বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার বিতর্কিত ভূমিকায় দারুণ রোমাঞ্চ ছড়ানো দ্বৈরথটা হতে পারেনি। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে দুই দল ঘোষিত হওয়ার সময়ই জানা ছিল, যে চার আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে নিয়ে আনভিসার আপত্তি, সেই এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), জিওভান্নি লো সেলসো (টটেনহাম) ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (টটেনহাম) আর্জেন্টিনা দলে আছেন। ব্রাজিলে যাওয়ার আগে তাঁরা ভেনেজুয়েলায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আরেক ম্যাচ খেলবেন, সে-ও জানা ছিল।

ব্যাপারটা তাই একদমই মাথায় ঢুকছে না মার্তিনেজের, ‘ওদিন কী হলো, আমাদের মাথায় ঢোকেনি। এমন কিছু ফুটবলে কখনো দেখা যায়নি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের জন্য এটা একটা লজ্জার বিষয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এত বড় একটা ম্যাচ এভাবে স্থগিত হয়ে গেল, কেন গেল, সেসব কারণ কখনোই মাথায় ঢুকবে না।’

default-image

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে সর্বশেষ ২৯ আগস্ট মার্তিনেজরা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, সেটাও সবাই জানে। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডে লিগের ম্যাচ খেলে ভেনেজুয়েলা হয়ে ব্রাজিলে ফিরলেও তত দিনে ১৪ দিন পার হবে না, জানা ছিল। কিন্তু তখন কিছুই বলেনি আনভিসা। সবকিছু ধোঁয়াশাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে মার্তিনেজের কাছে। গোটা ব্যাপারের পেছনে রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছেন তিনি, ‘আমরা সে দেশে গিয়ে তিন দিন অনুশীলন করলাম। এরপর ম্যাচ শুরু হওয়ার পর সে ম্যাচ স্থগিত করা হলো। খুবই তিক্ত একটা অভিজ্ঞতা এটা। ম্যাচ জেতার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম। এখন রাজনৈতিক কারণে ম্যাচটা স্থগিত করা হলো, আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।’

সে সময় কী মনে হচ্ছিল মার্তিনেজদের? সে ব্যাপারেও আলোকপাত করেছেন অ্যাস্টন ভিলার এই গোলকিপার, ‘আমরা ৩০ মিনিট ধরে ড্রেসিংরুমে ছিলাম, ভাবছিলাম আবারও বের হওয়া যায় কি না। তারপর এসে ওরা আমাদের বলল, আমাদের চলে যেতে হবে। সবকিছুই খুব অনিশ্চিত ছিল। সভাপতি চিকি তাপিয়া সাহায্য করেছেন আমাদের, সমর্থন দিয়েছেন। আমি তাঁকে ও আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাই।’

default-image

মার্তিনেজের আফসোস হচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত দ্বৈরথটা হতে পারল না, ‘ব্রাজিলের নিয়ম আমার মাথায় ঢোকেনি। গোটা বিশ্ব দেখেছে আমাদের সঙ্গে কী হয়েছে। ম্যাচটা সবাই উপভোগ করতে পারত।’

অথচ এই জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য কত কাঠখড়ই না পুড়িয়েছেন মার্তিনেজরা! প্রিমিয়ার লিগ আর্জেন্টিনায় যাওয়ার অনুমতি দেয়নি তাঁদের, দেশের টানে তাও শত বাধা উপেক্ষা করে ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন তাঁরা। শেষমেশ অভিজ্ঞতাটা তিক্তই হলো, ‘জাতীয় দলের জন্য আমরা চারজন ইংল্যান্ড থেকে আর্জেন্টিনায় এসেছিলাম। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো চায়নি আমরা যেন আসি, আমরা তাও এসেছি দেশের টানে। কোপা জেতার পর আমরা চেয়েছিলাম আবারও দলের সঙ্গে খেলতে। এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন