএসজি থেকে দলে এসেছিলেন রোনালদিনিও, ওদিকে বার্সেলোনার বয়সভিত্তিক দলের মেসি তো ছিলেনই। এই অবস্থায় লাপোর্তার সামনে সুযোগ আসে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্তিং লিসবনের আনকোরা তরুণ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কেনার। ইনিয়েস্তাজো নামের এক টুইটার অ্যাকাউন্টের এক চ্যাটে সেই গল্পটাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তখন আমরা মাত্রই রোনালদিনিও আর রাফায়েল মার্কেজকে (মেক্সিকান ডিফেন্ডার) কিনলাম। মার্কেজের মুখপাত্ররা আমাকে তখন এক চমকপ্রদ প্রস্তাব দেয়। তারা আমাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও কিনতে বলে।’

default-image

মার্কেজের মুখপাত্রদের মাধ্যমে রোনালদোর মুখপাত্রের সঙ্গেও আলাপ হয় লাপোর্তার, ‘রোনালদোর মুখপাত্রদের একজন আমাকে জানায় যে তাদের একজন খেলোয়াড় আছে, যাকে তারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ইউরোতে বিক্রি করছে। কিন্তু আমি যদি চাই, তারা আমাকে ১ কোটি ৭০ লাখে বিক্রি করতে ইচ্ছুক।’

default-image

কিন্তু সেবার রোনালদিনিও আর মার্কেজের পেছনে বরাদ্দ বাজেটের অনেকটাই শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আর রোনালদোর দিকে হাত বাড়াননি লাপোর্তা, ‘তখন আমরা এমনিতেই রোনালদিনিওকে কিনেছি। আর ক্রিস্টিয়ানোও তখন রোনালদিনিওর জায়গাতেই খেলত, উইঙ্গার হিসেবে। আমাদের মনে হলো ওই জায়গার খেলোয়াড় তো আছেই আমাদের। তাই পরে আর রোনালদোকে কিনিনি। আর এ জন্যই আমার কোনো আফসোসও নেই।’

লাপোর্তার আফসোস না থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের আফসোস যে তাতে বেড়েছে, তা নতুন করে না বলে দিলেও চলছে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন