বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল ‘এল ট্রেস’ তাদের অনুষ্ঠানে নেলসন কাস্ত্রোর বই থেকে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে, ‘নেলসন কাস্ত্রো তাঁর বইয়ে ডিয়েগোর স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর অনুসন্ধান করেছেন। লেখক বেশ কিছু গোপন নথি দেখেছেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা এখনো মুখ খোলেননি। এ ছাড়া অপ্রকাশিত কিছু তথ্যও তিনি ব্যবহার করেছেন। নিয়মানুযায়ী খাওয়াদাওয়া থেকে প্রাত্যহিক রুটিনে তাঁর (ম্যারাডোনা) সমস্যা ছিল। প্রায় সবকিছুতেই তাঁর আসক্তি ছিল। বিছানা ছাড়তেন না বেশির ভাগ সময়।’

গত বছরের ২৫ নভেম্বর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। মৃত্যুর কারণ নিয়েও অনেক বিতর্ক হয়েছে। কেউ বলেছেন ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু ঘটেছে ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তির। অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টা যন্ত্রণার পর ম্যারাডোনার মৃত্যুর কথাও বলেন অনেকে। চিকিৎসা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে গিয়েছিল। নেলসন কাস্ত্রো তাঁর বইয়ে এ নিয়ে লিখেছেন, ‘অন্য কেউ হলে বহু আগেই মারা যেত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এমন সবকিছুর প্রতি ম্যারাডোনার আসক্তি ছিল। ম্যারাডোনা সবকিছুর প্রতি আসক্ত ছিলেন।’

default-image

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব মির্থা লেগরান্দ ‘এল ট্রেস’ চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করেন—‘হ্যাভিং লাঞ্চ উইথ মির্থা লেগরান্দ’। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবেও খ্যাতি কুড়োনো লেগরান্দের এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন নেলসন কাস্ত্রো। সেখানে তিনি বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিচারে ম্যারাডোনা আশীর্বাদপুষ্ট শরীর পেয়েছিলেন। তাঁর হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক বলেছিলেন, অন্য কেউ হলে আগেই মারা যেত। সমস্যা হলো, তিনি কখনোই টেকসই চিকিৎসার ধার ধারেননি।’

আর্জেন্টিনায় কানাঘুষা আছে, ম্যারাডোনাকে হৃৎপিণ্ড ছাড়াই সমাহিত করা হয়েছে। মানে তাঁকে সমাধিস্থ করার আগে হৃৎপিণ্ড বের করে নেওয়া হয়েছে।

নেলসন কাস্ত্রোর কাছে অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে জানতে চান মির্থা লেদরান্দের নাতনি, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা হুয়ানা ভিয়ালে। কাস্ত্রো ব্যাখ্যা করেন, ‘জিমনাসিয়ার উগ্র কিছু সমর্থক গোপনে (ম্যারাডোনার) হৃৎপিণ্ড বের করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। কাজটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এমন কিছু হতে পারে, তা আগেই টের পেয়ে যায় সবাই আর পরীক্ষার জন্য তার হৃৎপিণ্ডও বের করে নেওয়া হয়। কারণ, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে হৃৎপিণ্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অবশ্যই যে তথ্যটা পাওয়া গেছে, তা হলো ম্যারাডোনাকে হৃৎপিণ্ড ছাড়াই সমাহিত করা হয়েছে।’

default-image

হুয়ানা ভিয়ালের সঙ্গে কথোপকথনে কাস্ত্রো আরও জানান, ‘ম্যারাডোনার হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় আধা কেজি হয়েছিল। অনেক বড় হৃৎপিণ্ড। একজন অ্যাথলেটের হৃৎপিণ্ড হলেও তা সাধারণত ৩০০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। কিন্তু তার হৃৎপিণ্ড অন্য কোনো কারণে বেড়ে গিয়েছিল। শুধু অ্যাথলেট ছিলেন বলেই নয়, হার্ট অ্যাটাক হওয়াতেও ওজন বেড়ে গিয়েছিল।’

কিংবদন্তি মরেছেন প্রায় এক বছর হতে চলল। এসব বিতর্ক থামবে কবে? ভক্তরা কবে এসব নিয়ে সঠিক তথ্য পাবেন!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন