মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার দেখভাল ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা নিয়ে যেন চলছে আলো-আঁধারির খেলা।
মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার দেখভাল ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা নিয়ে যেন চলছে আলো-আঁধারির খেলা। ছবি: এএফপি

শোকের মধ্যে এসব কী কথা! ডিয়েগো ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নাকি অবহেলা ছিল! ম্যারাডোনার আইনজীবী এ অভিযোগ করেছিলেন। ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটি নিয়ে তদন্তও করছেন এক কৌঁসুলি। তারপর থেকেই এ নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত সব খবর মিলছে। একবার এক কথা শোনা যায়, তো কয়েক ঘণ্টা পর অন্য কথা। এমনকি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে সর্বশেষ কখন জীবিত অবস্থায় দেখা গেছে, সেটি নিয়েও পাওয়া যাচ্ছে উল্টোপাল্টা তথ্য।

নতুন করে উল্টোপাল্টা খবর আসছে ম্যারাডোনায় সেবায় নিযুক্ত নার্সদের একজন দাহিয়ানা জিসেলা মাদ্রিদের কাছ থেকে। এর আগে জানা গিয়েছিল, যেদিন ম্যারাডোনা মারা গিয়েছিলেন, সেদিন অর্থাৎ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় ম্যারাডোনার রুমে ঢুকে তাঁকে ঘুম পাড়িয়েছিলেন দাহিয়ানা। ওই নার্স নিজেই বিবৃতিতে সেটা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দ্বিতীয়বারের বিবৃতিতে কথা ঘুরে গেছে। এখন দাহিয়ানা বলছেন, তিনি বুধবার দুপুরে ম্যারাডোনার ওষুধ খাওয়ার সময়েই প্রথম ম্যারাডোনার কক্ষে ঢুকেছেন! তাঁকে প্রথম দফায় মিথ্যা বিবৃতি দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলেও জানান দাহিয়ানা।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্যলোকে চলে যান ম্যারাডোনা। সেদিন জানা গিয়েছিল, আগের দিন মঙ্গলবার রাত ১১টায় তাঁর আত্মীয় জনি এরেরা তাঁকে সর্বশেষ জীবিত দেখেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর নার্সদের একজন রিকার্দো জানান, তিনি বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টায় সর্বশেষ ম্যারাডোনাকে জীবিত দেখেছিলেন। বুয়েনস এইরেসের বেসরকারি ওই ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টাই ম্যারাডোনার দেখভালের ব্যবস্থা ছিল, এর মধ্যে সাড়ে ছয়টায় রিকার্দোর দায়িত্বের পালা শেষ হয়। কৌঁসুলির প্রশ্নের জবাবে রিকার্দো তখন বলেছিলেন, তিনি ম্যারাডোনাকে ‘বিছানায় ঘুমাতে দেখেছেন’, তখনো ম্যারাডোনা ‘ঘুমাচ্ছিলেন, স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিচ্ছিলেন।’

কিন্তু এরপরে ‘ম্যারাডোনাকে কে সর্বশেষ জীবিত দেখেছে’ নাটকে আবার চমক। দাহিয়ানা তখন দাবি করেন, সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঘরের বাইরে থেকে ম্যারাডোনাকে ঘরের ভেতরে পায়চারি করতে শুনেছেন। ম্যারাডোনা তখন প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করতে বাথরুমে গেছেন, আওয়াজ শুনে সেটিও বুঝতে পেরেছেন বলে জানিয়েছিলে দাহিয়ানা। সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ম্যারাডোনাকে ঘুম পাড়িয়ে এসেছেন বলেও জানান। সে সময় দাহিয়ানা ম্যারাডোনার রক্তচাপ, পালসসহ শরীরের স্বাভাবিকতার পরিমাপক বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করতে গেলে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

default-image

এখন আর্জেন্টাইন দৈনিক টিওয়াইসি স্পোর্ত জানাচ্ছে, দ্বিতীয় দফায় কৌঁসুলির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রথমবারে বলা কথাগুলোই আবার বলেছেন দাহিয়ানা। কিন্তু এবার একটা বড় পার্থক্য থেকে গেছে তাঁর কথায়। সেটি এই, বুধবার সকালে তিনি ম্যারাডোনার কক্ষে ঢোকেনইনি বলে জানিয়েছেন দাহিয়ানা। দুপুরবেলায় ম্যারাডোনার ওষুধ খাওয়ার সময়ের আগে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির কক্ষে ঢোকেনইনি বলে জানাচ্ছেন!

তাহলে প্রথমবারে মিথ্যা বলেছেন কেন দাহিয়ানা? তাঁকে বলতে বাধ্য করা হয়েছিল! যেখানে দাহিয়ানা কাজ করেন, সেই মেডিডম নামের কোম্পানি ছিল ম্যারাডোনার দেখভালের দায়িত্বে। সাধারণত হাসপাতালে বা ঘরে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন এমন লোকদের জন্য নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সরবরাহ করে অর্থ আয় করে মেডিডম। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী দায়িত্বে অবহেলা করেননি, সেই ধারণা ছড়িয়ে দিতেই দাহিয়ানাকে দিয়ে প্রথমবারে এমন বিবৃতি দিতে বাধ্য করেছিল মেডিডম। তা-ও আবার যেখানে রোগী ছিলেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তম সন্তান!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন