এর আগে বিশেষজ্ঞদের বোর্ড ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে নেমে তাঁর প্রতি অবহেলার নজির খুঁজে পান। পর্যাপ্ত সেবা তাঁকে দেওয়া হয়নি এবং ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য’ তাঁকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, এমন নজির খুঁজে পায় বিশেষজ্ঞ বোর্ড। এরপর সাতজনকে তদন্তের আওতায় আনা হয়। গিজেলা মাদ্রিদ তাঁদের একজন।

রডোলফো বাকুর দাবি, মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা ম্যারাডোনার দেখাশোনা করছিলেন, তাঁর মক্কেল গিজেলা মাদ্রিদ নন। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে এই সেবিকাকেও দোষারোপ করা হয়েছে। এই আইনজীবি বলেন, ম্যারাডোনার হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসা করা হচ্ছিল।

একই সময়ে তিনি মনোরোগের ওষুধও খাচ্ছিলেন, যে কারণে তাঁর হৃদন্ত্রের গতি বেড়ে যায়। ম্যারাডোনা নাকি হাসপাতালে একবার পড়েও গিয়েছিলেন। তখন সেবিকা গিজেলা মাদ্রিদ তাঁকে স্ক্যান করানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ম্যারাডোনা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সংবাদমাধ্যম জানলে বিষয়টি ভালো দেখাবে না।

প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গিজেলা মাদ্রিদকে। এই জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমকে বাকু বলেন, ‘ম্যারাডোনার ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার অনেক সতর্কবার্তা ছিল। চিকিৎসকেরা প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা করেননি।’

দিনের বেলায় ম্যারাডোনার দেখাশোনা করতেন গিজেলা মাদ্রিদ এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে জীবিত অবস্থায় দেখা শেষ ব্যক্তিদের একজন তিনি।

ম্যারাডোনার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন নিউরোসার্জন লিওপোল্ড লুকু। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন তাঁর দুই মেয়ে।

মামলাটি আদালতে ওঠার পর ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিলে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে ৮ থেকে ২৫ বছরের সাজা হতে পারে।
ম্যারাডোনাকে মৃত দেখা ব্যক্তিদেরও একজন গিজেলা মাদ্রিদ।

এর আগে সাক্ষ্য দিতে দিয়ে তিনি জানান, ম্যারাডোনাকে মৃত অবস্থায় দেখার পর তিনি তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। ম্যারাডোনার রাতের সেবিকা রিকার্ডো আলমিরনকেও এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মৃত্যুর আগে ভয়াবহ মাদকাসক্তিতে ভুগেছেন বার্সেলোনা, বোকা জুনিয়র্স, নাপোলি ও আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্ব মাতানো ম্যারাডোনা।