ম্যারাডোনাকে এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন মেসি।
ম্যারাডোনাকে এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন মেসি। ছবি: রয়টার্স

মুহূর্তটা এখনো সবার চোখে লেগে আছে। গতকাল ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি এসেছে লিওনেল মেসির পা থেকে। কাগজে-কলমে লেখা থাকবে গোলে সহায়তা ছিল ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাওর। কিন্তু সেটা শুধু মেসিকে পাসটা দিয়েছিলেন বলে। গোলটা বানিয়ে নেওয়া আর গোল করা—পুরোটাই মেসির কল্যাণে।

ওসাসুনা বক্সের বাইরে বল পেয়ে একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটানো শুরু করলেন। কাটানো শেষে বক্সের একদম কাছে এসেই নিলেন শট। বল গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে আশ্রয় নিল একদম কোনায়। সে গোল করেই ছুট মেসির। প্রথমেই বার্সেলোনার জার্সিটা খুলে নিলেন। সে জার্সির নিচেই ছিল নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবের জার্সি।

নিজের শৈশবের ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সিটা গায়ে চাপিয়ে ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানালেন মেসি। জার্সি খোলায় নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল তাঁকে। এবার জানা যাচ্ছে, এভাবে অন্য একটি জার্সি দেখানোয় অর্থদণ্ডও দিতে হবে বার্সেলোনাকে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপ অধ্যায় শেষ করে প্রিয় বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে অবসর নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তবে তাঁর আর্জেন্টিনায় প্রত্যাবর্তন হয়েছিল নিওয়েলস ক্লাবের জার্সিতে। যে ক্লাবে বেড়ে উঠেছিলেন মেসি। নিওয়েলসে ম্যারাডোনার অভিষেক দেখতে সেদিন মাঠে গিয়েছিলেন ছয় বছরের মেসিও। সে ম্যাচে একটা গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। গোলটি কেমন ছিল? গতকাল মেসির গোলটা একটু মনে করে দেখুন।

এবার সে জায়গায় শুধু মেসির স্থলে ম্যারাডোনাকে বসিয়ে নিলেই হয়ে যাবে। একই ভঙ্গিতে ছুটে প্রায় গোলবারের একই জায়গায় বল পাঠিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।

default-image

অর্ঘ্য দিতে শুধু ম্যারাডোনার ১০ নম্বর জার্সি পরেননি, গোলটিও প্রায় অনুকরণ করে নিয়েছিলেন মেসি। অদৃষ্টে লেখা না থাকলে এভাবে অর্ঘ্য দেওয়া কঠিন। কিন্তু ঝামেলা পাকাচ্ছে স্প্যানিশ ফুটবলের আইন। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মের ৯১ নম্বর আর্টিকেলে লেখা আছে, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় গোল করার পর বা অন্য কোনো কারণে জার্সি উঁচিয়ে ধরে এবং যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন, স্লোগান, বার্তা, কোনো সংকেত, অ্যানাগ্রাম বা ছবি দেখান, তবে যে কারণেই কাজটা করা হোক না কেন, তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে। অপরাধী হিসেবে সতর্ক করা হবে এবং তিন হাজার ইউরো জরিমানা করা হবে।’

মেসির অবশ্য মাত্র তিন হাজার ইউরো জরিমানা দিতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। নিজের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে, সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা উপায়ে নিজের আইডলকে সম্মান জানাতে পেরেছেন—হাসতে হাসতেই জরিমানা দেওয়ার কথা মেসির।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন