বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ আলোচনার জন্য ভিত্তি হিসেবে ২০১৯-২০ মৌসুমের হিসাব বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, সর্বশেষ সে মৌসুমের তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে। ইংল্যান্ডে সে মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বেতন দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার দল সে মৌসুমে বেতন হিসেবে ৩৫ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন দিয়েছে সেবারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। লিভারপুলের ৩২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের পরই আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২৮ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড)। চার ও পাঁচে আছে চেলসি (২৮ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড) ও আর্সেনাল (২২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড)।

স্পেনে দাপটটা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। ৩৮ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড বেতন দিয়ে শীর্ষে ছিল বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদ এ খাতে খরচ করেছে ৩৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। তিনে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ অনেক পিছিয়ে ছিল। তবে চারে থাকা সেভিয়ার (১০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড) চেয়েও ৯ কোটি পাউন্ড বেশি খরচ করেছে আতলেতিকো।

জার্মানিতে যেমন দাপটটা শুধুই বায়ার্ন মিউনিখের। বুন্দেসলিগা শিরোপা নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা দলটির সে বছর বেতন বাবদ খরচ ছিল ২৯ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। দুইয়ে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খরচ ১৮ কোটি ৯০ লাখ! লাইপজিগের ব্যয় ছিল ১২ কোটি ৯০ লাখ। কাছাকাছি খরচ ছিল বেয়ার লেভারকুসেনের (১২ কোটি ৩০ লাখ)।

default-image

ইতালিতে গতবার সিরি ‘আ’ জিতেছে ইন্টার মিলান। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত ৯ বছর দাপট দেখিয়েছে জুভেন্টাস। বেতনের খরচের দিকে তাকালেই কারণটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জুভেন্টাসের বেতন বাবদ খরচ ছিল ২৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। ওদিকে ইন্টার মিলানের ব্যয় ছিল ১৭ কোটি ৪০ লাখ। এসি মিলানের খরচ ছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। চার ও পাঁচে থাকা রোমা (১৩ কোটি ৬০ লাখ) ও নাপোলির ব্যবধান (১২ কোটি ৩০ লাখ) বেশ বড়। তবে ছয়ে থাকা আতালান্তার বেতন বাবদ খরচ চমকে দেওয়ার মতো। মাত্র ৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড।

ফ্রান্সে অবশ্য এমন দৃশ্য একদম স্পষ্ট। লিগের ২৯ শতাংশ বেতনই পিএসজির! ৩৬ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বেতন দেয় পিএসজি। দুইয়ে থাকা লিওঁর খরচ ১১ কোটি ৬০ লাখ! আর মাত্র দুটি ক্লাব ১০ কোটির ওপরে আছে, মোনাকো (১০ কোটি ৬০ লাখ) ও মার্শেই (১০ কোটি ৪০ লাখ)। এই লিগের ১২টি ক্লাবের বেতন বাবদ খরচ ৫ কোটি পাউন্ডের নিচে!

শীর্ষ পাঁচ লিগে বেতনের দিক থেকে ইংলিশ ক্লাবগুলোরই দাপট। শীর্ষ চারের মধ্যে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি ও পিএসজি থাকলেও শীর্ষ ২০-এ দাপট ইংল্যান্ডেরই। ইংল্যান্ডের বাইরে বাকি সব লিগেই একটি বা দুটি দলের দাপট। অন্য ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে ধুঁকছে। ওদিকে প্রিমিয়ার লিগেই সবচেয়ে ভালো আর্থিক সামঞ্জস্য দেখা যায়। প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে নিচে থাকা দলটির চেয়ে মাত্র ৪.৫ গুণ খরচ করে শীর্ষে থাকা সিটি। ওদিকে লিগ ‘আঁ’তে পিএসজির সঙ্গে সবচেয়ে নিচের দলের ব্যবধান ২২ গুণ! লা লিগাতে সেটা ১৭ গুণ।

default-image

শীর্ষ দল ও দ্বিতীয় শীর্ষ দলের বেতনের পার্থক্যের দিকে চিন্তা করলে, প্রিমিয়ার লিগে ব্যবধান ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড ছিল। লা লিগায় ৫ কোটি ৭০ লাখ, সিরি ‘আ’তে ৭ কোটি ৬০ লাখ, বুন্দেসলিগায় ১০ কোটি ৯০ লাখ। আর ফ্রেঞ্চ লিগে পিএসজি ও লিওঁর ব্যবধান ২৪ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড! মনে রাখা ভালো, এবার মেসি, রামোস, দোন্নারুম্মা, ভাইনালডম, হাকিমিদের সুবাদে আরও ৯ কোটি পাউন্ডের মতো বেতন বৃদ্ধি পাবে পিএসজির।

ওদিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলের মধ্যে বেতনের পার্থক্য ফ্রেঞ্চ লিগেই কম, এক কোটি। আর লা লিগায় সেটি ছিল ১৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। সব লিগেই শীর্ষ দলগুলো আর নিচের দিকের দলগুলোর মধ্যে অনেক পার্থক্য। তৃতীয় ও সর্বশেষ দলের মধ্যে লিগ আঁতে এই পার্থক্য ৯ কোটি পাউন্ড। প্রিমিয়ার লিগে সেটা ২০ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। যদিও অনুপাতে সেটা বেশ কম (৩.৬ গুণ)।

বেতনের দিকে তাকালেই প্রিমিয়ার লিগের দাপট টের পাওয়া যায়। সেখানে গড়ে প্রতিটি ক্লাব ১৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড বেতনে ব্যয় করে। দুইয়ে থাকা লা লিগার চেয়ে ৭ কোটি ২০ লাখ বেশি! সিরি ‘আ’তে গড় বেতন ৮ কোটি ৮০ পাউন্ড। বুন্দেসলিগা ও লিগ আঁ বেশ পিছিয়ে (যথাক্রমে ৭ কোটি ২০ লাখ ও ৬ কোটি ২০ লাখ)।

default-image

বেতনের দিক থেকে শীর্ষ ২০ দলের ৯টিই প্রিমিয়ার লিগের। শীর্ষে আছে বার্সেলোনা, এরপর পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল। শীর্ষ ৪০ ক্লাবের মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১৯টি দল ঠাঁই করে নিয়েছে। তার মানে বেতনের দিকে ইউরোপের শীর্ষ ৪০ ক্লাবের অর্ধেকই ইংলিশ ক্লাব। শীর্ষ ৪০-এ লিগ আঁর আছে মাত্র ৪টি ক্লাব। লা লিগা ও সিরি ‘আ’র আছে পাঁচটি ক্লাব। বুন্দেসলিগার আছে সাতটি।

default-image

বর্তমানে অবনমিত শেফিল্ড ইউনাইটেডই একমাত্র দল, যারা শীর্ষ ৪০-এ ছিল না। তবু ৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বেতন দেওয়া শেফিল্ড ভিয়ারিয়ালের চেয়ে এগিয়ে ছিল, যে ভিয়ারিয়াল বর্তমান ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলবে এবার। আতালান্তাও শেফিল্ডের চেয়ে পিছিয়ে ছিল, যারা ২০১৯-২০ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। বেতনে শেফিল্ডের চেয়ে মাত্র ১০ লাখ পাউন্ড বেশি ব্যয় করা লিল গতবার পিএসজিকে টপকে লিগ আঁ জিতে নিয়েছে। বেতনের দিক থেকে ইংল্যান্ডে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা শেফিল্ড ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ক্লাবে বেতনের দিক থেকে ৪৩তম ছিল।

এর বাইরে ৬১ থেকে ৮০–এর মধ্যে নজর দিলে আবার বেশ সাম্যতা দেখা গেছে। এখানে ২০টি স্থান বাকি চার লিগের—স্পেন (৬), ইতালি (৫), জার্মানি (৫) ও ফ্রান্স (৪)। বেতনের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ১৮টি দলের ৯টিই খেলে ফ্রান্সে। যদিও সবচেয়ে কম বেতন ছিল জার্মানির প্যাডারবর্নের—১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। এর ওপরে আছে ফ্রান্সের দিজঁ ও ব্রেস্ত (১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো)। ইতালি ও স্পেনে সবচেয়ে নিচে ছিল যথাক্রমে ব্রেসিয়া (১ কোটি ৯০ লাখ) ও মায়োর্কা (২ কোটি ২০ লাখ)। দুই দলই অবনমিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

ফুটবলে অর্থই সবকিছু নয়। শুধু অর্থ দিয়ে যে ফুটবলে সাফল্য পাওয়া যায় না, সেটি চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যান সিটি ও পিএসজির বারবার হতাশ হওয়াতেই প্রমাণ মেলে। কিন্তু অর্থের শক্তিতে চাইলে যে ফুটবলের রূপ বদলে দেওয়া যায়, সেটাও কিন্তু প্রমাণ করে দিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও পিএসজি। গত কিছুদিনে সেটা বারবার নতুনভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে এ দলগুলো। বেতনের বৈষম্যের এই চিত্র সেটা কাগজে-কলমে দেখিয়ে দিচ্ছে, এই যা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন