বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গত মৌসুমে ইউনাইটেডের পেনাল্টি–ভাগ্য নিয়ে বেশ কথা উঠেছিল। মৌসুমের মাঝপথে হঠাৎ দেখা গেল, ১১ পেনাল্টি পেয়ে গেছে ইউনাইটেড। এ নিয়ে লিভারপুল কোচ একটু বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। ওদিকে ইউনাইটেডেরই সাবেক ও গত মৌসুমের একটা সময় পর্যন্ত টটেনহামের কোচের পদে থাকা জোসে মরিনিও এ নিয়ে আগেই খোঁচা দিয়েছিলেন। ২০২০–২১ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ব্রুনো ফার্নান্দেজ যে পেনাল্টি থেকে গোলের পর গোল করছেন, সেটা বলে ইউনাইটেডের পেনাল্টি–ভাগ্যের কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মরিনিও।

এর পর থেকেই সুলশার ও তাঁর দলের পেনাল্টি–ভাগ্য যেন ফুরিয়ে গেছে। গত মৌসুমে যেসব ফাউলে অনায়াসে নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত পেয়েছিল ইউনাইটেড, সেগুলো আর পক্ষে পাচ্ছে না। ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে এক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই তিনবার পেনাল্টির আবেদন করেছেন, কিন্তু একটিতেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি।

default-image

এরপর আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ইয়ুর্গেন ক্লপকে ইঙ্গিত করে সুলশার বলেছেন, ‘আমাদের শুধু আশা করতে হবে, যা প্রাপ্য সেটা যেন আমরা পাই। গত দুই ম্যাচে তিনটা পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল আমাদের। গত বছর একজন ম্যানেজার আমাদের পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করা শুরু করেছিলেন। এবং এরপর থেকেই মনে হচ্ছে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত পাওয়া খুব কঠিন হয়ে উঠছে। কোনো সন্দেহ নেই, আমি এরপর অনেক পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি। আমাদের এটা রেফারিদের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে এবং আশা করি দ্রুত তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া শুরু করবেন।’

এই জানুয়ারিতে ইউনাইটেডের পেনাল্টি–ভাগ্য নিয়ে কথা বলেছিলেন ক্লপ। ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘আমি শুনলাম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাকি আড়াই বছরে যত পেনাল্টি পেয়েছে, আমি সাড়ে পাঁচ বছরেও ততগুলো পাইনি। আমি জানি না, এটা আমার দোষে, নাকি অন্য কোনো উপায়ে হয়েছে। তবে এটা কোনো অজুহাত নয়। এটা বদলাতে পারব না, আমাদের এসব সিদ্ধান্ত সম্মান করতে হবে।’

default-image

গত জানুয়ারিতে হঠাৎ হিসাব কষে দেখা গেছে, গত আড়াই বছরে ৩২টি পেনাল্টি পেয়েছে ইউনাইটেড। আর সেখানে ক্লপের অধীনে লিভারপুল সাড়ে ৫ বছরে পেয়েছে মাত্র ৩০টি। এ দিকটার কথাই সবার সামনে তুলে ধরেছেন ক্লপ। ২০১৮–১৯ মৌসুমের মাঝপথে সুলশার দায়িত্ব পাওয়ার পর আধা মৌসুমে ৯টি পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। ২০১৯–২০ মৌসুমে পেনাল্টি পেয়েছিল ২২টি, এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগেই ১৪টি। গত মৌসুমে জানুয়ারির মধ্যেই ১১টি পেনাল্টি পাওয়া দলটি পরে আর মাত্র ৪টি পেনাল্টি পেয়েছিল।

এই মৌসুমে অবশ্য প্রিমিয়ার লিগে পেনাল্টি দেওয়ার মানদণ্ডও বদলে গেছে। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ মৌসুমের শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছে, পেনাল্টির ক্ষেত্রে রেফারিরা তিনটি ভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখবেন—ডিফেন্ডারের সঙ্গে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের সংঘর্ষের কোণ, সংঘর্ষের ফলে কী হচ্ছে এবং সংঘর্ষের ক্ষেত্রে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য কী ছিল।

এর মধ্যেই এবার এখন পর্যন্ত কোনো পেনাল্টি না পাওয়ার ক্ষোভটা আজ প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন সুলশার। দেখা যাক, এভাবে ‘অভিমানের’ কথা বলে পেনাল্টি আদায় করতে পারেন কি না ইউনাইটেড কোচ!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন