হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছেন নাবিব নেওয়াজ জীবনের।
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছেন নাবিব নেওয়াজ জীবনের।ছবি: প্রথম আলো

‘আর ভালো ভাই!’

‘ভালো আছেন?’ এই প্রশ্নে নাবিব নেওয়াজের জবাবের মধ্যেই জানা গেল সময়টা কেমন যাচ্ছে তাঁর। কলকাতায় ডান পায়ের হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়ে গত ২৬ এপ্রিল বেনাপোল স্থলসীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার। সেদিন থেকেই বেনাপোলের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে আছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একে তো অস্ত্রোপচার করা পায়ের যন্ত্রণা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বদ্ধ ঘরে সারাদিন একা থাকার কষ্ট। বেনাপোল থেকে নাবিব ফোনে বলেন, ‘যেভাবে বন্দী আছি, আর বইলেন না! আটকে আছি তো আছিই। একটা রুমের মধ্যে জীবনে কখনো এভাবে আটকে থাকিনি। সময় কাটানোই কষ্ট। ঘুমাই, মোবাইল চাপি। কিন্তু কতক্ষণ মোবাইল চাপা যায়!’

default-image

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জর্জরিত ভারত। দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই তিন লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মারা যাচ্ছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। তাই ভারত ভ্রমণ করে দেশে ফেরার পর দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম করেছে সরকার। তাই অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাওয়া ও দেশে ফেরার আগে ২৫ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও সেটি মানতে হচ্ছে নাবিবকে। কিন্তু কীভাবে যে ১৪ দিন অতিবাহিত হবে, এই নিয়েই চিন্তিত নাবিব, ‘খাবার রুমে দিয়ে যায়। জেলখানার মতো আছি আরকি। আসামির যে রকম ১৪ দিন বা এক মাস জেল হয়, তেমন আর কি! কীভাবে যে ১৪ দিন থাকব, বুঝতে পারছি না।’

অস্ত্রোপচারের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক পুনর্বাসন। যে জন্য প্রয়োজন ফিজিওর সহযোগিতা। হোটেল রুমে কাজটি করতে না পারায় হতাশাটা আরও বেশি নাবিবের, ‘ঢাকায় ফিরে ফিজিওর সঙ্গে ব্যায়াম শুরু করে পুনর্বাসন শুরু করার কথা ছিল। যে জন্য তাড়াহুড়া করে দেশে এলাম। দুই দিন আগে সেলাই খোলার কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। যার জন্য ভালোভাবে ব্যায়ামও করা যাচ্ছে না। একা সব ব্যায়াম করাও যায় না। পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটা ভালো হলো না।’

default-image

তবে হতাশার মধ্যেও একটা বিষয়ে খুশি নাবিব। তাঁর ক্লাব আবাহনী লিমিটেড সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন বলে জানালেন তিনি, ‘এটা ভালো লাগছে যে নাবিল ভাই ( আবাহনী ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ) ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। হোটেলে ফোন দিয়ে বলে দিয়েছেন আমার কথা। ক্লাব থেকে পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছি খারাপ এই সময়ে।’

বিজ্ঞাপন

চলতি প্রিমিয়ার লিগে কেবল আবাহনীর হয়ে প্রথম ম্যাচটিই খেলতে পেরেছিলেন নাবিব। এরপর ১৭ জানুয়ারি আবাহনী ক্লাবের মাঠে অনুশীলনে পায়ে চোট পান তিনি।

মন্তব্য করুন