default-image

ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তাঁর দীর্ঘদিনের চিকিৎসক লিওপোলদো লুক এবং মনোবিদ অগাস্তিনো কোসাচভের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ’৮৬ বিশ্বকাপ মহানায়কের মৃত্যুর সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোনো প্রকার অবহেলার শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতেই এই তদন্ত কার্যক্রম। এ দুই চিকিৎসক এবং প্যারামেডিকদের মধ্যে ম্যারাডোনার মৃত্যুর দিন কিছু খুদে বার্তা চালাচালি হয়। সেসব খুদে বার্তা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ইনফোবে’।

গত ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে সান আন্দ্রেজ ডি তাইগ্রেস অঞ্চলে নিজ কামরায় মারা যান ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে, সেদিন সকালে লুক ও কোসাচভের মধ্যে খুদে বার্তায় কথা-চালাচালি হয় ম্যারাডোনাকে নিয়ে। তাঁর চিকিৎসায় এ দুজনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আছে।

বিজ্ঞাপন

সেদিন সংবাদমাধ্যম যখন ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে খবর প্রকাশ করে, লুক তখন তাঁর এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কী ঘটেছে খুদে বার্তায়, তাঁকে জানান এবং ঘটনাস্থলে আসতে বলেন, ‘আমি রাস্তায় আছি। মনে হচ্ছে (ম্যারাডোনা) মারা গেছে। না, আমি বাজি ধরতে পারি, মারাই গেছে। সান আন্দ্রেজ দিয়ে, যে পথ দিয়ে আমরা সাধারণত আসি, তোমাকে সে পথ দিয়েই আসতে হবে।’

ইনফোবের প্রকাশ করা এসব বার্তা টিওয়াইসি স্পোর্টসও প্রকাশ করেছে। এরপর যোগাযোগ আছে, এমন আরও একজনের কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা পান মস্তিষ্কের সার্জন লুক। সেই বার্তায় ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর প্রচার করা টিভি পর্দার স্ক্রিন শর্ট পাঠানো হয়। লুক এর জবাবে কটূক্তি করেন, ‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং মোটু বিছানা নোংরা করে মরবে। কী হয়েছে কে জানে! আমি সেখানে যাচ্ছি।’

সেদিন কোসাচভের সঙ্গে লুকের খুদে বার্তা চালাচালির শুরুটা হয়েছিল এই মনোবিদের এক ব্যাখ্যা দিয়ে। নিয়মিত চেকআপের অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন কোসাচভ, ‘তাঁকে (ম্যারাডোনা) বাঁচানোর চেষ্টা করছে জরুরি চিকিৎসা দল। কিন্তু আমরা এটা ১০-১৫ মিনিট ধরে করছি, অ্যাম্বুলেন্স এখনো আসেনি। যখন এসেছি, তখনই দেখলাম তাঁর (ম্যারাডোনার) শরীর ঠান্ডা। তাঁর চেতনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি, কিছুটা সফলও হয়েছিলাম। শরীরের তাপমাত্রা ফিরেছিল খানিকটা। এখন ওরা আছে সঙ্গে। কী অবস্থা আমাদের কিছু বলবে না। আমি বের হয়ে এসেছি এবং আমাকে কিছু জানাচ্ছে না।’

default-image

লুক এর উত্তরে ফিরতি খুদে বার্তা পাঠান, ‘ওরা আমার ওপর রেগে আছে কি না, জানিও। ভেবো না, শান্ত থাকো। যেটা হওয়ার কথা, সেটা হবেই। তিনি খুবই জটিল ও ভালো রোগী ছিলেন, যা হওয়ার হবে। যখন যে পরিস্থিতি আসে, তখন সেটা সামলাব। অগাস্টিন, চিন্তা নেই, তাঁর (ম্যারাডোনা) পরিবার তো সব জানে।’ মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ম্যারাডোনাকে বাসায় এনে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্রের কাগজে সই করেছিল ম্যারাডোনার পরিবার, জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনা এর আগে বাবার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন। ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে চিকিৎসায় তাঁর শরীরে এই আসক্তির চরম মাত্রায় উপস্থিতিও ধরা পড়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর সর্বশেষ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, শেষনিশ্বাস ফেলার আগে ম্যারাডোনার শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি। এমনকি অ্যালকোহলের অস্তিত্বও ধরা পড়েনি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, হৃদ্‌রোগে ভুগে ম্যারাডোনা ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন।

কিন্তু সর্বশেষ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধরা পড়ে, ম্যারাডোনার হৃদ্‌যন্ত্রের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ফুসফুস, কিডনি ও যকৃৎ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মৃত্যুর আগে মানসিক নানা সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। উদ্বেগ, হতাশা ছাড়াও অন্যান্য মানসিক ব্যাধির জন্য সাত রকম ওষুধ খাচ্ছিলেন ম্যারাডোনা, তখন জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম। আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তখন জানিয়েছিল, ‘অবৈধ কোনো ড্রাগের অস্তিত্ব’ তাঁর শরীরে পাওয়া যায়নি। বুয়েনস এইরেস বৈজ্ঞানিক পুলিশের অফিস থেকে গত ডিসেম্বরে ম্যারাডোনার সর্বশেষ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন